ঝুঁকি মেনেই এআই: অল্টম্যান

যা জানা জরুরি
- এআইয়ের সুফল ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে দিতে প্রযুক্তির কিছু ঝুঁকি মেনে নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী।
- তবে মানুষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর মতো চরম বিপদের ক্ষেত্রে আপসের পক্ষপাতী নন তিনি।
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য সুফল এতটাই বড় যে, তার জন্য কিছু ঝুঁকি মেনে নেওয়া উচিত—এমনটাই মনে করেন ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
এআইয়ের সুফল ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে দিতে প্রযুক্তির কিছু ঝুঁকি মেনে নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী। তবে মানুষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর মতো চরম বিপদের ক্ষেত্রে আপসের পক্ষপাতী নন তিনি।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য সুফল এতটাই বড় যে, তার জন্য কিছু ঝুঁকি মেনে নেওয়া উচিত—এমনটাই মনে করেন ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান। একই সঙ্গে প্রযুক্তিটি সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাক, সেটিও চান না তিনি।
পলিটিকোর প্রযুক্তিবিষয়ক উদ্যোগ ‘ডিকোডেড’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অল্টম্যানের বক্তব্য, সম্ভাব্য ক্ষতি পুরোপুরি ঠেকাতে গিয়ে মানুষের হাতে এআই ব্যবহারের ক্ষমতা সীমিত করে দেওয়া সঠিক পথ নয়।
তাঁর যুক্তি, বড় ধরনের হ্যাকিং, প্রতারণা বা অপব্যবহার একেবারেই ঘটবে না—এমন নিশ্চয়তার বিনিময়ে এআইয়ের সুবিধা কয়েকটি সংস্থার হাতে আটকে রাখা যায় না। বরং মানুষ এই প্রযুক্তি দিয়ে যতটা ক্ষতিকর কাজ করবে, তার তুলনায় বহুগুণ বেশি উপকারী কাজ করবে বলেই তাঁর বিশ্বাস। সেই সম্ভাবনাকে মাথায় রেখেই এআই নিয়ন্ত্রণের কাঠামো তৈরি করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।
অ্যানথ্রপিকের সঙ্গে কোথায় ফারাক?
প্রতিদ্বন্দ্বী সংস্থা অ্যানথ্রপিকের সঙ্গে ওপেনএআইয়ের দৃষ্টিভঙ্গির একটি মৌলিক পার্থক্য রয়েছে বলেও জানিয়েছেন অল্টম্যান। বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে বলে শক্তিশালী এআই প্রযুক্তিকে সান ফ্রান্সিসকোর একটি পরীক্ষাগারের নিয়ন্ত্রণে রেখে তারাই ঠিক করবে কে কতটা সুবিধা পাবে—এমন ব্যবস্থার বিরোধিতা করেছেন তিনি।
তবে এটি অ্যানথ্রপিকের অবস্থান সম্পর্কে অল্টম্যানের ব্যাখ্যা। সংস্থাটির নিজস্ব ঘোষণার সরাসরি উদ্ধৃতি নয়।
আবার ‘কিছু ঝুঁকি মেনে নেওয়া’ মানেই যে সব ধরনের বিপদের অনুমোদন, তা-ও নয়। বিজনেস ইনসাইডার-এ প্রকাশিত সাক্ষাৎকারভিত্তিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিপর্যয়কর ঝুঁকি নেওয়ার পক্ষপাতী নন অল্টম্যান। বিশেষ করে এআইয়ের উপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ গুরুতর ভাবে হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাকে গ্রহণযোগ্য বলে মনে করেন না তিনি।
অর্থাৎ, সাধারণ অপব্যবহার এবং এমন বিপদ, যেখানে মানুষই প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলতে পারে—এই দু’টিকে আলাদা করে দেখছেন ওপেনএআইয়ের কর্তা।
নিয়ন্ত্রণে কি বদলেছে ওপেনএআই?
নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রপিকের দূরত্ব অবশ্য সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা কমেছে। অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই সবচেয়ে উন্নত এআই ব্যবস্থার বিকাশের গতি কমানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। অল্টম্যানও সেই অবস্থানকে সমর্থন করেন।
এ ছাড়া ওপেনএআই আগের তুলনায় কঠোর নিরাপত্তাবিধিসম্পন্ন কয়েকটি রাজ্য আইনের পক্ষেও দাঁড়িয়েছে। বড় এআই সংস্থাগুলিতে বাইরের নিরাপত্তা মূল্যায়নকারীদের যুক্ত করার বিষয়ে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের একটি দ্বিদলীয় প্রস্তাবেও সংস্থাটির প্রতিনিধিরা সমর্থন জানিয়েছেন।
তবে এই পরিবর্তনের পরেও অপেক্ষাকৃত কম কড়াকড়ির নিয়ন্ত্রণের পক্ষেই রয়েছেন অল্টম্যান।
তাঁর অবস্থানে তাই দুটি লক্ষ্য পাশাপাশি রয়েছে—এক দিকে এআইয়ের সুবিধা যত বেশি সম্ভব মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া, অন্য দিকে চরম বিপর্যয়ের সম্ভাবনা ঠেকানো।
কতটা ঝুঁকি ‘গ্রহণযোগ্য’?
সাক্ষাৎকারে এআই দিয়ে স্বয়ংক্রিয় হ্যাকিং, সংস্থাগুলির আইনি দায় এবং প্রযুক্তি ব্যবসার রাজনৈতিক প্রভাবের মতো বিষয়ও উঠে এসেছে।
ফলে ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের মতপার্থক্যকে ‘নিয়ন্ত্রণের পক্ষে’ বনাম ‘নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে’ হিসেবে দেখলে ছবিটা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। আসল প্রশ্ন বরং—কতটা নিয়ন্ত্রণ থাকবে, কোন পর্যায়ে নিরাপত্তা পরীক্ষা হবে এবং কারা উন্নত এআই ব্যবহারের সুযোগ পাবে।
এই বিতর্কের মধ্যেই গবেষকদের উদ্বেগও বাড়ছে।
২৯ সেপ্টেম্বরের রয়টার্সের প্রতিবেদনে ওপেনএআই ও গুগল ডিপমাইন্ডের বর্তমান ও প্রাক্তন গবেষকদের সতর্কবার্তা উঠে আসে। তাঁদের আশঙ্কা, নিজেকে আরও উন্নত করতে সক্ষম এআই তৈরির প্রতিযোগিতায় নিরাপত্তার প্রস্তুতি পিছিয়ে পড়ছে।
বিশেষ উদ্বেগ এমন ব্যবস্থাকে ঘিরে, যা খুব কম মানবীয় হস্তক্ষেপেই ক্রমাগত নতুন ক্ষমতা অর্জন করতে পারে। তাঁদের বক্তব্য, প্রযুক্তির গতি যত বাড়ছে, সম্ভাব্য পরিণতি বোঝা এবং কার্যকর তদারকির ব্যবস্থা গড়ে তোলাও তত জরুরি হয়ে পড়ছে।
শেষ প্রশ্নটা কার?
অল্টম্যানের বক্তব্য শেষ পর্যন্ত এআই নিয়ন্ত্রণের একটি কঠিন প্রশ্ন সামনে আনে—গ্রহণযোগ্য ঝুঁকির সীমা ঠিক করবে কে?
প্রযুক্তি নির্মাতা, সরকার এবং ব্যবহারকারীর স্বার্থ সব সময় এক হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। এআইয়ের সুফল বহু মানুষের কাছে পৌঁছতে পারে, কিন্তু তার ক্ষতির বোঝা পড়তে পারে নির্দিষ্ট ব্যক্তি, সংস্থা বা সম্প্রদায়ের উপর।
তাই শুধু মোট লাভের হিসাব করলেই বিতর্ক শেষ হয় না। ক্ষতি কী ভাবে ঠেকানো হবে, ভুল হলে দায় নেবে কে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ কী ভাবে প্রতিকার পাবেন—সেই প্রশ্নগুলিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
এআইকে সহজলভ্য রাখা এবং নিরাপদ রাখা—এই দুই লক্ষ্য বাস্তবে কী ভাবে একসঙ্গে পূরণ করা যায়, এখন সেটিই বড় প্রশ্ন। সুফলের সম্ভাবনা যেমন আলোচনায় থাকবে, তেমনই কতটা ঝুঁকি নেওয়া হবে সেই সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের মতামতের জায়গাটিও কতটা থাকবে, তা নিয়েও বিতর্ক চলবে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



