মহুয়াকে ফের ডিম, বিচারপতিকে পুরনো মন্তব্য মনে করিয়ে কটাক্ষ

যা জানা জরুরি
- নদিয়ার তেহট্টে দলীয় বৈঠকে গিয়ে ফের ডিম ছোড়ার মুখে পড়লেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র।
- বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বরের এই ঘটনার জন্য তিনি বিজেপির নেতা-কর্মীদের দায়ী করেছেন।
- পুলিশের উপস্থিতিতেই হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
নদিয়ার তেহট্টে দলীয় বৈঠকে গিয়ে ফের ডিম ছোড়ার মুখে পড়লেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বরের এই ঘটনার জন্য তিনি বিজেপির নেতা-কর্মীদের দায়ী করেছেন। পুলিশের উপস্থিতিতেই হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। ঘটনার পরে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তের একটি পুরনো মন্তব্য মনে করিয়ে দিয়ে সমাজমাধ্যমে তীব্র কটাক্ষ করেন মহুয়া।
তেহট্টের দলীয় কার্যালয়ে বৈঠক চলাকালীন বাইরে কালো পতাকা নিয়ে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হন। মহুয়া গাড়িতে ওঠার সময় তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয়। ওঠে ফিরে যাওয়ার স্লোগান। প্রকাশিত ভিডিয়োয় তাঁর মুখে ডিমের খোসা দেখা যায়। মহুয়ার অভিযোগ, সঙ্গে চারজন পুলিশকর্মী থাকলেও তাঁরা বিক্ষোভকারীদের সরাননি; উল্টে তাঁকেই গাড়িতে উঠতে বলেন। তিনি কেন পালাবেন, সেই প্রশ্নও তোলেন সাংসদ।
বিচারপতি দত্তকে উদ্দেশ করে মহুয়ার বক্তব্যের মর্মার্থ: পুলিশকে জানিয়েই নিজের কেন্দ্রে বৈঠক করতে এসেছিলেন; তার পরেও হামলার মুখে পড়লেন। বিচারপতির আগের পরামর্শ স্মরণ করে তিনি বিদ্রুপ করেন, স্বাধীনতা সংগ্রামীরা যেমন গুলি সহ্য করেছিলেন, তিনিও তেমনই ডিমের আঘাত সহ্য করেছেন। তাঁর এই প্রতিক্রিয়ার পটভূমিতে রয়েছে সুপ্রিম কোর্টে হওয়া একটি মামলার শুনানি।
সেই মামলায় পুলিশের তদন্তকারী আধিকারিকের সামনে সরাসরি হাজির হওয়ার পরিবর্তে দূরসংযোগের মাধ্যমে হাজিরার অনুমতি চেয়েছিলেন মহুয়া। তাঁর আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন জানিয়েছিলেন, থানায় যাওয়ার সময় ডিম ছোড়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল এবং পরে সত্যিই ডিম ছোড়া হয়। তখন বিচারপতি দত্ত প্রশ্ন তুলেছিলেন, রাজনীতিতে এসে ডিমকে ভয় কেন, যেখানে স্বাধীনতা সংগ্রামীরা বুকে গুলি নিয়েছিলেন? বিচারপতি শীল নাগুও ওই বেঞ্চে ছিলেন। আদালত হস্তক্ষেপে অনিচ্ছা প্রকাশের পরে মহুয়ার পক্ষ আবেদন প্রত্যাহার করে নেয়; সেই হিসেবেই মামলাটি খারিজ হয়।
অন্যদিকে, সেপ্টেম্বরের গোড়ায় কলকাতা হাই কোর্ট মহুয়ার নিরাপত্তা নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশ দেয়। নিজের লোকসভা কেন্দ্রে গেলে তাঁর সঙ্গে এক মাসের জন্য দু’জন পুলিশকর্মী রাখার নির্দেশ দেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। সফরের সময় ও মেয়াদ প্রশাসনকে আগাম জানাতে বলা হয় মহুয়াকে। আদালতের উদ্বেগ ছিল, একজন সাংসদই যদি নিজের এলাকায় গিয়ে এমন হেনস্থার শিকার হন, তা হলে বিরোধী দলের অন্য কর্মীদের অবস্থা কী হবে।
নিরাপত্তা চেয়ে করা আবেদনে মহুয়া জানিয়েছিলেন, বারবার পাথর, ডিম, আলু ও টমেটো ছোড়ার ঘটনায় তাঁর এলাকায় যাতায়াত বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। রাজ্যের তরফে আদালতে বলা হয়েছিল, আগের ঘটনাগুলিতে তিনটি অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে এবং সুরক্ষার ব্যবস্থাও রয়েছে। বিচারপতি তখন প্রশ্ন তোলেন, সুরক্ষা থাকলে এমন ঘটনা ঘটছে কেন? এই ধরনের হামলা কঠোর হাতে মোকাবিলার কথা জানিয়ে আদালত পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করে ১ অক্টোবর।
মহুয়ার আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, অভিযোগগুলি নথিভুক্ত করতেও দেরি হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, একবার থানার সামনের দরজায় বিপুল জমায়েত থাকায় সাংসদকে পিছনের দরজা দিয়ে ঢুকতে হয়েছিল। রাজ্য এই ধরনের ঘটনাকে জনবিক্ষোভ বলে বর্ণনা করলে কল্যাণ পাল্টা অভিযোগ করেন, বিজেপি সমর্থকেরাই ডিম ছুড়ছেন। আদালত মহুয়াকে তাঁর বিরুদ্ধে চলা তদন্তে পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করতেও বলেছে।
বুধবারের ঘটনার নিন্দা করেছে বিজেপি। দলের রাজ্য মুখ্য মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার জানিয়েছেন, কারও দিকে, বিশেষ করে মহিলাদের দিকে, ডিম ছোড়া উচিত নয়। এমন ঘটনা ঘটলে তাঁরা নিন্দাই করবেন। মহুয়া অবশ্য পুলিশের বিরুদ্ধে হাই কোর্টের নির্দেশ কার্যকর করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।
ফলে তেহট্টের ঘটনা ফের সামনে আনল নির্বাচিত প্রতিনিধির নিরাপত্তার প্রশ্ন। আদালতে সুরক্ষার আশ্বাস এবং বাস্তবে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধাহীন অংশগ্রহণের মধ্যে ফারাক থাকলে, সেই দায় কার—মহুয়ার অভিযোগের কেন্দ্রে এখন সেটিই। তাঁর বিরুদ্ধে কোনও মামলার তদন্ত চলা এবং নিজের নির্বাচনী এলাকায় তাঁর নিরাপদে কাজ করতে পারা দুটি পৃথক বিষয়। আদালতের আগের নির্দেশও সেই কাজের সুযোগ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



