আন্তর্জাতিক

কগনিজ্যান্টের গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ, কড়া নজরদারির শঙ্কা তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পে

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • ওয়াশিংটন: ভিসা ও কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন ব্যবস্থায় সম্ভাব্য জালিয়াতির তদন্তের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা কগনিজ্যান্টের নতুন স্থায়ী শ্রম অনুমোদনের আবেদন জমা দেওয়া স্থগিত করল মার্কিন শ্রম…
  • ‘পার্ম’ নামে পরিচিত এই অনুমোদন চাকরির সূত্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক ধাপ।
  • ফলে সংস্থার মাধ্যমে আমেরিকায় স্থায়ী বসবাসের প্রক্রিয়া শুরু করতে চাওয়া ভারতীয়-সহ বিদেশি কর্মীদের অনিশ্চয়তা বাড়ল।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

ওয়াশিংটন: ভিসা ও কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন ব্যবস্থায় সম্ভাব্য জালিয়াতির তদন্তের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা কগনিজ্যান্টের নতুন স্থায়ী শ্রম অনুমোদনের আবেদন জমা দেওয়া স্থগিত করল মার্কিন শ্রম দফতর। ‘পার্ম’ নামে পরিচিত এই অনুমোদন চাকরির সূত্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক ধাপ। ফলে সংস্থার মাধ্যমে আমেরিকায় স্থায়ী বসবাসের প্রক্রিয়া শুরু করতে চাওয়া ভারতীয়-সহ বিদেশি কর্মীদের অনিশ্চয়তা বাড়ল। চেন্নাইয়ে প্রতিষ্ঠিত কগনিজ্যান্টের বর্তমান সদর দফতর নিউ জার্সিতে। সংস্থাটি আমেরিকায় বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগের ব্যবস্থার অন্যতম বড় ব্যবহারকারী।

মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, মার্কিন শ্রম দফতরের মহাপরিদর্শক অ্যান্টনি ডি’এসপোসিটো এই পদক্ষেপের কথা জানান। কগনিজ্যান্টের পাশাপাশি সফটওয়্যার সংস্থা ক্লাউডেরার ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্তে হোয়াইট হাউসের জালিয়াতি প্রতিরোধে গঠিত বিশেষ দল এবং অন্য আধিকারিকেরা যুক্ত রয়েছেন। ডি’এসপোসিটোর বক্তব্য, মার্কিন কর্মীদের স্বার্থ বিপন্ন করে এমন কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না।

তবে কগনিজ্যান্টের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ কী, কতগুলি আবেদন প্রভাবিত হবে কিংবা স্থগিতাদেশ কতদিন চলবে, তা প্রকাশ করা হয়নি। তদন্তের ঘোষণা অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার সমার্থক নয়। প্রকাশিত তথ্যেও সংস্থাটির বিরুদ্ধে চূড়ান্ত অপরাধ নির্ধারণ বা এই ঘোষণার মাধ্যমে ফৌজদারি অভিযোগ দায়েরের কথা জানানো হয়নি। ফলে প্রশাসনের কঠোর ভাষা এবং প্রতিষ্ঠিত তথ্যের মধ্যে পার্থক্য রাখা জরুরি।

পার্ম ব্যবস্থায় নিয়োগকারীকে সাধারণত দেখাতে হয়, সংশ্লিষ্ট কাজের জন্য পর্যাপ্ত যোগ্য, ইচ্ছুক ও উপলব্ধ মার্কিন কর্মী পাওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি বিদেশি কর্মী নিয়োগ করলে একই ধরনের কাজে নিযুক্ত মার্কিন কর্মীদের বেতন বা কাজের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। নির্ধারিত মজুরির তথ্য সংগ্রহ, প্রয়োজনীয় নিয়োগপ্রক্রিয়া এবং বিজ্ঞপ্তির মতো ধাপ পেরিয়ে শ্রম অনুমোদনের আবেদন করতে হয়।

এই অনুমোদন নিজে গ্রিন কার্ড নয়; এটি পাওয়ার পরে নিয়োগকারী স্থায়ী অভিবাসনের পরবর্তী আবেদনপর্বে এগোতে পারে। তাই নতুন পার্ম আবেদন বন্ধ থাকার অর্থ, সংশ্লিষ্ট কর্মীদের স্থায়ী বসবাসের পথে একটি প্রয়োজনীয় ধাপ আপাতত আটকে যাওয়া। যাঁদের জন্য এখনও আবেদন জমা পড়েনি, তাঁদের ক্ষেত্রে বিলম্বের আশঙ্কা সবচেয়ে প্রত্যক্ষ। ব্যক্তিগত প্রভাব নির্ভর করবে আবেদন কোন পর্যায়ে রয়েছে, তার উপরে।

অন্যদিকে, বর্তমান ঘোষণায় আগে মঞ্জুর হওয়া গ্রিন কার্ড, ভিসা বা কর্মীদের অভিবাসনগত অবস্থান বাতিলের কথা নেই। এই পদক্ষেপকে এইচ-ওয়ানবি ব্যবস্থার সামগ্রিক স্থগিতাদেশ বলাও ঠিক হবে না। এইচ-ওয়ানবি মূলত বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি পেশাজীবীদের সাময়িক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা; পার্ম যুক্ত স্থায়ী বসবাসের প্রস্তুতির সঙ্গে। পুরনো বা বিচারাধীন আবেদনগুলির পরিণতি সম্পর্কে বিস্তারিত সরকারি নির্দেশ প্রয়োজন।

বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে, গত ৮ জুলাই শ্রম দফতরের মহাপরিদর্শকের কার্যালয় এইচ-ওয়ানবি ও পার্ম ব্যবস্থায় জালিয়াতি এবং শ্রমিক শোষণের অভিযোগ নিয়ে তদন্তের ঘোষণা করেছিল। ভুয়ো আবেদন, কর্মীদের বেতনের অংশ জোর করে ফেরত নেওয়া, কাজ না দিয়ে বেতনহীন অবস্থায় বসিয়ে রাখা এবং প্রতারণামূলক নিয়োগ তদন্তের আওতাভুক্ত। এগুলি বৃহত্তর তদন্তের বিষয়; সব অভিযোগ কগনিজ্যান্টের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, এমন তথ্য নেই।

তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের কাছে ঘটনাটির তাৎপর্য তাই একটি সংস্থার আবেদন আটকে যাওয়ার চেয়েও বড়। নিয়োগে মার্কিন প্রার্থীরা যথাযথ সুযোগ পাচ্ছেন কি না, ঘোষিত পদের দায়িত্বের সঙ্গে বেতনের সামঞ্জস্য আছে কি না এবং বিদেশি কর্মীদের জন্য দেওয়া তথ্য সঠিক কি না—এসব বিষয়ে আরও কঠোর যাচাইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে সমগ্র শিল্পের বিরুদ্ধে নতুন কোনও সর্বজনীন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করা হয়নি।

এই পরিস্থিতিতে কর্মীদের প্রধান উদ্বেগ স্থায়ী বসবাসের পরিকল্পনার সময়সীমা। নিয়োগকারীদের সামনেও কর্মী ধরে রাখা, প্রকল্পে লোকবল বহাল রাখা এবং অভিবাসন সংক্রান্ত নথিপত্রের নির্ভুলতা নিশ্চিত করার চাপ বাড়তে পারে। পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে শ্রম দফতরের বিস্তারিত ব্যাখ্যা, স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের শর্ত এবং তদন্তের ফল। আপাতত নিশ্চিত পরিবর্তনটি হল, কগনিজ্যান্টের নতুন পার্ম আবেদন জমা দেওয়ার পথ বন্ধ।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles