শেখ হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টা, ‘ডিবিসি নিউজ’-এর চেয়ারম্যান এবং ‘দ্য ডেইলি অবজারভার’-এর সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে গ্রেফতার করল ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ী থানা এলাকায় ইমরান হোসেন নামে এক তরুণকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
বুধবার দুপুরে ঢাকার মহাখালীতে ‘ডিবিসি’ কার্যালয় থেকে ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে নিজেদের হেফাজতে নেয় ডিবি। একই সাথে সেখান থেকে আটক করা হয় ওই সংবাদমাধ্যমের প্রধান অপরাধ প্রতিবেদক রাজীব ঘোষকেও। গভীর রাতে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, ২০২৪ সালের আগস্টে দায়ের হওয়া ইমরান হত্যা মামলায় (মামলা নম্বর ২৩) ইকবাল সোবহানকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২, ১০৯ ও ৩৪ ধারা এবং বিস্ফোরক আইনে মামলা রুজু হয়েছে। অন্য দিকে, মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে সাংবাদিক রাজীব ঘোষকে।
এর আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আইন অনুযায়ী দেখা হবে।” আটকের পর প্রাথমিক ভাবে পুলিশ অবশ্য দাবি করেছিল, একটি খবর সম্প্রচার কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাঁদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে, গ্রেফতার করা হয়নি।
মামলায় নাম রয়েছে শফিক আহমেদ, শাহরিয়ার কবির, মোজাম্মেল বাবুদের
যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালীতে আন্দোলন চলাকালীন ইমরান হোসেনের মৃত্যুতে তাঁর মা কোহিনূর আক্তার বাদী হয়ে ২৯৭ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। ৫ আগস্ট সকালে মিছিলে নির্বিচারে গুলি ও ককটেল বোমাবাজির জেরে গুলিবিদ্ধ হন ইমরান। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ইমরান হত্যা মামলায় ইকবাল সোবহান ছাড়াও নাম রয়েছে সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তানিয়া আমীর, সাবেক শিক্ষাসচিব নজরুল ইসলাম খান এবং ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবিরের।
আসামির তালিকায় আরও রয়েছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল, ‘একাত্তর টিভি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু, সময় টিভির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ জোবায়ের, সাবেক বার্তাপ্রধান মুন্নী সাহা, সাংবাদিক সুভাষ সিংহ রায়, ফারজানা রূপা ও শাকিল আহমেদসহ একাধিক বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, রাশেদ খান মেনন ও সালমান এফ রহমানের নামও জড়ানো হয়েছে।
পাঠকের মন্তব্য ০
শালীন ও বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করুন। মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ হবে।
এই প্রতিবেদনে নতুন মন্তব্য গ্রহণ বন্ধ রয়েছে।
এখনও কোনো অনুমোদিত মন্তব্য নেই।