বসতি-যোগে ৬১ সংস্থা

যা জানা জরুরি
- প্রতিবেদন অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইজরায়েলি বসতিগুলির সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কের অভিযোগে আরও ৬১টি সংস্থাকে কালো তালিকাভুক্ত করল রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার দফতর।
- অভিযোগ, এই বাণিজ্যিক যোগসূত্রের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে সংস্থাগুলি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে যুক্ত।
- নতুন করে ৬১টি নাম যুক্ত হওয়ায় রাষ্ট্রপুঞ্জের হালনাগাদ তালিকায় ১১টি দেশের মোট ২১৪টি সংস্থা রয়েছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
প্রতিবেদন
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইজরায়েলি বসতিগুলির সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কের অভিযোগে আরও ৬১টি সংস্থাকে কালো তালিকাভুক্ত করল রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার দফতর। অভিযোগ, এই বাণিজ্যিক যোগসূত্রের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে সংস্থাগুলি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে যুক্ত।
নতুন করে ৬১টি নাম যুক্ত হওয়ায় রাষ্ট্রপুঞ্জের হালনাগাদ তালিকায় ১১টি দেশের মোট ২১৪টি সংস্থা রয়েছে। তালিকার সিংহভাগই ইজরায়েলি সংস্থা। গত বছরের তালিকায় থাকা ১৫৮টি সংস্থার মধ্যে পাঁচটির নাম এ বার বাদ দেওয়া হয়েছে।
ইজরায়েলি বসতিগুলির সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে, এমন সংস্থাগুলির উপর নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ শুরু হয়েছিল রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার পরিষদের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে। প্রথম তালিকা প্রকাশিত হয় ২০২০ সালে। তবে তালিকায় নাম থাকার কারণে কোনও সংস্থার বিরুদ্ধে সরাসরি পদক্ষেপ করার ক্ষমতা মানবাধিকার পরিষদের নেই। নাম প্রকাশ করে জনমত ও ব্যবসায়িক চাপ তৈরি করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলির আর্থিক অবস্থার উপর এর ফলে কতটা প্রভাব পড়েছে, তা অবশ্য স্পষ্ট নয়।
রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক বলেন, এই তালিকা সংস্থাগুলিকে তাদের মানবাধিকার সংক্রান্ত দায়িত্বের কথা আবার মনে করিয়ে দিচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, মানবাধিকার লঙ্ঘন বা নির্যাতনের সঙ্গে যাতে কোনও সংস্থা যুক্ত না হয়, তা নিশ্চিত করতে তাদের যথাযথ যাচাই ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
রাষ্ট্রপুঞ্জের এই সিদ্ধান্ত অবশ্য ইজরায়েল প্রত্যাখ্যান করেছে। জেনিভায় ইজরায়েলের কূটনৈতিক মিশনের অভিযোগ, কোনও অন্যায় না-করা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলির বিরুদ্ধেই এই তথ্যভান্ডারকে “কালো তালিকা” হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ইজরায়েলি সংস্থাগুলিকে তালিকাভুক্ত করার এই উদ্যোগের বিরোধিতা করতে বন্ধু দেশগুলির কাছেও আহ্বান জানিয়েছে তারা।
অন্য দিকে, রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার দফতর জানিয়েছে, তালিকায় নাম তোলার আগে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। নিজেদের বক্তব্য জানানোর সুযোগও দেওয়া হয়েছিল তাদের।
অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইজরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ার মধ্যেই প্রকাশিত হল এই হালনাগাদ তালিকা। বসতিগুলির সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের বিষয়টি গত কয়েক মাসে একাধিক দেশের নীতিতেও প্রভাব ফেলেছে।
চলতি মাসের গোড়ায় অধিকৃত পশ্চিম তীরের ইজরায়েলি বসতিগুলির সঙ্গে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করেছে ব্রিটেন। ব্রিটিশ সরকারের অভিযোগ, সেখানে “বসতি স্থাপনকারী সন্ত্রাসবাদীরা” ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে “জাতিগত নির্মূল অভিযান” চালাচ্ছে। ফ্রান্স ও কানাডাও একই ধরনের পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে।
ফলে রাষ্ট্রপুঞ্জের তালিকা শুধু আরও ৬১টি নাম যোগ হওয়ার ঘটনা নয়। ইজরায়েলি বসতিগুলিকে ঘিরে ব্যবসা, মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নও যে ক্রমশ আরও বড় কূটনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠছে, নতুন তালিকায় তারই ইঙ্গিত মিলছে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



