Table of Contents
হাইলাইটস
- ইরানের সঙ্গে যে কোনও মার্কিন চুক্তি ইজরায়েলকে মেনে নিতেই হবে বলে জানালেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
- “সব সিদ্ধান্ত আমিই নিই, নেতানিয়াহু নয়”—স্পষ্ট বার্তা মার্কিন প্রেসিডেন্টের।
- ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইজরায়েলকে পাল্টা আঘাত না করার পরামর্শ দিয়েছেন ট্রাম্প।
- ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে শান্তি-আলোচনা শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে দাবি।
- মার্কিন-ইজরায়েল সম্পর্কের মধ্যে বিরল মতপার্থক্যের ইঙ্গিত মিলছে।
পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত ভূরাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে তিনি এমন একটি মন্তব্য করেছেন, যা শুধু তেহরান বা ওয়াশিংটন নয়, সরাসরি জেরুজালেমেও আলোড়ন তুলেছে।
ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের সঙ্গে কোনও চুক্তিতে পৌঁছয়, তাহলে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu-র সেটি মেনে নেওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় থাকবে না। তাঁর কথায়, “ওর কোনও বিকল্প নেই। সব সিদ্ধান্ত আমিই নিই। আমি সব সিদ্ধান্ত নিই। নেতানিয়াহু সিদ্ধান্ত নেন না।”
এই মন্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে আবারও ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা শুরু হয়েছে এবং এপ্রিল মাসে হওয়া যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত লেবাননে। হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইজরায়েলের বিমান হামলার জবাবে ইরান সরাসরি ইজরায়েলের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। যদিও অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়, তবুও পরিস্থিতি দ্রুত উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এই অবস্থায় ট্রাম্পের
নেতানিয়াহুর আর কোনও উপায় নেই’: ইরান চুক্তি নিয়ে ইজরায়েলকে কার্যত বার্তা ট্রাম্পের
হাইলাইটস
- ইরানের সঙ্গে যে কোনও মার্কিন চুক্তি ইজরায়েলকে মেনে নিতেই হবে বলে জানালেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
- “সব সিদ্ধান্ত আমিই নিই, নেতানিয়াহু নয়”—স্পষ্ট বার্তা মার্কিন প্রেসিডেন্টের।
- ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইজরায়েলকে পাল্টা আঘাত না করার পরামর্শ দিয়েছেন ট্রাম্প।
- ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে শান্তি-আলোচনা শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে দাবি।
- মার্কিন-ইজরায়েল সম্পর্কের মধ্যে বিরল মতপার্থক্যের ইঙ্গিত মিলছে।
পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত ভূরাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে তিনি এমন একটি মন্তব্য করেছেন, যা শুধু তেহরান বা ওয়াশিংটন নয়, সরাসরি জেরুজালেমেও আলোড়ন তুলেছে।
ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের সঙ্গে কোনও চুক্তিতে পৌঁছয়, তাহলে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu-র সেটি মেনে নেওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় থাকবে না। তাঁর কথায়, “ওর কোনও বিকল্প নেই। সব সিদ্ধান্ত আমিই নিই। আমি সব সিদ্ধান্ত নিই। নেতানিয়াহু সিদ্ধান্ত নেন না।”
এই মন্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে আবারও ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা শুরু হয়েছে এবং এপ্রিল মাসে হওয়া যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত লেবাননে। হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইজরায়েলের বিমান হামলার জবাবে ইরান সরাসরি ইজরায়েলের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। যদিও অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়, তবুও পরিস্থিতি দ্রুত উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এই অবস্থায় ট্রাম্পের প্রথম উদ্বেগ ছিল সংঘাত যাতে আরও না বাড়ে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলির খবর অনুযায়ী, তিনি নেতানিয়াহুকে ফোন করে ইরানের বিরুদ্ধে অবিলম্বে পাল্টা হামলা না চালানোর অনুরোধ জানান। তাঁর যুক্তি ছিল, দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে; এখন আর নতুন করে যুদ্ধ বাড়ানোর প্রয়োজন নেই।
ট্রাম্পের ভাষায়, “ইজরায়েল তার আঘাত করেছে, ইরানও করেছে। এবার যথেষ্ট। আলোচনার পথে ফিরতে হবে।”
এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য এখন সামরিক সংঘাত নয়, বরং একটি কূটনৈতিক সমাধান। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা চলছে। এই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা।
ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন যে একটি চুক্তি এখন হাতের নাগালে। তাঁর মতে, সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলাও সেই প্রক্রিয়াকে থামাতে পারবে না। “এতে চুক্তির উপর কোনও প্রভাব পড়বে না,” তিনি বলেছেন।
কিন্তু প্রশ্ন হল, কেন ট্রাম্প এত জোর দিয়ে বলছেন যে নেতানিয়াহুর কোনও বিকল্প থাকবে না?
এর উত্তর লুকিয়ে আছে গত কয়েক মাসের মার্কিন-ইজরায়েল সম্পর্কের পরিবর্তিত বাস্তবতায়। ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান চালানোর পর থেকেই দুই দেশের কৌশলগত অগ্রাধিকার এক নয়। ওয়াশিংটন যুদ্ধ থামিয়ে একটি স্থিতিশীল সমঝোতা চায়। অন্যদিকে জেরুজালেমের লক্ষ্য ইরানের সামরিক ও আঞ্চলিক প্রভাব যতটা সম্ভব দুর্বল করা।
ইজরায়েলি নেতৃত্ব বিশেষ করে উদ্বিগ্ন যে সম্ভাব্য মার্কিন-ইরান চুক্তিতে ইজরায়েলের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ পুরোপুরি প্রতিফলিত নাও হতে পারে। নেতানিয়াহু নাকি ব্যক্তিগতভাবে স্বীকারও করেছেন যে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করা ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে।
এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের “আমি সব সিদ্ধান্ত নিই” মন্তব্যটি শুধু রাজনৈতিক দম্ভ নয়; এটি ইজরায়েলের প্রতি একটি স্পষ্ট কূটনৈতিক বার্তাও। তিনি বোঝাতে চাইছেন যে মধ্যপ্রাচ্য নীতির নিয়ন্ত্রণ ওয়াশিংটনের হাতেই রয়েছে এবং ইজরায়েলকে সেই বৃহত্তর কৌশলের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে।
তবে বাস্তবে বিষয়টি এত সহজ নয়। নেতানিয়াহু দেশের ভিতরে প্রবল রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন। উত্তর ইজরায়েলের বহু নাগরিক এখনও হিজবুল্লাহর হামলার ভয় নিয়ে বাস করছেন। বিরোধীরা অভিযোগ করছে যে সরকার এখনও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি। ফলে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার জন্য তাঁর ওপর অভ্যন্তরীণ চাপও কম নয়।
অন্যদিকে ইরানও নিজের অবস্থান নরম করেনি। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে লেবাননে যুদ্ধ চলতে থাকলে বা হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে আক্রমণ অব্যাহত থাকলে যে কোনও শান্তি উদ্যোগ বিপন্ন হতে পারে।
ফলে ট্রাম্পের সামনে এখন একটি কঠিন সমীকরণ। একদিকে তাঁকে ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি সম্পন্ন করতে হবে, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের মিত্র ইজরায়েলের নিরাপত্তা উদ্বেগকেও উপেক্ষা করা যাবে না।
তবু ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে একটি বিষয় পরিষ্কার—তিনি বিশ্বাস করেন যে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে শেষ কথা এখনও ওয়াশিংটনেরই। আর সেই কারণেই তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ঘোষণা করেছেন, ইরানের সঙ্গে যে চুক্তিই হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত নেতানিয়াহুকে সেটি মেনে নিতেই হবে।