হাইলাইটস:

  • মাত্র দুই সপ্তাহে অবৈধ বালি উত্তোলন ও পাচারের অভিযোগে ৩২ জন গ্রেপ্তার।
  • একাধিক নদীঘাট ও সংরক্ষিত এলাকায় অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন।
  • জব্দ হয়েছে বালি বোঝাই ট্রাক, ট্র্যাক্টর, ডাম্পার, নৌকা ও খননযন্ত্র।
  • রাজস্ব ক্ষতি, পরিবেশের বিপর্যয় ও নদীভাঙন ঠেকাতে আরও কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত।
  • ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর, পুলিশ এবং জেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বাংলাস্ফিয়ার: অবৈধ বালি উত্তোলন ও পাচারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান আরও জোরদার হয়েছে। গত দুই সপ্তাহে বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযানে মোট ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, নদীর বক্ষ থেকে অনুমতি ছাড়া বালি তোলা, সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে পাচার এবং পরিবেশবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।

ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের উদ্যোগে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সহায়তায় একাধিক অভিযানে অবৈধ বালি খাদান এবং পরিবহণের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে বালি বোঝাই ট্রাক, ট্র্যাক্টর, ডাম্পার, নৌকা এবং খনন কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতিও জব্দ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট গাড়িগুলির বৈধ নথি এবং খনিজ পরিবহণের অনুমতিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রশাসনের এক কর্তার বক্তব্য, অবৈধ বালি উত্তোলনের ফলে শুধু সরকারের রাজস্ব ক্ষতিই হয় না, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহও ব্যাহত হয়। এর ফলে নদীভাঙন বাড়ে, জলস্তর নেমে যায় এবং আশপাশের কৃষিজমি ও পরিবেশের উপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই এই ধরনের বেআইনি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে।

অভিযানের সময় বেশ কয়েকটি এলাকায় রাতের অন্ধকারে বালি তোলার চক্রেরও হদিস মিলেছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগ, নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে এবং অনুমোদিত সীমার অতিরিক্ত বালি উত্তোলন করে তা বিভিন্ন জেলায় পাচার করা হচ্ছিল। তদন্তকারীরা এই চক্রের মূল হোতা, অর্থের লেনদেন এবং পরিবহণ নেটওয়ার্কের খোঁজও শুরু করেছেন।

প্রশাসনের মতে, অবৈধ বালি ব্যবসার সঙ্গে অনেক সময় সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত থাকে। ফলে শুধু মাঠপর্যায়ে অভিযান চালালেই হবে না, গোটা সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে দেওয়াও জরুরি। সেই লক্ষ্যেই বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো হয়েছে। প্রয়োজনে আরও কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদেরও এই অভিযানে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন। কোথাও অবৈধ বালি উত্তোলন বা পাচারের খবর পাওয়া গেলে তা দ্রুত প্রশাসনকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের দাবি, এই অভিযান এককালীন নয়। অবৈধ খনিজ উত্তোলন, পরিবহণ ও পাচারের বিরুদ্ধে আগামী দিনেও নিয়মিত নজরদারি ও বিশেষ অভিযান চলবে। উদ্দেশ্য একটাই—প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং সরকারি রাজস্বের ক্ষতি রোধ করা।