হাইলাইটস:
- অযোধ্যার রামমন্দিরে অনুদানের টাকা আত্মসাতের মামলায় নতুন মোড়।
- সিসিটিভি ফুটেজে আট অভিযুক্তের মধ্যে অন্তত পাঁচজনকে নগদের বান্ডিল সরিয়ে লুকিয়ে রাখতে দেখা গেছে বলে দাবি তদন্তকারীদের।
- পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা জামাকাপড় ও মোজার মধ্যে টাকা গুঁজে রাখত, পরে সুযোগ বুঝে বাইরে নিয়ে যেত।
- ইতিমধ্যেই প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছে। তদন্তে ব্যাংক, নিয়োগপ্রক্রিয়া ও মন্দিরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বাংলাস্ফিয়ার: অযোধ্যার রামমন্দিরে ভক্তদের অনুদানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তদন্তে এবার সামনে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ সিসিটিভি ফুটেজ। তদন্তকারীদের দাবি, গ্রেফতার হওয়া আট অভিযুক্তের মধ্যে অন্তত পাঁচজনকে নগদের বান্ডিল সরিয়ে নিজেদের পোশাকের মধ্যে লুকিয়ে রাখতে স্পষ্ট দেখা গিয়েছে। এই ফুটেজের ভিত্তিতেই তদন্ত আরও জোরদার হয়েছে এবং অভিযুক্তদের একাধিক আস্তানায় তল্লাশি চালিয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রের দাবি, মন্দিরের অনুদান গণনার কেন্দ্রের গত ৪৫ দিনের সিসিটিভি ফুটেজ খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে। সেই ফুটেজে দেখা যায়, নোট গোনার সময় কয়েকজন কর্মী কৌশলে বান্ডিল তুলে জামার ভাঁজে, পকেটে বা মোজার মধ্যে লুকিয়ে ফেলছে। পরে সুযোগ বুঝে সেই অর্থ বাইরে পাচার করা হতো। তদন্তকারীদের মতে, এটি ছিল পরিকল্পিত এবং ধারাবাহিক অপরাধ।
তদন্তে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ বিভিন্ন অভিযুক্তের বাড়ি ও অন্যান্য জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে নগদ অর্থ উদ্ধার করেছে। পাশাপাশি চুরি করা অর্থ দিয়ে কোনও জমি, বাড়ি বা অন্য সম্পত্তি কেনা হয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই মামলায় গ্রেফতার হওয়া আটজনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয় গত ২৫ জুন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন অবিনাশ শুক্ল, লাভকুশ মিশ্র, অনুকল্প মিশ্র, মনীশ যাদব, করুণেশ পাণ্ডে, রামাশঙ্কর মিশ্র, রামশঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নু যাদব এবং সুভাষ শ্রীবাস্তব। তদন্তে উঠে এসেছে, কয়েকজন অভিযুক্তের মধ্যে আত্মীয়তার সম্পর্কও রয়েছে। এমনকি একজন মন্দির ট্রাস্টের এক শীর্ষ কর্তার প্রাক্তন চালক বলেও জানা গেছে।
তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে এসেছে নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে। যে সংস্থার মাধ্যমে নগদ গণনার কর্মীদের নিয়োগ করা হয়েছিল, তাদের দাবি—কর্মী বাছাইয়ের ক্ষমতা তাদের ছিল না। সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকই নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের নাম পাঠিয়েছিল, তারা শুধু নথিপত্র যাচাই করে নিয়োগের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে। এই দাবির সত্যতা যাচাই করছে তদন্তকারী দল।
পুলিশের মতে, পুরো ব্যবস্থাতেই একাধিক প্রশাসনিক দুর্বলতা ছিল। নিয়োগের আগে যথাযথ যাচাই করা হয়নি, নগদ গণনার ঘরে প্রবেশ ও বেরোনোর ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত নজরদারি ছিল না এবং কর্মীদের তল্লাশির ব্যবস্থাও কার্যকর ছিল না। এই নিরাপত্তা ঘাটতির সুযোগই অভিযুক্তরা নিয়েছে বলে তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা।
তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন, মন্দিরে সিসিটিভি ফুটেজ মাত্র ৪৫ দিন সংরক্ষণ করা হতো। ফলে তার আগের কোনও ফুটেজ এখন আর পাওয়া সম্ভব নয়। এর ফলে কতদিন ধরে এই অর্থ আত্মসাৎ চলছিল, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। এই সীমাবদ্ধতার কারণেই তদন্তে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হারিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কর্মকর্তারা।
এদিকে বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) মন্দিরের অনুদান ব্যবস্থাপনায় একাধিক প্রাতিষ্ঠানিক ত্রুটি চিহ্নিত করেছে। প্রতিদিন গড়ে কয়েক দশ লক্ষ টাকা অনুদান জমা পড়লেও সেই বিপুল অর্থের নিরাপদ সংরক্ষণ, গণনা ও ব্যাংকে জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও কঠোর মানদণ্ড প্রয়োজন ছিল বলে মত তদন্তকারীদের। ইতিমধ্যে পুরো অনুদান ব্যবস্থাকে নতুন করে সাজানোর প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
এই ঘটনায় শুধু ফৌজদারি তদন্তই নয়, রামমন্দিরের অনুদান ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং নিরাপত্তা নিয়েও বড় প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত এখন আরও বিস্তৃত হয়েছে। নগদ অর্থের পাশাপাশি সম্ভাব্য সম্পত্তি ক্রয়, ব্যাংককর্মীদের ভূমিকা এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের আশা, সিসিটিভি ফুটেজ, উদ্ধার হওয়া নগদ অর্থ এবং নথিপত্রের ভিত্তিতে পুরো চক্রের কার্যপদ্ধতি শীঘ্রই স্পষ্ট হয়ে উঠবে।