হাইলাইটস:

  • বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধনের (এসআইআর) তথ্যের ভিত্তিতে অন্নপূর্ণা প্রকল্পের আবেদনপত্র যাচাই।
  • প্রায় ১ কোটি ৬০ লক্ষ আবেদনের মধ্যে ২৬ লক্ষ আবেদন বাতিল।
  • ১ কোটি ৩০ লক্ষেরও বেশি আবেদনকারীকে প্রকৃত সুবিধাভোগী হিসেবে চিহ্নিত।
  • লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের প্রায় ২৭ লক্ষ সুবিধাভোগীর নামও বাদ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি মুখ্যমন্ত্রীর।
  • নাগরিকত্বের আবেদন বিচারাধীন থাকলে আপাতত সুবিধা চালু থাকবে।

বাংলাস্ফিয়ার: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নতুন অন্নপূর্ণা প্রকল্পে জমা পড়া প্রায় ২৬ লক্ষ আবেদন বাতিল করা হয়েছে নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত কারণে। বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর)-এর তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে আবেদনপত্র যাচাইয়ের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বুধবার জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, মোট প্রায় ১ কোটি ৬০ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছিল। এর মধ্যে ১ কোটি ৩০ লক্ষেরও বেশি আবেদনকারী প্রকৃত সুবিধাভোগী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন।

এক প্রশাসনিক অনুষ্ঠানে এক কোটি-রও বেশি উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আর্থিক সহায়তার অর্থ স্থানান্তর করার সময় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যাঁরা নির্ধারিত যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে পারেননি, তাঁদের আবেদন বাতিল করা হয়েছে।

বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির নির্বাচনী ইস্তাহারে অন্নপূর্ণা প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সরকার গঠনের পর গত ৩ জুন এই প্রকল্প চালু হয়। চলতি অর্থবর্ষের বাজেটে প্রকল্পটির জন্য ৩৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধাভোগীদেরও পুনরায় সমীক্ষা করা হয়েছে। সেই সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, অন্তত ২৭ লক্ষ ব্যক্তি হয় ভারতীয় নাগরিক নন, নয়তো তাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এই তালিকায় মৃত ব্যক্তি, অন্যত্র স্থায়ীভাবে চলে যাওয়া মানুষ এবং একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে একই সুবিধা নেওয়া ব্যক্তিরাও রয়েছেন বলে তাঁর দাবি।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতীয় নাগরিক ছাড়া অন্য কেউ সরকারি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারেন না। তাই এই নামগুলি তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, বাংলাদেশ থেকে উদ্বাস্তু হিসেবে এসে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এর আওতায় ভারতীয় নাগরিকত্বের আবেদন করেছেন যাঁরা, অথবা যাঁদের মামলা সুপ্রিম কোর্ট-নির্দেশিত আপিল ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে আপাতত অন্নপূর্ণা প্রকল্পের সুবিধা বন্ধ করা হবে না। তাঁদের আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা চালু থাকবে।

মুখ্যমন্ত্রীর আরও দাবি, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মোট প্রায় ২ কোটি সুবিধাভোগীর মধ্যে প্রায় ১০ লক্ষ ছিলেন পুরুষ। অথচ এই প্রকল্পটি মূলত মহিলাদের জন্য চালু হয়েছিল। তাঁর কথায়, এই ধরনের অসঙ্গতির কারণেই সুবিধাভোগীদের তালিকা পুনরায় ছেঁকে দেখা প্রয়োজন হয়ে পড়ে।

সরকারি তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, এসআইআর প্রক্রিয়ার পর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের সময় প্রায় ৬৩ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরও ২৭ লক্ষ আবেদন বর্তমানে আপিল ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন

অন্নপূর্ণা প্রকল্পে আবেদন করার জন্য ১২ পাতার আবেদনপত্র নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনারও জবাব দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, বাস্তবে আবেদনকারীকে মাত্র চারটি পাতা পূরণ করতে হয়েছে। একবার তথ্য সরকারি পোর্টালে আপলোড হয়ে গেলে ভবিষ্যতে কেন্দ্র বা রাজ্যের বিভিন্ন সামাজিক কল্যাণ প্রকল্পে আবেদন করার জন্য একই তথ্য বারবার জমা দিতে হবে না।

এর আগে গত মে মাসেও শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছিলেন, তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে প্রায় ৩০ লক্ষ ভুয়ো সুবিধাভোগী নিয়মিত আর্থিক সহায়তা পাচ্ছিলেন। প্রথমে সরকার মনে করেছিল পুরনো তালিকা যাচাই করা রয়েছে। কিন্তু পরে অভিযোগ আসে, ভোটার তালিকা থেকে স্থায়ীভাবে নাম বাদ পড়া, সিএএ-র জন্য আবেদন না করা এবং আপিল ট্রাইব্যুনালে না যাওয়া বহু ব্যক্তিও সরকারি অর্থ পাচ্ছেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুনরায় যাচাই শুরু হয় বলে জানান তিনি।