বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ জেলায় প্রাক্তন সাংসদ ও জামায়াতে ইসলামী নেতা মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জনের বড় ছেলে শাহরিয়ার জামান রানাকে (৪০) ছুরি মেরেছে দুষ্কৃতীরা। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার রাত আটটা নাগাদ, জেলার কটিয়াদী উপজেলার গচিহাটা বাজারে। হামলার জন্য বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি এবং তার যুব সংগঠন যুবদলের স্থানীয় নেতাদের দায়ী করেছেন আখতারুজ্জামান। পুলিশ অবশ্য জানিয়েছে, কারা জড়িত তা এখনও জানা যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শাহরিয়ার জামান বাজারে থাকার সময় ধারালো অস্ত্র ও লাঠি নিয়ে কয়েকজন তাঁর উপর চড়াও হয়। এলোপাথাড়ি মারধরের পাশাপাশি তাঁকে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়। স্থানীয়রাই তাঁকে উদ্ধার করে কটিয়াদীর সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বড় হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঘটনার সময় শাহরিয়ারের সঙ্গে ছিলেন কটিয়াদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মোজাম্মেল হক জোয়ারদার। তিনি জানান, শাহরিয়ারের শরীরের একাধিক জায়গায় ছুরির আঘাত রয়েছে। চিকিৎসকরা তাঁকে জানিয়েছেন, বুকের আঘাতটি গুরুতর। হামলার কারণ বা কারা এর পিছনে, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন বলে জানিয়েছেন।

ফেসবুক পোস্টে আখতারুজ্জামানের অভিযোগ, স্থানীয় সহস্রাম-দুলদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি ও যুবদল নেতারাই তাঁর ছেলের উপর হামলা চালিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, তাঁরা রাজনৈতিকভাবে আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। ঘটনার পরপরই তিনি বিষয়টি স্থানীয় থানার ওসি, জেলার পুলিশ সুপার, উপজেলা বিএনপি সভাপতি ও এলাকার সাংসদকে জানিয়েছেন বলেও পোস্টে দাবি করেছেন।

পোস্টে আখতারুজ্জামান জানান, মঙ্গলবারই তিনি জামিনে ছাড়া পেয়েছেন। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম বিডিনিউজ২৪-এর খবর অনুযায়ী, ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে হুমকি দেওয়া এবং এক নিরাপত্তা সুপারভাইজারকে মারধরের মামলায় সম্প্রতি তাঁকে জামিন দিয়েছে বাংলাদেশ হাইকোর্ট।

কটিয়াদী থানার ওসি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কারা জড়িত, তা প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন খান বলেন, আখতারুজ্জামান ফোন করে তাঁকে ঘটনার কথা জানিয়েছেন। তিনি খোঁজখবর নিচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রের খবর, গচিহাটাতেই আখতারুজ্জামানের পৈতৃক বাড়ি। সেখানে পরিবারের কয়েকটি ব্যবসা ও একটি খামার রয়েছে। শাহরিয়ার বেশির ভাগ সময় গ্রামে থেকে সেই ব্যবসা দেখাশোনা করেন। তিনি নিজে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস নামে একটি ইসলামপন্থী দলের সঙ্গে যুক্ত। বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-২ কেন্দ্রে দলের টিকিট চেয়েও পাননি।

মুক্তিযোদ্ধা আখতারুজ্জামান ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে বিএনপির টিকিটে কিশোরগঞ্জ-২ কেন্দ্র থেকে পরপর দু'বার সাংসদ নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে নির্দল প্রার্থী হয়ে হেরে যান। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন।