হাইলাইটস:
- প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করল পুলিশ।
- অভিযোগ, আয়-সঙ্গত নয় এমন বিপুল সম্পত্তি গড়ে তোলা এবং আর্থিক অনিয়মে জড়িত ছিলেন তিনি।
- গ্রেফতারের আগে দেবরাজ ও তাঁর স্ত্রী, প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অদিতি মুন্সি কলকাতা হাইকোর্টে গ্রেফতারি থেকে সুরক্ষা চেয়ে আবেদন করেছিলেন।
- তদন্তকারীরা দাবি করেছেন, সম্পত্তি ও আর্থিক লেনদেনের একাধিক নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
- আদালতের নির্দেশ মেনেই তদন্ত এগোচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বাংলাস্ফিয়ার: প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তীকে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পত্তি এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার পুরুলিয়া জেলা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলা অনুসন্ধানে এমন কিছু তথ্য উঠে এসেছে, যা তাঁর আয় এবং সম্পদের মধ্যে বড় ধরনের অসঙ্গতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। সেই সূত্র ধরেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বৈধ আয়ের তুলনায় অনেক বেশি সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। একই সঙ্গে আর্থিক লেনদেনে একাধিক অনিয়মের অভিযোগও তদন্তাধীন। ইতিমধ্যেই তাঁর সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন নথি, ব্যাংক লেনদেন, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির হিসাব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বয়ানও সংগ্রহ করছেন।
এই গ্রেফতারের কয়েক দিন আগেই দেবরাজ চক্রবর্তী এবং তাঁর স্ত্রী, প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অদিতি মুন্সি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করে গ্রেফতারি থেকে আইনি সুরক্ষা চেয়েছিলেন। আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে তদন্তের প্রেক্ষিতে নির্দিষ্ট কিছু নির্দেশ দেয়। তবে আদালতের নির্দেশের সীমার মধ্যেই তদন্ত চালিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য, মামলাটি শুধু একজন ব্যক্তির সম্পত্তির হিসাবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। অর্থ কোথা থেকে এসেছে, কীভাবে বিনিয়োগ করা হয়েছে এবং সেই অর্থের উৎস বৈধ কি না—এই সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও নথি সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
দেবরাজ চক্রবর্তীর আইনজীবীদের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁদের বক্তব্য, তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করা হচ্ছে এবং আদালতেই তাঁরা নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করবেন। তবে তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, সমস্ত পদক্ষেপ আইন মেনেই করা হয়েছে এবং প্রাপ্ত তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই গ্রেফতার করা হয়েছে।
রাজ্যের রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনাকে ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক জনপ্রতিনিধি ও প্রাক্তন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি এবং আয়-বহির্ভূত সম্পত্তির অভিযোগে তদন্ত চলছে। দেবরাজ চক্রবর্তীর গ্রেফতার সেই ধারাবাহিকতারই অংশ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
তদন্তকারীরা এখন দেবরাজ চক্রবর্তীর আর্থিক নথি, সম্পত্তির দলিল, ব্যবসায়িক সংযোগ এবং ব্যাংক হিসাব বিশদে খতিয়ে দেখবেন। প্রয়োজনে তাঁর স্ত্রী-সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের আর্থিক লেনদেনও তদন্তের আওতায় আসতে পারে বলে সূত্রের খবর। তদন্তে নতুন তথ্য মিললে আরও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
এই মামলার পরবর্তী ধাপ হবে আদালতে পুলিশি হেফাজতের আবেদন, জিজ্ঞাসাবাদ এবং আর্থিক নথির ফরেনসিক বিশ্লেষণ। তদন্তকারী সংস্থা আশা করছে, এসবের মাধ্যমে অভিযোগের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত পক্ষ আদালতেই নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করার চেষ্টা করবে। ফলে এই বহুল আলোচিত মামলার দিকে এখন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক—উভয় মহলেরই নজর রয়েছে।