বাংলাস্ফিয়ার: ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার শেষ মুহূর্তে তাঁর দুই শীর্ষ আলোচককে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে পাঠানোর পরিকল্পনা বাতিল করে দিলেন। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ থামাতে একটি সম্ভাব্য চুক্তির রূপরেখা তৈরির লক্ষ্যে এই সফরের আয়োজন করা হয়েছিল।
“আমি একটু আগেই আমার লোকদের বলে দিয়েছি — ওরা রওনার প্রস্তুতি নিচ্ছিল — আমি বললাম, ‘না, শুধু কথা বলতে ১৮ ঘণ্টার ফ্লাইট করবে না। সব তাস আমাদের হাতে’,” ট্রাম্প এক বিবৃতিতে বলেন। “ওরা যখনই চাইবে আমাদের ফোন করতে পারে, কিন্তু ফাঁকা আলোচনার জন্য ১৮ ঘণ্টার ফ্লাইট আর না।”
বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্টের জামাই জেরেড কুশনার শনিবার উপরাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্সের শীর্ষ সহযোগীদের সঙ্গে পাকিস্তানে যাওয়ার কথা ছিল। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান।
এই সফর বাতিলের ঘটনা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে দুই পক্ষ যুদ্ধবিরতি চুক্তি থেকে এখনো অনেক দূরে। এর আগে ভ্যান্সের ইসলামাবাদ সফরও ব্যর্থ হয়েছিল। প্রশাসনের মূল লক্ষ্য — ইরানকে তার পারমাণবিক মজুদ হস্তান্তর করাতে রাজি করানো এবং ভবিষ্যৎ পারমাণবিক কার্যক্রম সীমিত রাখা — কোনোটিতেই এখন পর্যন্ত অগ্রগতি নেই। হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ প্রশ্নেও দু’পক্ষ অচলাবস্থায় আটকে আছে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে প্রবাহিত হয়।
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত আসে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইসলামাবাদ ছেড়ে ওমান রওনা হওয়ার পর। মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোনো সরাসরি বৈঠকের পরিকল্পনা ছিল না।
ইসলামাবাদ ছাড়ার আগে আরাগচি সামাজিক মাধ্যমে জানান, “ইরানের উপর চলা যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তির একটি কার্যকর কাঠামো” নিয়ে তিনি পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইরানের অবস্থান তুলে ধরেছেন। তবে সর্বশেষ প্রস্তাবের বিস্তারিত তিনি জানাননি। ট্রাম্পের সফর বাতিলের পর তিনি লেখেন, “কূটনীতিতে আমেরিকা সত্যিই আন্তরিক কিনা, সেটা এখনো প্রমাণ হওয়া বাকি।”
এই সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প একতরফাভাবে মার্কিন-ইরান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়ে দেন এবং বলেন, তেহরানকে একটি নতুন প্রস্তাব পেশের সুযোগ দিতে চান তিনি।
ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানি সরকারের অভ্যন্তরে গভীর বিভেদ রয়েছে, যা আলোচনাকে জটিল করে তুলছে। তিনি লেখেন, “তাদের ‘নেতৃত্বের’ ভেতরে তীব্র মতবিরোধ ও বিভ্রান্তি চলছে। কে আসলে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, কেউ জানে না — এমনকি তারা নিজেরাও না।” তবে বৃহস্পতিবারই ইরানের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা বিবৃতি দিয়ে এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দেন।
এদিকে আমেরিকা সম্প্রতি ইরানের কাছে একটি লিখিত প্রস্তাব পাঠিয়েছে, যার উদ্দেশ্য ছিল আরও বিস্তারিত আলোচনার ভিত্তি হতে পারে এমন কিছু সাধারণ সম্মতির বিষয় চিহ্নিত করা। দলিলটি বিস্তৃত পরিসর স্পর্শ করলেও মূল জটগুলো সেই পুরনোই — ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচির পরিধি এবং সংগৃহীত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ — যা গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে পশ্চিমা কূটনীতিকদের আটকে রেখেছে।
যুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনী তার অপ্রতিরোধ্য শক্তির প্রমাণ দিয়েছে, হাজার হাজার লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হেনেছে। তবু ইরানের ধর্মতান্ত্রিক সরকার তার শীর্ষ নেতারা নিহত হওয়ার পরেও টিকে আছে এবং হরমুজ প্রণালীর উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল সীমিত হয়েছে, তেলের দাম বেড়েছে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে।