ঢাকা: ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগের অভিযোগে বাংলাদেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে যথেচ্ছ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে মার্কিন মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। মঙ্গলবার রাতে প্রকাশিত রিপোর্টে সংস্থা জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ মতামতের কারণে বা যথাযথ প্রক্রিয়া না মেনে কাউকে শাস্তি দেওয়া মতপ্রকাশ ও সংগঠনের স্বাধীনতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃত অধিকারের লঙ্ঘন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে মতপ্রকাশ নিয়ন্ত্রণে পূর্বতন সরকারগুলির দমনমূলক আচরণেরই পুনরাবৃত্তি হবে বলে সতর্ক করেছে তারা।

রিপোর্টে কী আছে

এইচআরডব্লিউ জানিয়েছে, শিক্ষকদের বিরুদ্ধে চাকরিচ্যুতি, সাসপেনশন ও পাঠদানে নিষেধাজ্ঞার মতো পদক্ষেপ করা হয়েছে। অভিযোগের তালিকায় রয়েছে ২০২৪-এর ছাত্র আন্দোলন দমনে হাসিনা সরকারকে সহায়তা, আওয়ামী লীগের হয়ে "নাশকতামূলক" কাজ এবং ইসলামি পোশাক পরা পড়ুয়াদের প্রতি বৈষম্য। আওয়ামী লীগের সদস্য বা সমর্থক সন্দেহে শয়ে শয়ে পড়ুয়াকে বহিষ্কারের ফলে তাঁরা শিক্ষার অধিকার থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন বলে দাবি। রিপোর্টের জন্য এক ডজনের বেশি শিক্ষকের সাক্ষাৎকার নিয়েছে সংস্থা, পাশাপাশি পর্যালোচনা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের চিঠিপত্র, একটি টিভি আলোচনা ও একটি সমাজমাধ্যম-ভিডিও। গত অগস্টের সংবাদ অনুযায়ী, আওয়ামী-ঘনিষ্ঠ একটি টেলিগ্রাম গ্রুপের সদস্য হওয়ার সূত্রে ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৪০৪ জন শিক্ষক তদন্তের আওতায় এসেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক অভিযোগ

  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: ২০২৪-এর সেপ্টেম্বর থেকে স্বচ্ছ তদন্ত ছাড়াই ৪৪ জন শিক্ষককে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকতে বলা হয়, আরও ২৫ জনের পাঠদানে বিধিনিষেধ আসে। পরে তদন্ত কমিটির রিপোর্টে ছ'জন সাময়িকভাবে বরখাস্ত হন, আরও ১৪ জনের বিরুদ্ধে একই ধরনের তদন্ত চলছে। ২০২৫-এর মার্চে ১২৬ জন পড়ুয়াকে সাময়িক বহিষ্কার করে তাঁদের পরীক্ষার সনদ প্রত্যাহার করা হয়। আরও ২৭৭ জন পড়ুয়ার নাম পুলিশি মামলায় রয়েছে, গ্রেপ্তারের ভয়ে তাঁরা ক্যাম্পাসে যাচ্ছেন না।

  • বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ: তদন্ত কমিশনের সুপারিশে ১২ জন শিক্ষক চাকরিচ্যুত, সাসপেন্ড বা অপসারিত, আরও ৩৪ জনের পদাবনতি বা কাজের পরিধি সংকুচিত। এইচআরডব্লিউয়ের মতে বিশ্ববিদ্যালয় আইনের শৃঙ্খলাবিধি মানা হয়েছে বলে মনে হয় না।

  • শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা: ১২ জন সাসপেন্ড, ১০ জন শিক্ষাদান থেকে অপসারিত। শিক্ষকদের অভিযোগ, তদন্তে তাঁদের অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি।

আরও ৮৫ জন শিক্ষকের পদোন্নতি আটকে রাখা হয়েছে বলেও জানিয়েছে এইচআরডব্লিউ।

অধ্যাপক মশিউর রহমানের ঘটনা

শাস্তি পাওয়াদের একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক মশিউর রহমান, যিনি ২০১৭ থেকে প্রেষণে অন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন। অভিযোগ, ২০২৪-এর জুলাইয়ে টিভি আলোচনায় তিনি ছাত্র আন্দোলনের বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু এইচআরডব্লিউ সম্প্রচার দেখে তেমন বক্তব্যের প্রমাণ পায়নি। ৩ অগস্ট প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বৈঠকে "গণহত্যায় প্ররোচনা"-র যে অভিযোগ উঠেছে, সেই বৈঠক ডেকেছিল বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এবং সব উপাচার্যের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক ছিল। ৩১ অগস্ট কর্তৃপক্ষ তাঁকে স্থায়ী বরখাস্তের সুপারিশ করেছে, তিনি আপিল করছেন।

সংস্থার বক্তব্য

এইচআরডব্লিউয়ের এশিয়া বিভাগের উপ-অধিকর্তা মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, রাজনৈতিক বিতর্ককে ভয় পাওয়া স্বৈরশাসকদেরই সাজে, ছাত্র আন্দোলনের পথে গড়ে ওঠা সরকারের নয়। ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে অতীতের দমনপীড়নের পুনরাবৃত্তি চলতে পারে না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক অধ্যাপক জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত বা ২০২৪-এর আন্দোলনে সমর্থন না জানানো শিক্ষকদের মিথ্যা অভিযোগে নিশানা করা হচ্ছে।

ফিরে দেখা: ৫ অগস্টের পর "মব"-চাপে পদত্যাগের ঢেউ

২০২৪-এর ৫ অগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশজুড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-প্রধান ও শিক্ষকদের জোর করে পদত্যাগ করানোর ঘটনা ঘটতে থাকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে:

  • ৬ অগস্ট বাংলাদেশ পোস্টের খবর অনুযায়ী টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য-সহ ছ'জন শিক্ষক পড়ুয়াদের বিক্ষোভের জেরে পদত্যাগ করেন।

  • ঢাকা ট্রিবিউনের খবর, ২৪ ঘণ্টার চরমসীমা বেঁধে দেওয়ার পর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রক্টর-সহ ১৯ জন শিক্ষক ও কর্তা পদত্যাগ করেন।

  • ডেইলি স্টারের রিপোর্ট অনুযায়ী ১৯ অগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৫০ জন পড়ুয়া কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক আবদুল বাশিরের অপসারণ দাবি করেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, তিনি হাসিনা সরকারের অনুগত এবং ক্যাম্পাসে কোরআন তিলাওয়াত অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া পড়ুয়াদের শোকজ করেছিলেন। এক ঘণ্টা পরে তিনি পদত্যাগপত্রে সই করেন। একই দিন চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেনকেও পদত্যাগ করতে হয়।

  • ১৮ অগস্ট জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন-বিষয়ক উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষকে বিক্ষোভকারীরা ঘরে আটকে পদত্যাগ করান।

  • দৈনিক অবজার্ভারের সেপ্টেম্বরের রিপোর্ট অনুযায়ী প্রায় ৫০ জন উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল এবং তখনও কোনও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস শুরু হয়নি।

স্কুল-কলেজে:

  • ডেইলি স্টারের ৩১ অগস্ট ২০২৪-এর গণনায় ৫ অগস্টের পর অন্তত ১৫০ জন শিক্ষক পদত্যাগে বাধ্য হন, আসল সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলেও পত্রিকাটি জানায়। কাগজটির তথ্য অনুযায়ী এ ছাড়া কয়েকশো শিক্ষক পড়ুয়াদের দাবি মেনে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ান।

  • ১৮ অগস্ট আজিমপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজে প্রায় ৫০ জন পড়ুয়া অধ্যক্ষ গীতাঞ্জলি বড়ুয়া-সহ তিন শিক্ষককে পদত্যাগ করান।

  • প্রথম আলোর খবর অনুযায়ী ২০২৪-এর ১১ অগস্ট ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কেকা রায় চৌধুরী ও সহকারী অধ্যাপক ফারহানা খানম "মব"-এর মুখে পদত্যাগ করেন, বিষয়টি এখনও মীমাংসা হয়নি।

  • একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা সিটি কলেজের অধ্যক্ষ বেদারউদ্দিন আহমেদকেও পদত্যাগ করানো হয়। ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ২০২৫-এর মার্চের পরিদর্শন রিপোর্টে বলা হয়, সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী তাঁর পদত্যাগ বৈধ ছিল না। এখনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

সংখ্যালঘু শিক্ষক প্রসঙ্গ: দ্য উইকের রিপোর্ট অনুযায়ী ডেইলি স্টারকে এক সংখ্যালঘু সংগঠনের সমন্বয়ক জানিয়েছিলেন, ৪৯ জন সংখ্যালঘু শিক্ষককে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছিল, যাঁদের মধ্যে ১৯ জন পরে পদে ফিরেছেন। তবে ফ্যাক্ট-চেক সংস্থা ফ্যাক্টলি দেখিয়েছে, সমাজমাধ্যমে ছড়ানো বেশ কিছু ভিডিওকে হিন্দু অধ্যাপকদের জোর করে পদত্যাগের প্রমাণ বলে দাবি করা হলেও সেগুলি আদতে তেমন ঘটনা দেখায় না। উদাহরণ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন আবদুল বাশিরের ভিডিওর কথা বলা হয়েছে, যেখানে পদত্যাগের কারণ হিসেবে পড়ুয়াদের অভিযোগ ছিল তাঁর ভূমিকা নিয়ে, ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে নয়।

সমালোচনা: ডেইলি স্টারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান এই ঘটনাগুলিকে "অরাজকতা" বলে বর্ণনা করেন। তৎকালীন শিক্ষা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, অভিযোগ নথিভুক্ত হবে, কিন্তু জোর করে পদত্যাগ করানো গ্রহণযোগ্য নয়।

দু'বছর পরেও কী পরিস্থিতি

গত ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবসে প্রকাশিত প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী:

  • দু'বছরে সরকার বদলের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে উপাচার্য মোটামুটি দু'-তিনবার বদলেছেন। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর ৬১টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৪০টির বেশিতে অন্তর্বর্তী সরকারের নিয়োগ করা উপাচার্যদের সরিয়ে নতুনদের বসানো হয়েছে, যাঁদের প্রায় সবাই বিএনপিপন্থী শিক্ষক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।

  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: ৩০ সেপ্টেম্বর সিন্ডিকেট সভায় সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জিনাত হুদাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) জানিয়েছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে এই পদক্ষেপ। জিনাত হুদার দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে আনা ছ'টি অভিযোগের কোনওটিই প্রমাণিত হয়নি এবং শিক্ষক সমিতির নিয়ন্ত্রণ নিতেই তাঁকে সরানো হয়েছে। প্রশাসনের সূত্রের বরাতে প্রথম আলো জানিয়েছে, গত দু'বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তত ৩২ জন শিক্ষক নানা ব্যবস্থার মুখে পড়েছেন।

  • রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়: জুলাই অভ্যুত্থানের পর ৩৮ জন শিক্ষক ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা হয়েছে, ছ'জন আওয়ামী-ঘনিষ্ঠ ডিনকে পড়ুয়াদের বিক্ষোভের মুখে সরানো হয়েছে।

  • জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়: ১৯ জন আওয়ামী-ঘনিষ্ঠ শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তের পর ১০ জনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হয়েছে, কিন্তু পড়ুয়ারা সেই শাস্তি নিয়েও আপত্তি তুলেছেন।

  • আদালতে: ২২টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪০০-র বেশি শিক্ষকের বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটিগুলিকে কেন এখতিয়ারবহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, জানতে চেয়ে ২১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রুল জারি করেছে।

  • ক্ষতিগ্রস্ত স্কুল-কলেজ শিক্ষকদের সংগঠন: পদত্যাগে বাধ্য, অপসারিত বা বরখাস্ত শিক্ষকদের একটি সংগঠনের আহ্বায়ক আনোয়ারুল ইসলাম তালুকদার জানান, তাঁদের সংগঠনে ৩০০ ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষক আছেন। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী প্রায় ৯৫০ জনের এমপিও স্থগিত এবং প্রায় ৪,৫০০ জনের বেতন প্রতিষ্ঠান বন্ধ করেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে "মব"-এর শিকার শিক্ষকদের কোনও পূর্ণাঙ্গ তথ্য নেই বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ।

শিক্ষাবিদদের একাংশের বক্তব্য, অভিযোগ প্রমাণিত হলে তদন্ত ও শাস্তি হতেই পারে, কিন্তু তা হতে হবে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়ে।

পটভূমি

২০২৪-এর জুলাই-অগস্টে ছাত্র আন্দোলন দমনে পুলিশি অভিযানে কয়েকশো মানুষের মৃত্যু হয়। গণবিক্ষোভের মুখে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন শেখ হাসিনা। ২০২৫-এর মে মাসে অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় ফিরেছে।

সূত্র: হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, প্রথম আলো (৪ নভেম্বর ও ৫ অক্টোবর ২০২৬), দ্য ডেইলি স্টার, ঢাকা ট্রিবিউন, দৈনিক অবজার্ভার, বাংলাদেশ পোস্ট, দ্য উইক, ফ্যাক্টলি