খবর

সংসদের নিরাপত্তার দায়িত্বেও মানসিক মূল্যায়ন, সিআইএসএফের উদ্যোগ

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • সংসদ ভবন-সহ অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তায় নিযুক্ত সিআইএসএফ কর্মীদের বিশেষ মনস্তাত্ত্বিক মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
  • সংসদ ভবন চত্বরে মোতায়েনের জন্য যাঁদের নাম বিবেচিত হচ্ছে, তাঁরাও এই প্রক্রিয়ার আওতায় আসবেন।
  • কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা দ্রুত চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনমতো পেশাদার চিকিৎসার ব্যবস্থা করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য বলে বাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

সংসদ ভবন-সহ অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তায় নিযুক্ত সিআইএসএফ কর্মীদের বিশেষ মনস্তাত্ত্বিক মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সংসদ ভবন চত্বরে মোতায়েনের জন্য যাঁদের নাম বিবেচিত হচ্ছে, তাঁরাও এই প্রক্রিয়ার আওতায় আসবেন। কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা দ্রুত চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনমতো পেশাদার চিকিৎসার ব্যবস্থা করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য বলে বাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে।

এই উদ্দেশ্যে দিল্লির ইনস্টিটিউট অব হিউম্যান বিহেভিয়ার অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেস বা ইহবাসের সঙ্গে তিন বছরের সমঝোতাপত্র স্বাক্ষর করেছে কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনী। ২৫ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার এই চুক্তি হয়। বাহিনীর মুখপাত্র জানান, কর্মীদের পেশাগত চাপ সামলানো এবং মানসিক সুস্থতার জন্য চলতি ব্যবস্থার সঙ্গে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা ও মনোরোগসংক্রান্ত পরিষেবাকে যুক্ত করবে এই সহযোগিতা।

চুক্তি অনুযায়ী, অত্যন্ত সংবেদনশীল ইউনিটের কর্মীদের বিশেষ সাইকোমেট্রিক মূল্যায়ন করবে ইহবাস। পাশাপাশি বাহিনীর চিকিৎসক এবং বিভিন্ন ইউনিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। কারও আচরণে প্রাথমিক পরিবর্তন, তীব্র মানসিক চাপের লক্ষণ কিংবা জরুরি মনোরোগজনিত পরিস্থিতি দেখা দিলে তাঁরা যাতে তা চিনতে পারেন এবং দ্রুত বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়ার ব্যবস্থা করেন, সেই প্রস্তুতিই দেওয়া হবে।

যে কর্মীদের বিশেষজ্ঞের চিকিৎসা প্রয়োজন, তাঁরা ইহবাসের বহির্বিভাগ এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসার পরিষেবা সরাসরি নিতে পারবেন। কাউন্সেলিংয়ের পাশাপাশি অ্যালকোহল-নির্ভরতার সমস্যায় আক্রান্ত কর্মীদের জন্যও বিশেষ সহায়তা থাকবে। ফলে এই কর্মসূচির পরিসর মূল্যায়ন থেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পর্যন্ত বিস্তৃত। কর্মীদের সমস্যা চিহ্নিত হওয়ার পরে উপযুক্ত পরিষেবার সঙ্গে তাঁদের সংযোগ ঘটানোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বাহিনীর বিভিন্ন স্তরে পৌঁছে দিতে প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করবে ইহবাস। বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত সিআইএসএফ কর্মীরা পরে বিভিন্ন ইউনিটে সেই জ্ঞান ছড়িয়ে দেবেন। মাঠপর্যায়ে বিশেষজ্ঞদের সহায়তা পৌঁছতেই এই ব্যবস্থা। সচেতনতা এবং প্রাথমিক লক্ষণ চেনার প্রশিক্ষণকে তাই একই পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে।

সিআইএসএফের মানসিক সুস্থতা কর্মসূচিতে ইতিমধ্যেই হার্টফুলনেস ইনস্টিটিউটের সঙ্গে চাপ মোকাবিলার সহযোগিতা রয়েছে। আদিত্য বিড়লা এডুকেশন ট্রাস্টের এমপাওয়ারের সঙ্গে ‘প্রজেক্ট মন’-ও চলছে। ওই উদ্যোগে মানসিক সমস্যা নিয়ে সাহায্য চাইতে উৎসাহ দেওয়া এবং তা ঘিরে সামাজিক সংকোচ দূর করার উপরে গুরুত্ব দেওয়া হয়। নতুন চুক্তি এই উদ্যোগগুলির সঙ্গে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসার সংযোগ আরও বাড়াবে।

সমঝোতা স্বাক্ষরের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিআইএসএফের ডিরেক্টর জেনারেল প্রবীর রঞ্জন। তাঁর বক্তব্য, বাহিনীর সদস্যদের অত্যন্ত চাপপূর্ণ পরিবেশে বিপুল দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হয়। ইহবাসের সহযোগিতা সমস্যার প্রাথমিক শনাক্তকরণ, পেশাদার কাউন্সেলিং এবং সময়মতো চিকিৎসার ব্যবস্থা শক্তিশালী করবে। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য হেল্পলাইন ১৪৪১৬-এর পরিষেবা সম্পর্কেও কর্মীদের সচেতন করা হবে বলে বাহিনীর মুখপাত্র জানিয়েছেন।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন সিআইএসএফের সদস্যসংখ্যা প্রায় দুই লক্ষ। সত্তরের বেশি অসামরিক বিমানবন্দর ছাড়াও পরমাণু শক্তি, মহাকাশ, কয়লা এবং বিদ্যুৎ ক্ষেত্রের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো রক্ষা করে এই বাহিনী। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন এবং কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার দায়িত্বও তাদের হাতে। এই দায়িত্বের প্রেক্ষিতেই মানসিক স্বাস্থ্যে নজর বাড়ছে।

এদিকে, ২৯ সেপ্টেম্বর জম্মু ও কাশ্মীরের কাঠুয়ায় এক সিআইএসএফ হেড কনস্টেবলের বিরুদ্ধে গুলি চালিয়ে এক অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্ট-সহ চার সহকর্মীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। তবে ইহবাসের সঙ্গে চুক্তিটি ওই ঘটনার চার দিন আগেই স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ফলে এই মূল্যায়ন কর্মসূচিকে কাঠুয়ার ঘটনার পরে নেওয়া সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখানো ঠিক হবে না।

নতুন ব্যবস্থায় সংবেদনশীল দায়িত্বে কর্মী মোতায়েনের প্রস্তুতির পাশাপাশি তাঁদের চিকিৎসা পাওয়ার পথও গুরুত্ব পাচ্ছে। পরিকল্পনার বাস্তব তাৎপর্য হবে, প্রয়োজনের সময়ে একজন কর্মী কত দ্রুত প্রশিক্ষিত আধিকারিক ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সহায়তা পান। মূল্যায়নের সঙ্গে চিকিৎসার এই যোগসূত্র কার্যকর রাখাই বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ দিক। সহায়তা চাইতে কর্মীদের আস্থাও প্রয়োজন। প্রশিক্ষণ, সচেতনতা এবং চিকিৎসা তখনই কাজে আসবে, যখন পরিষেবা প্রয়োজন থাকা মানুষের কাছে পৌঁছবে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles