তৃণমূলের নাম-প্রতীক বিতর্কে তিন মাসের সীমা, এআই ব্যবহারের পরামর্শ সুপ্রিম কোর্টের

যা জানা জরুরি
- তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও জোড়াফুল প্রতীকের অধিকার নিয়ে দুই শিবিরের বিরোধ নিষ্পত্তিতে নির্বাচন কমিশনকে সময়সীমা বেঁধে দিল সুপ্রিম কোর্ট।
- সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, উভয় পক্ষের বক্তব্য ও নথি জমার প্রক্রিয়া…
- তবে এই তিন মাসের হিসাব আদালতের নির্দেশের দিন থেকেই শুরু হচ্ছে না।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও জোড়াফুল প্রতীকের অধিকার নিয়ে দুই শিবিরের বিরোধ নিষ্পত্তিতে নির্বাচন কমিশনকে সময়সীমা বেঁধে দিল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, উভয় পক্ষের বক্তব্য ও নথি জমার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরে তিন মাসের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে কমিশনকে।
তবে এই তিন মাসের হিসাব আদালতের নির্দেশের দিন থেকেই শুরু হচ্ছে না। প্রথমে দুই পক্ষকে হলফনামা, অতিরিক্ত নথি এবং পাল্টা হলফনামা জমা দেওয়ার জন্য চার সপ্তাহ দেওয়া হয়েছে। তার পরে কমিশনের সিদ্ধান্তের জন্য তিন মাস। ফলে গোটা প্রক্রিয়ার জন্য কার্যত প্রায় চার মাসের সময় নির্ধারিত হল। আগের শুনানিতে আদালত কমিশনের কাছে জানতে চেয়েছিল, চূড়ান্ত নিষ্পত্তিতে কত সময় লাগবে।
শুনানিতে কমিশন ছয় মাস সময় চাইলেও বেঞ্চ তা মঞ্জুর করেনি। বিচারপতি বাগচী জানান, তিন মাস যথেষ্ট। বিপুল নথি দ্রুত পড়া ও পরীক্ষা করার কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং মেশিন লার্নিং ব্যবহারের পরামর্শও দেন তিনি। প্রযুক্তির সাহায্যে মামলার নিষ্পত্তি ত্বরান্বিত করার সম্ভাবনার কথা ওঠে আদালতে।
কমিশনের আইনজীবী ডি এস নাইডু অবশ্য প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের বিরোধে দলীয় কর্মী, সদস্য এবং সমর্থকেরা নিজ নিজ শিবিরের পক্ষে লক্ষ লক্ষ হলফনামা দাখিল করেন। সেগুলি পরীক্ষা করতে সময় লাগে। এআই কিছুটা সাহায্য করতে পারলেও পুরো সমস্যার সমাধান করতে পারে না। সেই কারণেই নথি জমা শেষ হওয়ার দিন থেকে সময় গণনার আর্জি জানান তিনি।
নথির সংখ্যা ছাড়াও সেগুলির সত্যতা যাচাইয়ের প্রশ্ন তোলেন কমিশনের আইনজীবী। কোনও হলফনামা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আদৌ দিয়েছেন কি না, অন্য কেউ তাঁর পরিচয় ব্যবহার করেছেন কি না, কিংবা জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে কি না—এসবও খতিয়ে দেখতে হয়। আদালত জানায়, কমিশন কোন পদ্ধতিতে কাজ করবে, তা নির্ধারণ করে দেওয়ার অভিপ্রায় বেঞ্চের নেই। তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে দুই পক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন। এই সহযোগিতার উপরও দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর প্রক্রিয়া অনেকটাই নির্ভর করবে।
মামলাটি করেছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলের প্রতিষ্ঠাতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের মধ্যে কমিশন অন্তর্বর্তী নির্দেশে ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং সংরক্ষিত জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহারে দুই শিবিরের উপরই নিষেধাজ্ঞা জারি করে। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন মমতা। মূল নাম ও প্রতীকের দাবি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও বাকি।
ইতিমধ্যে মমতার শিবিরকে ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক দেওয়া হয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বী শিবির পেয়েছে ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ও ‘খাম’ প্রতীক। আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে বিধানসভা উপনির্বাচন, গণনা ৯ অক্টোবর। এই নির্বাচনী পরিস্থিতিতে দলের পরিচিত নাম ও প্রতীকের ব্যবহার নিয়ে বিরোধের তাৎপর্য আরও বেড়েছে। দুই শিবিরের পৃথক পরিচয় এখন ভোটের লড়াইয়েরও অংশ।
মমতার পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়, তাঁরা কমিশনের নোটিসের জবাব দিয়েছেন, কিন্তু প্রতিপক্ষ তখনও তা দেয়নি। অন্যদিকে কমিশন আসন্ন কয়েকটি রাজ্যের নির্বাচনের প্রস্তুতির জন্যও লোকবল ও সময় প্রয়োজন বলে উল্লেখ করে। বেঞ্চ সময়সীমা বাড়ায়নি; তবে অত্যন্ত ব্যতিক্রমী জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে কমিশন ফের আদালতের কাছে আসতে পারবে বলে জানিয়েছে।
সোমবারের নির্দেশের তাৎপর্য তাই নিষ্পত্তির নির্দিষ্ট পথরেখা তৈরিতে। কমিশনের সামনে দুই পক্ষের দাবি, সমর্থনের নথি এবং হলফনামা যাচাইয়ের কাজ রয়েছে। প্রযুক্তি ব্যবহারের পরামর্শ এসেছে সেই কাজ দ্রুত করার প্রসঙ্গে। আদালতের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, প্রক্রিয়া পরিচালনার দায়িত্ব কমিশনেরই থাকছে। নির্ধারিত সময় মানার পাশাপাশি উভয় পক্ষের বক্তব্য বিবেচনা করেই তাকে নাম ও প্রতীকের বিরোধের মীমাংসায় পৌঁছতে হবে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



