খবর

ডিএ বাড়ানোর ঘোষণাতেও মিটল না বকেয়া: পঞ্জাবের মুখ্যসচিবকে আদালতে তলব

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • রাজ্য সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা নিয়ে পঞ্জাব সরকারের উপর নতুন চাপ তৈরি হল।
  • ২২ সেপ্টেম্বর পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট মুখ্যসচিবকে পরবর্তী শুনানিতে ব্যক্তিগতভাবে হাজির থাকতে বলেছে।
  • আদালতের বক্তব্য, আগের নির্দেশ পালিত হয়েছে—এমন হলফনামা জমা পড়েনি।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

রাজ্য সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা নিয়ে পঞ্জাব সরকারের উপর নতুন চাপ তৈরি হল। ২২ সেপ্টেম্বর পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট মুখ্যসচিবকে পরবর্তী শুনানিতে ব্যক্তিগতভাবে হাজির থাকতে বলেছে। আদালতের বক্তব্য, আগের নির্দেশ পালিত হয়েছে—এমন হলফনামা জমা পড়েনি। সুপ্রিম কোর্টে প্রতিকার চাওয়ার অধিকার সরকারের আছে, কিন্তু সেই কারণ দেখিয়ে বর্তমান কার্যধারা অনির্দিষ্টকাল পিছিয়ে দেওয়া যায় না। পরবর্তী শুনানি ৫ অক্টোবর।

এই পদক্ষেপের পটভূমিতে রয়েছে ৩ আগস্টের রায়। সেখানে রাজ্য এবং পঞ্জাব স্টেট পাওয়ার কর্পোরেশন লিমিটেডের আবেদন খারিজ করে কর্মীদের প্রাপ্য দেওয়ার নির্দেশ বহাল রাখা হয়েছিল। নির্দিষ্ট কেন্দ্রীয় কাঠামো মেনে ডিএ দেওয়ার নীতি রাজ্য নিজেই গ্রহণ করার পরে সেই কাঠামোয় জমা হওয়া প্রাপ্য অনির্দিষ্টকাল আটকে রাখা যায় কি না—মামলার মূল প্রশ্ন ছিল সেটিই। বর্তমান শুনানি নতুন করে ভাতার অধিকার নির্ধারণের নয়, প্রতিষ্ঠিত নির্দেশের বাস্তবায়ন নিয়ে।

অগস্টের মূল রায়ে বকেয়া কিস্তি ছাড়ার জন্য অতিরিক্ত দুই সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়। সময় পেরোলে অপরিশোধিত অর্থে বছরে ছয় শতাংশ সরল সুদ এবং ৩১ আগস্টের মধ্যে মুখ্যসচিবের হলফনামা দেওয়ার কথাও ছিল। আদালত বড় বিজ্ঞাপন প্রচারের মতো অনুৎপাদক ব্যয়ের বিষয়েও সীমা আরোপ করেছিল। ফলে কেবল আলোচনা চলছে বললে হবে কি না, নতুন শুনানিতে সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে।

মামলাকারীদের বক্তব্য, সরকার সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করলেও নথিতে চিহ্নিত ত্রুটিগুলি দূর করার কাজে যথেষ্ট তৎপর হয়নি। তাঁরা স্বাধীনতা দিবসে বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত বিজ্ঞাপনের বিষয়ও আদালতে তোলেন। এগুলি মামলাকারীদের অভিযোগ; বিজ্ঞাপন নিয়ে আদালত অবমাননার চূড়ান্ত দোষসিদ্ধি হয়েছে, এমন নয়। বিচারপতি অশ্বনী কুমার মিশ্র ও বিচারপতি রোহিত কাপুরের বেঞ্চ আপাতভাবে নির্দেশ অমান্য হওয়ার বিষয়টি নথিভুক্ত করে ব্যক্তিগত হাজিরার নির্দেশ দিয়েছে।

রাজ্যের তরফে বলা হয়েছে, কর্মী সংগঠনের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক হয়েছে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা মেটানোর চেষ্টা চলছে। আবেদনপত্রের ত্রুটি দূর করতে আরও সময়ও চাওয়া হয়। ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্ট থেকে সুরক্ষা পেলে মুখ্যসচিবের হাজিরার বিষয়ে ব্যতিক্রম হতে পারে। অর্থাৎ উচ্চতর আদালতে যাওয়ার পথ খোলা আছে; কিন্তু সেই পথ গ্রহণ এবং কার্যকর স্থগিতাদেশ পাওয়া এক বিষয় নয়।

এর চার দিন আগে, ১৮ সেপ্টেম্বর, কর্মী ও পেনশনভোগীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পরে সরকার আট শতাংশ ডিএ বৃদ্ধিতে সম্মতি জানায়। অক্টোবর থেকে দুই কিস্তিতে তা কার্যকর করার কথা জানানো হয়েছিল। নতুন বৃদ্ধি ভবিষ্যতের প্রাপ্যে স্বস্তি আনতে পারে, কিন্তু জমে থাকা বকেয়া নিষ্পত্তির প্রশ্ন তার থেকে আলাদা। সেই পার্থক্যটি না-করলে সরকারি ঘোষণার পরে মামলা কেন চলছে, তা বোঝা কঠিন।

এই বিরোধে একটি সংখ্যার বদলে তিনটি হিসাব জরুরি: বর্তমানে কোন হারে ভাতা দেওয়া হচ্ছে, অতীতের কত টাকা প্রাপ্য রয়ে গেছে এবং কোন সময়ের মধ্যে সেই টাকা মেটানোর বাধ্যবাধকতা আছে। প্রথমটির ঘোষণা দিয়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়া যায় না। কর্মীর মাসিক বেতনের পরিবর্তন এবং বহু বছরের পাওনা ফেরত পাওয়া বাস্তবেও আলাদা ঘটনা।

রাজ্যের অর্থাভাবের যুক্তি নীতিনির্ধারণে প্রাসঙ্গিক। কিন্তু নিজে গৃহীত নীতিতে তৈরি দায় পালনের প্রশ্নে আদালত সেই যুক্তির সীমা টেনেছে। এখন বিচার্য হবে সরকারের নির্দিষ্ট পদক্ষেপ: কত টাকা ছাড়া হয়েছে, কোন অংশ অবশিষ্ট এবং তার নথি কোথায়। মুখ্যসচিবকে তলব সেই জবাবদিহির ধাপ, শাস্তি ঘোষণার সমার্থক নয়।

পরবর্তী শুনানিতে তাই রাজনৈতিক আশ্বাসের চেয়ে লিখিত হিসাব গুরুত্বপূর্ণ হবে। সমঝোতা হলে তার শর্ত, কর্মীদের সম্মতি এবং আদালতের নির্দেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য স্পষ্ট করতে হবে। আর উচ্চতর আদালত নির্দেশ বদলালে সেই পরিবর্তনের পরিধিও আলাদা করে দেখতে হবে। আপাতত নতুন খবরটি হল, বকেয়া মেটানোর আলোচনাকে যথেষ্ট ধরে আদালত অপেক্ষা করতে রাজি নয়।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles