ঘোড়া গেল বেড়াতে

যা জানা জরুরি
- প্রতিবেদন: নিউ মেক্সিকোর সান্তা ফেতে ১৩ সেপ্টেম্বর ‘দেসফিলে দে লা হেন্তে’ শোভাযাত্রায় যোগ দেওয়ার কথা ছিল একটি ঘোড়ার।
- কিন্তু নির্ধারিত পথে ধীর পায়ে হাঁটার বদলে সে বেছে নিল একেবারে নিজের রুট!
- মালিকের কাছ থেকে বেরিয়ে শহরের রাস্তা ও মহাসড়কের দিকে ছুটতে শুরু করতেই তাকে থামাতে পুলিশকে নামাতে হল মোটরবাইক, সাইকেল, ড্রোন—এমনকি স্থানীয় এক কাউবয়কেও।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
প্রতিবেদন: নিউ মেক্সিকোর সান্তা ফেতে ১৩ সেপ্টেম্বর ‘দেসফিলে দে লা হেন্তে’ শোভাযাত্রায় যোগ দেওয়ার কথা ছিল একটি ঘোড়ার। কিন্তু নির্ধারিত পথে ধীর পায়ে হাঁটার বদলে সে বেছে নিল একেবারে নিজের রুট! মালিকের কাছ থেকে বেরিয়ে শহরের রাস্তা ও মহাসড়কের দিকে ছুটতে শুরু করতেই তাকে থামাতে পুলিশকে নামাতে হল মোটরবাইক, সাইকেল, ড্রোন—এমনকি স্থানীয় এক কাউবয়কেও।
সান্তা ফে পুলিশের প্রকাশিত আকাশপথের ছবি ও দেহক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, বাদামি-সাদা ঘোড়াটি কখনও ফুটপাত, কখনও গাড়ি চলাচলের রাস্তা ধরে এগিয়ে চলেছে। প্রায় ১২ মিনিট ধরে মোটরসাইকেল আরোহী পুলিশ তাকে যানবাহনের ভিড় থেকে নিরাপদ দিকে ঘোরানোর চেষ্টা করেন। আশপাশের গাড়িচালকেরাও গতি কমিয়ে পথ দেওয়ায় বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।
পুলিশ অবশ্য ঘোড়াটিকে গতি বাড়িয়ে ধাওয়া করেনি। এক পর্যায়ে মোটরসাইকেল ও নিজেদের শরীর দিয়েই কর্মকর্তারা তৈরি করেন এক ধরনের চলন্ত বেড়া। ঘোড়াটি ফের বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে হাত তুলে তার দিক বদলানো হয়। শেষ পর্যন্ত কাউবয়ের টুপি পরা এক ব্যক্তি দড়ি নিয়ে এগিয়ে এসে তাকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। আর অভিযান সফল হতেই পুলিশকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত হাততালি।
জল খাইয়ে ঘোড়াটিকে ফেরানো হয় শোভাযাত্রার শুরুর জায়গায়। মজার বিষয়, তাতেও তার সরকারি কর্মসূচি বাতিল হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, সে সময়মতো শোভাযাত্রায় যোগ দিতে পেরেছিল। অর্থাৎ মূল অনুষ্ঠানের আগে শহর ঘুরে নেওয়াটা তার কাছে হয়ে গেল একরকম ‘প্রি-প্যারেড’ অভিযান।
ঘটনাটি দেখতে হাস্যকর হলেও ঝুঁকি ছিল যথেষ্ট। আতঙ্কিত একটি ঘোড়া গাড়ির সামনে চলে গেলে প্রাণীটির পাশাপাশি চালক ও পথচারীরাও আহত হতে পারতেন। আবার দ্রুতগামী গাড়ি বা মোটরবাইক দিয়ে খুব কাছে থেকে ধাওয়া করলে ঘোড়ার ভয় আরও বাড়তে পারত। তাই ধীরে ধীরে পথ আটকে তাকে নিরাপদ দিকে নিয়ে যাওয়াই কাজে দিয়েছে।
সান্তা ফের ঐতিহ্যবাহী উৎসবগুলিতে ঘোড়া ও অশ্বারোহী সংস্কৃতির দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ফলে শেষ মুহূর্তে কাউবয়ের আবির্ভাব কোনও সাজানো দৃশ্য ছিল না। দক্ষ ঘোড়া-পরিচালকের অভিজ্ঞতাই শেষ পর্যন্ত কাজে এল। ড্রোন, দেহক্যামেরা আর মোটরবাইকের আধুনিক পুলিশি অভিযানের শেষে তাই জয় হল পুরনো দিনের দড়ির।
বিশ্লেষণ: ঘটনাটিকে শুধু ‘পুলিশ বনাম ঘোড়া’ হিসেবে দেখলে আসল বিষয়টি ধরা পড়বে না। ঘোড়াটি কোনও অপরাধী নয়। ভিড়, শব্দ বা বাঁধন থেকে ভয় পেয়ে প্রাণীটি ছুটে যেতে পারে। তাকে শাস্তি না দিয়ে নিরাপদে নিয়ন্ত্রণ করাই ছিল অভিযানের মূল সাফল্য।
তবে এই ঘটনার পর আয়োজকদেরও কিছু বিষয় খতিয়ে দেখা দরকার—ঘোড়াদের রাখার জায়গা কতটা নিরাপদ ছিল, শব্দ ও ভিড়ের মাত্রা কেমন ছিল এবং প্রশিক্ষিত সহকারী যথেষ্ট ছিল কি না। ঘোড়াটি শহর ঘুরে ঠিকই ফিরে এসেছে। এবার তার এই হঠাৎ ‘সোলো ট্রিপ’ থেকে মানুষ কিছু শিখলে পরের শোভাযাত্রা আরও নিরাপদ হতে পারে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



