অক্টোবর থেকে এনপিএসের নতুন মাশুল, ছোট অ্যাকাউন্টে খরচের অনুপাত বেশি

যা জানা জরুরি
- বাংলাস্ফিয়ার: জাতীয় পেনশন ব্যবস্থায় উপস্থিতি-কেন্দ্র বা পয়েন্ট অব প্রেজেন্সের মাধ্যমে খোলা অ্যাকাউন্টের মাশুল ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে বদলাচ্ছে।
- পেনশন নিয়ন্ত্রক পিএফআরডিএর সংশোধিত কাঠামোয় সাধারণ অ্যাকাউন্টের জন্য এককালীন অন্তর্ভুক্তি-মাশুল ২০০ টাকা এবং বার্ষিক সম্পদভিত্তিক মাশুল ০.২০ শতাংশ নির্ধারিত হয়েছে।
- এককালীন ২০০ টাকা সরাসরি শুরুতেই নেওয়ার বদলে প্রতি ত্রৈমাসিকে ৫০ টাকা করে ইউনিট বাতিলের মাধ্যমে আদায় করা হবে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
বাংলাস্ফিয়ার: জাতীয় পেনশন ব্যবস্থায় উপস্থিতি-কেন্দ্র বা পয়েন্ট অব প্রেজেন্সের মাধ্যমে খোলা অ্যাকাউন্টের মাশুল ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে বদলাচ্ছে। পেনশন নিয়ন্ত্রক পিএফআরডিএর সংশোধিত কাঠামোয় সাধারণ অ্যাকাউন্টের জন্য এককালীন অন্তর্ভুক্তি-মাশুল ২০০ টাকা এবং বার্ষিক সম্পদভিত্তিক মাশুল ০.২০ শতাংশ নির্ধারিত হয়েছে। প্রযোজ্য পণ্য ও পরিষেবা কর অতিরিক্ত।
এককালীন ২০০ টাকা সরাসরি শুরুতেই নেওয়ার বদলে প্রতি ত্রৈমাসিকে ৫০ টাকা করে ইউনিট বাতিলের মাধ্যমে আদায় করা হবে। বার্ষিক ০.২০ শতাংশ মাশুলও প্রতি ত্রৈমাসিকে নিট সম্পদমূল্যের সঙ্গে সমন্বয় হওয়ার কথা। অর্থাৎ গ্রাহক আলাদা বিল না-পেলেও তাঁর পেনশন সম্পদের কিছু ইউনিট খরচ মেটাতে ব্যবহৃত হতে পারে।
সম্পূর্ণ ডিজিটাল, মুখোমুখি যোগাযোগহীন অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্তে এককালীন মাশুল ১০০ টাকা হতে পারে। তবে সব অনলাইন নিবন্ধন স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই কম হারের যোগ্য—এমন নয়। কোন মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়েছে এবং পিএফআরডিএর শর্ত পূরণ হয়েছে কি না, তা দেখতে হবে।
অ্যাকাউন্ট খোলার সময় ন্যূনতম অবদান ২৫০ টাকা এবং পরবর্তী অবদানের ন্যূনতম অঙ্ক ১০ টাকা রাখা হয়েছে। এত ছোট অঙ্ক জমা দেওয়া সম্ভব হলেও স্থির অন্তর্ভুক্তি-মাশুলের কারণে প্রথম বছরে ছোট অ্যাকাউন্টের খরচের অনুপাত বড় হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, মাত্র কয়েক হাজার টাকা জমা রাখলে ২০০ টাকা তুলনামূলক উল্লেখযোগ্য; বড় তহবিলে একই অঙ্কের প্রভাব কম।
সরাসরি ই-এনপিএসের মাধ্যমে তৈরি অ্যাকাউন্টে ই-এনপিএস বা ডি-রেমিট ব্যবহার করে অবদান দিলে সাধারণত পয়েন্ট অব প্রেজেন্সের মাশুল থাকে না। কিন্তু আগে কোনও পয়েন্ট অব প্রেজেন্সের মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খোলা হলে পরে অনলাইনে টাকা দিলেই তার উৎস বদলে যায় না; সংশ্লিষ্ট মাশুল চলতে পারে। এই পার্থক্য গ্রাহকের কাছে স্পষ্ট থাকা দরকার।
টানা চারটি ত্রৈমাসিকে কোনও অবদান না-থাকা অ্যাকাউন্টকে নিষ্ক্রিয় হিসেবে ধরা হবে। স্থগিত অ্যাকাউন্টে সম্পদভিত্তিক মাশুল না-নেওয়ার বিধান রয়েছে। একাধিক কেন্দ্রীয় নথিভান্ডারে একই স্থায়ী হিসাব নম্বর থাকলে স্থায়ী অ্যাকাউন্ট নম্বরের ভিত্তিতে অবদান যাচাই হতে পারে।
এনপিএস বাত্সল্য, স্বাস্থ্য বা ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগভিত্তিক নির্দিষ্ট প্রকল্প এই সাধারণ কাঠামোর বাইরে থাকতে পারে। তাদের নিজস্ব নিয়ম না-দেখে একই মাশুল ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
বিশ্লেষণ: ০.২০ শতাংশ দেখতে ছোট, কিন্তু পেনশনের মতো কয়েক দশকের সঞ্চয়ে সব পুনরাবৃত্ত খরচ গুরুত্ব পায়। পাঁচ লক্ষ টাকার তহবিলে বছরে প্রায় এক হাজার টাকা, কর বাদে; তহবিল বাড়লে মাশুলও বাড়বে। এর সঙ্গে কেন্দ্রীয় নথিভান্ডার, তহবিল পরিচালনা ও অন্যান্য অনুমোদিত খরচ আলাদাভাবে থাকতে পারে।
শুধু মাশুল দেখে অবসরপণ্য বাছাই করা যায় না। করের নিয়ম, টাকা তোলার সীমা, বার্ষিকী কেনার বাধ্যবাধকতা, বিনিয়োগ-বণ্টন ও পরিষেবার মানও বিবেচ্য। বর্তমান গ্রাহকের প্রথম কাজ হল তাঁর অ্যাকাউন্টটি কোথা দিয়ে খোলা হয়েছিল এবং ত্রৈমাসিক বিবরণীতে কত ইউনিট খরচ হিসেবে কাটা হচ্ছে, তা যাচাই করা।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



