খবর

অপহরণের নাটক খুলে দিল ভুয়ো বিশ্ববিদ্যালয়ের দরজা

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বাংলাস্ফিয়ার: নিখোঁজ ভাইকে উদ্ধারের জন্য দু’লক্ষ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়েছে—উত্তরপ্রদেশের এটায় ১৬ সেপ্টেম্বর এই অভিযোগই করেছিলেন রাম সেবক।
  • পুলিশ আগ্রায় গিয়ে তাঁর ভাই সতেন্দ্র কুমারকে উদ্ধারের পরে কাহিনি অন্য দিকে মোড় নেয়।
  • তদন্তকারীদের দাবি, অপহরণটি ছিল সাজানো; নিজের পরিচালিত ভুয়ো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রদের টাকা ফেরতের চাপ থেকে বাঁচতেই সতেন্দ্র ঘটনাটি বানিয়েছিলেন।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বাংলাস্ফিয়ার: নিখোঁজ ভাইকে উদ্ধারের জন্য দু’লক্ষ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়েছে—উত্তরপ্রদেশের এটায় ১৬ সেপ্টেম্বর এই অভিযোগই করেছিলেন রাম সেবক। পুলিশ আগ্রায় গিয়ে তাঁর ভাই সতেন্দ্র কুমারকে উদ্ধারের পরে কাহিনি অন্য দিকে মোড় নেয়। তদন্তকারীদের দাবি, অপহরণটি ছিল সাজানো; নিজের পরিচালিত ভুয়ো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রদের টাকা ফেরতের চাপ থেকে বাঁচতেই সতেন্দ্র ঘটনাটি বানিয়েছিলেন। সেই সূত্র ধরে ‘বি এস মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড ইউনিভার্সিটি’ নামে চলা প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি হয় এবং সতেন্দ্রসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগগুলি এখন তদন্তাধীন; আদালতে এখনও প্রমাণিত হয়নি।

প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা ছিল চার বিঘা কৃষিজমির উপর একটি দশ-কক্ষের ভবন। পুলিশ গিয়ে দেখেছে, সেখানে নিয়মিত শ্রেণিকক্ষ, গবেষণাগার, গ্রন্থাগার তো দূরের কথা, ব্যবহারযোগ্য শৌচাগারও নেই। অথচ ডি ফার্মা, বিএসসি নার্সিং, ব্যাচেলর অব মেডিক্যাল ল্যাবরেটরি টেকনোলজি এবং অপটোমেট্রির মতো স্বাস্থ্য-সম্পর্কিত পাঠ্যক্রমে ভর্তি নেওয়া হত বলে অভিযোগ। ২০২২ সাল থেকে বিভিন্ন জেলার যুবকদের কাছ থেকে ফি নেওয়া হয়েছে। তল্লাশিতে ৫৪ জনের ভর্তির নথি, প্রশ্নপত্র, উত্তরপত্র, পরিচয়পত্র, রসিদ, জাল চেক, কম্পিউটার এবং প্রতিষ্ঠানের সিল পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

তদন্তে প্রতিষ্ঠানের পদাধিকারীদের পরিচয়ও প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয় এক চা-বিক্রেতাকে কাগজে বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান করা হয়েছিল বলে পুলিশের দাবি। চিকিৎসার কোনও স্বীকৃত যোগ্যতা নেই, এমন এক গ্রামীণ চিকিৎসককে মাসে তিন হাজার টাকা দিয়ে শিক্ষক হিসেবে দেখানো হত। কর্মকর্তাদের মতে, বাস্তবে পাঠদান হত না; ছাত্রদের পরীক্ষা ও শংসাপত্রের আশ্বাস দিয়ে সময় কাটানো হত। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরে কয়েকজন ছাত্র থানায় গিয়ে টাকা ফেরত ও দায়ীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

সতেন্দ্রের বিরুদ্ধে আগে চারটি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে আগের মামলা, বর্তমান অপহরণ-নাটক এবং শিক্ষা-প্রতারণার অভিযোগ আলাদা প্রমাণে বিচার করতে হবে। উদ্ধার হওয়া কাগজে বিশ্ববিদ্যালয় লেখা থাকলেই সেটি বিশ্ববিদ্যালয় নয়। ভারতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য কেন্দ্রীয় বা রাজ্য আইন, অথবা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের বিধি অনুসারে ঘোষিত মর্যাদা প্রয়োজন। স্বাস্থ্যশিক্ষার বিভিন্ন পাঠ্যক্রমে আবার সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার স্বীকৃতি, হাসপাতাল-সংযোগ, শিক্ষক ও পরিকাঠামোর পৃথক শর্ত থাকে।

এই ঘটনায় ৫৪টি নথি পাওয়া মানেই ঠিক ৫৪ জনই ক্ষতিগ্রস্ত—এমন সিদ্ধান্তও এখনই দেওয়া যাবে না। আরও আবেদনকারী, নগদ লেনদেন, দালাল বা অন্য নামে চালানো কেন্দ্র ছিল কি না, তা ব্যাঙ্ক হিসাব, ফোন ও ডিজিটাল নথি পরীক্ষা করে নির্ধারণ করতে হবে। ছাত্রদের দেওয়া কথিত শংসাপত্র কোথাও চাকরি বা পরবর্তী ভর্তিতে ব্যবহৃত হয়েছে কি না, সেটিও জনস্বাস্থ্য ও আইনি বৈধতার জন্য জরুরি প্রশ্ন।

ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্রদেরও এক ছাঁচে দেখা যাবে না। কেউ জালিয়াতির কথা না-জেনে ভর্তি হয়ে থাকতে পারেন, কেউ অস্বাভাবিক দ্রুত ডিগ্রির প্রতিশ্রুতি বুঝেও টাকা দিয়ে থাকতে পারেন। তদন্তের লক্ষ্য হওয়া উচিত মূল সংগঠক, অর্থগ্রহীতা ও নথি প্রস্তুতকারীদের ভূমিকা আলাদা করা। নিরীহ শিক্ষার্থীকে সাক্ষী বানিয়ে তাঁর জমা টাকা ও আসল নথি দ্রুত ফেরানো গেলে অভিযোগ জানাতে অন্যরাও সাহস পাবেন।

বিশ্লেষণ: ঘটনাটি শুধু অদ্ভুত অপহরণ-কাহিনি নয়। স্বাস্থ্যক্ষেত্রে ভুয়ো ডিগ্রি অন্য শিক্ষাপ্রতারণার চেয়ে বাড়তি বিপদ তৈরি করে, কারণ শেষে অযোগ্য ব্যক্তি রোগীর পরীক্ষা, ওষুধ বা পরিচর্যার দায়িত্ব পেতে পারেন। পুলিশি অভিযান অভিযুক্তকে ধরতে পারে; কিন্তু যাঁরা টাকা ও কয়েক বছর হারিয়েছেন, তাঁদের শিক্ষাগত পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের পথ আলাদা করে গড়তে হবে।

প্রতিরোধের সহজতম স্তর হল ভর্তির আগে নাম নয়, স্বীকৃতির আদেশ যাচাই। কমিশনের ভুয়ো বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা সহায়ক, কিন্তু তালিকায় নাম না-থাকাই বৈধতার নিশ্চয়তা নয়; নতুন প্রতারণা ধরা পড়ার আগে তালিকার বাইরে থাকতে পারে। অনুমোদন নম্বর, সংশ্লিষ্ট পরিষদের ওয়েবসাইট, শিক্ষক ও হাসপাতালের বাস্তব উপস্থিতি এবং ফি-র ব্যাঙ্ক রসিদ মিলিয়ে দেখা দরকার। এটায় একটি সাজানো অপরাধ অন্য একটি বড় প্রতারণার দরজা খুলেছে; স্বাভাবিক তদারকি আগে কাজ করলে ছাত্রদের সেই নাটকের অপেক্ষায় থাকতে হত না।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles