জিএসটিতে পাঁচ দফা সংস্কারের প্রস্তাব, ছোট ব্যবসার জট কাটাতে উদ্যোগ কেন্দ্রের

যা জানা জরুরি
- জিএসটি ব্যবস্থায় প্রশাসনিক জট কমাতে পাঁচ দফা সংস্কার পরিকল্পনা আনতে চলেছে কেন্দ্র।
- আগামী ৮ অক্টোবর জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠকে এই প্রস্তাব পেশ করার কথা।
- অর্থ মন্ত্রকের সূত্র উদ্ধৃত করে দ্য হিন্দুর প্রকাশিত খবরের সারাংশে জানানো হয়েছে, পরিকল্পনায় রয়েছে প্রক্রিয়াগত সংস্কার, কাঠামোগত পরিবর্তন, সাধারণ মানুষের জীবন ও ব্যবসা পরিচালনা…
বিস্তারিত প্রতিবেদন
জিএসটি ব্যবস্থায় প্রশাসনিক জট কমাতে পাঁচ দফা সংস্কার পরিকল্পনা আনতে চলেছে কেন্দ্র। আগামী ৮ অক্টোবর জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠকে এই প্রস্তাব পেশ করার কথা। অর্থ মন্ত্রকের সূত্র উদ্ধৃত করে দ্য হিন্দুর প্রকাশিত খবরের সারাংশে জানানো হয়েছে, পরিকল্পনায় রয়েছে প্রক্রিয়াগত সংস্কার, কাঠামোগত পরিবর্তন, সাধারণ মানুষের জীবন ও ব্যবসা পরিচালনা সহজ করা, পরিষেবা রফতানি এবং ই-কমার্স। বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে ছোট ব্যবসার নিয়ম পালনের বোঝা কমানো।
সূত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য দৈনন্দিন কর প্রশাসনকে সহজ এবং স্বয়ংক্রিয় করা। করের হার পরিবর্তন, এমনকি ইউপিআই লেনদেনের মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআরের উপর জিএসটির বিষয়টিও আলোচ্যসূচিতে থাকছে না। ফলে ব্যবসায়ীদের কাছে বৈঠকের তাৎপর্য মূলত নথিপত্র, রিটার্ন, কর-ছাড় ও টাকা ফেরতের প্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য স্বস্তি।
প্রক্রিয়াগত সংস্কারের ক্ষেত্রে ক্রেতা ও বিক্রেতার চালানের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেলানোর ব্যবস্থা উন্নত করার প্রস্তাব রয়েছে। তথ্য সংশোধিত হলে ক্রেতার বৈদ্যুতিন হিসাবেও তার প্রতিফলন ঘটবে। এতে চালানের গরমিল নিয়ে নোটিস এবং কর-ছাড়ের দাবি যাচাইয়ের জট কমতে পারে। অর্থ মন্ত্রকের সূত্র অনুসারে, বর্তমানে প্রায় ৬১ শতাংশ নতুন জিএসটি নিবন্ধন তিন কর্মদিবসের মধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত হয়। অবশিষ্ট ক্ষেত্রেও অপ্রয়োজনীয় নথি চাওয়া এবং খামখেয়ালি প্রত্যাখ্যান কমানোর উদ্যোগ রয়েছে।
কাঠামোগত সংস্কারের বড় বিষয় ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট বা ব্যবসার উপকরণ কেনার সময় দেওয়া করের সমন্বয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রকৃত ক্রেতার কাছে বৈধ চালান থাকলে, তিনি পণ্য পেয়ে থাকলে এবং করসমেত সম্পূর্ণ দাম সরবরাহকারীকে মিটিয়ে দিলে তাঁর প্রাপ্য ক্রেডিট বজায় থাকবে। সরবরাহকারী সরকারের কাছে কর জমা না দিলে তার দায়ে ওই ক্রেতার সুবিধা আটকে রাখা হবে না। ব্যবসার সাধারণ খরচের আরও কিছু ক্ষেত্রকেও ক্রেডিটের আওতায় আনার ভাবনা রয়েছে।
কর ফেরতের ক্ষেত্রেও সময় বেঁধে দেওয়ার প্রস্তাব থাকছে। আবেদন জমা পড়ার দশ দিনের মধ্যে প্রাপ্তিস্বীকার এবং ঝুঁকি যাচাইয়ের পরে দাবিকৃত অর্থের ৯০ শতাংশ দ্রুত ছাড়ার ব্যবস্থা বিবেচনাধীন। প্রয়োজনীয় তথ্য শুল্ক ও ব্যাঙ্কের তথ্যভান্ডার থেকে সংগ্রহ করা গেলে একই নথি বারবার জমা দেওয়ার ঝঞ্ঝাট কমবে। ব্যবসায় আটকে থাকা অর্থও দ্রুত ফেরত আসতে পারে।
ছোট করদাতাদের জন্য আরেকটি উল্লেখযোগ্য প্রস্তাব বছরে একবার রিটার্ন দাখিলের সুযোগ। তবে এটি বিশেষভাবে তাঁদের জন্য বিবেচিত হচ্ছে, যাঁরা কেবল সরাসরি উপভোক্তাদের পণ্য বা পরিষেবা দেন। পাশাপাশি, পদ্ধতিগত ত্রুটির কারণে স্থগিত নিবন্ধন সংশ্লিষ্ট ভুল সংশোধনের পরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে অনুমোদনের অপেক্ষায় ব্যবসা বন্ধ থাকার সমস্যা কমতে পারে। ব্যবসা বন্ধ করার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াও সহজ করার ভাবনা রয়েছে।
পরিষেবা রফতানিতে বিদেশি শাখার মাধ্যমে বিদেশের ক্রেতাকে বিল পাঠালেই রফতানির মর্যাদা হারানোর সমস্যা দূর করার প্রস্তাব রয়েছে। বিদেশি গ্রাহকের জন্য ভারতে সম্পন্ন গবেষণা, পরীক্ষা, শংসাপত্র প্রদান বা মেরামতির মতো পরিষেবার কর-ব্যবস্থাতেও স্পষ্টতা আনার কথা। রফতানির টাকা পাওয়ার প্রমাণসংক্রান্ত শর্ত রিজার্ভ ব্যাঙ্কের বিদেশি মুদ্রা বিধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার পরিকল্পনাও রয়েছে। এতে একই লেনদেনের জন্য একাধিক ধরনের প্রমাণ দেওয়ার চাপ কমতে পারে।
ই-কমার্সে ছোট বিক্রেতাদের নিজের রাজ্যে একবার নিবন্ধন ও যাচাইয়ের মাধ্যমে সারা দেশে অনলাইনে বিক্রির সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব থাকছে। বিভিন্ন রাজ্যে পৃথক নিবন্ধনের বোঝা কমানো এর উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে একই পরিষেবার ক্ষেত্রে অনলাইন সংস্থার চুক্তির ধরন বদলালেই করের ব্যবহার বদলে যাওয়ার অসঙ্গতি দূর করার ভাবনাও রয়েছে।
সব মিলিয়ে প্রস্তাবগুলির অভিমুখ হচ্ছে কম কাগজপত্র, দ্রুত নিষ্পত্তি এবং ছোট ব্যবসার খরচ কমানো। তবে এগুলি এখনও আলোচনার প্রস্তাব। কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত ও পরবর্তী কার্যকরী বিধি প্রকাশের পরেই সুবিধার নির্দিষ্ট পরিধি এবং বাস্তবায়নের সময় স্পষ্ট হবে। ছোট ব্যবসায়ীদের নজর তাই থাকবে ঘোষণার পাশাপাশি নিয়মগুলির বাস্তব প্রয়োগের দিকেও।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



