Home বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিএআই ও ভবিষ্যৎ স্বাধীনতা না নিয়ন্ত্রণ, কোন্ পথে হাঁটছে ভারতের প্রযুক্তি?

স্বাধীনতা না নিয়ন্ত্রণ, কোন্ পথে হাঁটছে ভারতের প্রযুক্তি?

0 comments 3 views
A+A-
Reset

বাংলাস্ফিয়ার: কাঁচের দেওয়ালে মোড়া অফিসগুলোতে সন্ধ্যার আলো জ্বলতে না জ্বলতেই শুরু হয়ে যায় আরেক কর্মযজ্ঞ। শহর যখন ক্লান্ত, তখন এই প্রযুক্তি হাবের ভেতরে ডিজিটাল দুনিয়া জেগে ওঠে আরও বেশি করে। আর এই জাগরণের কেন্দ্রে রয়েছে এমন একটি প্রকল্প, যা হয়তো বদলে দিতে পারে মানুষের সঙ্গে প্রযুক্তির সম্পর্কের সংজ্ঞাটাই।

সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ঋত্বিক তার কম্পিউটারের সামনে বসে একটি নতুন ইন্টারফেস পরীক্ষা করছিলেন — অদ্ভুতভাবে পরিচিত, আবার সম্পূর্ণ নতুন। একটি উইন্ডোতে তিনি লিখলেন, “আজকের প্রজেক্টের জন্য কোড সাজিয়ে দাও।” এক সেকেন্ডও লাগল না। কোড তৈরি হয়ে গেল।

এরপর আরেকটি ট্যাবে — যা আলাদা কোনো ব্রাউজার নয়, একই অ্যাপের অংশ — তিনি সার্চ করলেন ভারতের জ্বালানি নীতির সাম্প্রতিক পরিবর্তন নিয়ে। উত্তর এল বিশ্লেষণ, গ্রাফ এবং উৎসসহ।

এই মুহূর্তেই ঋত্বিক থামলেন। তাঁর মনে প্রশ্ন জাগল — তিনি কি আলাদা আলাদা কাজ করছেন, নাকি একটিই সিস্টেম তাঁর সব চিন্তা, সব প্রয়োজন, সব প্রশ্নকে এক জায়গায় এনে ফেলেছে?

শুধু অ্যাপ নয়, এটি একটি পরিবেশ

অফিসে এই প্রকল্পের নাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সহকর্মীরা ডাকছেন “সুপারঅ্যাপ” বলে। প্রোডাক্ট ম্যানেজার অনন্যা বিষয়টি আরও স্পষ্ট করলেন।

“এটা শুধু একটা অ্যাপ না,” বললেন তিনি। “এটা একটা পরিবেশ, একটা ইকোসিস্টেম। আগে মানুষ টুল ব্যবহার করত। এখন টুল মানুষকে বুঝতে শিখছে। এই অ্যাপটা তোর কাজ, তোর অভ্যাস, তোর চিন্তার ধরন — সব শিখে নেবে।”

এই কথা শুনে ঋত্বিকের পাল্টা প্রশ্ন ছিল সরাসরি: “তাহলে কি আমরা ধীরে ধীরে নিজেরাই অপ্রয়োজনীয় হয়ে যাব?”

অনন্যার উত্তর ছিল সংক্ষিপ্ত কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ: “না। আমরা অপ্রয়োজনীয় হব না। কিন্তু আমরা বদলে যাব।”

ক্যারিয়ার পরিকল্পনা থেকে জীবন পরিকল্পনা

সেই রাতে বাড়ি ফিরে ঋত্বিক আবার অ্যাপটি চালু করলেন এবং লিখলেন, “আমার আগামী পাঁচ বছরের ক্যারিয়ার প্ল্যান তৈরি করো।”

অ্যাপটি শুধু পরিকল্পনা দিল না। তাঁর দক্ষতা বিশ্লেষণ করল, বাজারের প্রবণতা দেখাল, এমনকি তাঁর ব্যক্তিগত আগ্রহের সঙ্গে মিলিয়ে সম্ভাব্য পেশাদার পথও সাজিয়ে দিল। ঋত্বিকের মনে জাগল এক দ্বন্দ্ব — এটা কি সহায়তা, নাকি নিয়ন্ত্রণ?

স্বাধীনতা নাকি সুবিধা?

পরদিনের মিটিংয়ে একজন সিনিয়র কর্মকর্তা প্রকল্পের লক্ষ্য তুলে ধরলেন স্পষ্ট ভাষায়: “আমরা এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করছি, যেখানে ব্যবহারকারী আর আলাদা আলাদা অ্যাপের মধ্যে ঘুরবে না। চ্যাট, কোড, তথ্য, সিদ্ধান্ত — সবকিছু এক জায়গায়।”

সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্ন উঠল: “তাহলে কি ব্যবহারকারীর স্বাধীনতা কমে যাবে না?”

এক মুহূর্তের নীরবতার পর উত্তর এল: “স্বাধীনতা কমবে না। বরং সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে।”

কিন্তু ঋত্বিক মাথা নিচু করে ভাবলেন — সহজ হওয়া মানেই কি স্বাধীন হওয়া?

ঘুমন্ত শহর, জাগ্রত ডিভাইস

রাতের কলকাতা নিঃশব্দ। শহরের হাজার হাজার মানুষ ঘুমোচ্ছেন, কিন্তু তাঁদের ডিভাইসগুলো জেগে আছে। একটি অ্যাপ ধীরে ধীরে তাঁদের কাজ, প্রশ্ন আর সিদ্ধান্তকে জুড়ে দিচ্ছে এক সুতোয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই “সুপারঅ্যাপ” ধারণাটি আর কল্পনা নয়, এটি বাস্তবতার দিকে এগিয়ে আসছে দ্রুত গতিতে। আর সেই বাস্তবতায় মানুষ ও প্রযুক্তির মধ্যের সীমারেখা ক্রমশ অস্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

জানালার পাশে দাঁড়িয়ে শহরের দিকে তাকিয়ে ঋত্বিকের মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খায়: “আমরা কি এই প্রযুক্তিকে ব্যবহার করব, নাকি একদিন প্রযুক্তিই আমাদের ব্যবহার করবে?”

এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো নির্ভর করছে আমাদের প্রত্যেকের উপর এবং আমরা এই নতুন বাস্তবতাকে কীভাবে গ্রহণ করি, তার উপর।

Author

You may also like

Leave a Comment

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles