ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআরে নামের ‘অসংগতি’র তালিকায় উঠল ভারতরত্ন বিজ্ঞানী সি এন আর রাওয়ের নাম। তবে তাঁকে কোনও নোটিস দেওয়া হয়নি বলে স্পষ্ট করেছেন বেঙ্গালুরু নগর জেলার নির্বাচনী আধিকারিক মহেশ্বর রাও। বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট বুথস্তরের আধিকারিক নোটিস না দিয়েই চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় বিজ্ঞানীর নাম অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছেন।

কর্নাটকের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর প্রকাশিত অনলাইন তালিকায় মাল্লেশ্বরম বিধানসভা কেন্দ্রের ৫৯ নম্বর অংশে ৯২ বছরের রাওয়ের নাম রয়েছে। সেখানে অসংগতির কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে, ভোটারের নিজের নামের সঙ্গে পুরনো নথির নাম মিলছে না। এই তালিকায় তাঁর নাম প্রকাশিত হওয়ার পরেই নোটিস দেওয়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।

প্রশাসনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সমস্যার উৎস ২০০২ সালের ভোটার তালিকা। তখন ৭৬ নম্বর মাল্লেশ্বরম বিধানসভা কেন্দ্রের ১২৯ নম্বর অংশে, ৪৩১ ক্রমিকে তাঁর নাম লেখা ছিল ‘রামা’। বর্তমানে ১৫৭ নম্বর মাল্লেশ্বরম কেন্দ্রের ৫৯ নম্বর অংশে, ১৮৭ ক্রমিকে তিনি নথিভুক্ত রয়েছেন ‘প্রফেসর সি এন রাও এম’ নামে। বর্তমান খসড়া ভোটার তালিকাতেও তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ, পুরনো ও বর্তমান তালিকায় নাম লেখার পার্থক্য থেকেই অসংগতিটি ধরা পড়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।

বৃহত্তর বেঙ্গালুরু কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, এসআইআরের গণনাপত্র রাও ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছিলেন রাজ্যের ভোটার সচেতনতা কর্মসূচির দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক এবং বেঙ্গালুরু পশ্চিম নগর নিগমের কমিশনার। পরে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিজ্ঞানীকে সম্মানিত ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করে বুথস্তরের আধিকারিক নোটিস ছাড়াই চূড়ান্ত তালিকায় তাঁর নাম রাখার সুপারিশ করেছেন। সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও শুরু হয়েছে।

রাওয়ের দফতরও নোটিস পাওয়ার কথা অস্বীকার করেছে। তাঁর সহকারী চন্দ্রশেখর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে জানিয়েছেন, কোনও নোটিস দেওয়া হয়েছে বলে তাঁদের জানা নেই। নথিভুক্ত মোবাইল নম্বরে কিংবা ইমেলেও এ সংক্রান্ত কোনও বার্তা আসেনি। ফলে তালিকায় অসংগতি চিহ্নিত হওয়া এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নোটিস পৌঁছে দেওয়া—এই দুটি পর্যায়ের পার্থক্য এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

অসংগতির তালিকায় নাম থাকাকে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার সিদ্ধান্ত হিসেবেও দেখা যায় না। রাওয়ের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য বরং উল্টো: খসড়ায় নাম রয়েছে এবং চূড়ান্ত তালিকায় তা বহাল রাখার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

কর্নাটকে নামের অমিল নিয়ে এমন ঘটনা অবশ্য এই প্রথম নয়। এর আগে পদ্মশ্রীপ্রাপ্ত হরেকালা হাজাব্বাকে একই কারণে নোটিস দেওয়া হয়েছে। ২০০২ সালের তালিকায় তাঁর নাম ছিল শুধু ‘হাজাব্বা’। কিন্তু বর্তমান রেশন কার্ড, আধার, পাসপোর্ট এবং ভোটার পরিচয়পত্রে রয়েছে ‘হরেকালা হাজাব্বা’। পুরনো এবং বর্তমান নথিতে উল্লিখিত ব্যক্তি একই কি না, তা যাচাই করতে তাঁকে ১১ সেপ্টেম্বর নথি জমা দিতে বলা হয়েছে।

ম্যাঙ্গালুরুতে কমলালেবু বিক্রির আয় জমিয়ে নিজের গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় গড়ে তোলায় পরিচিত হাজাব্বা সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, নোটিসটি পান। রাজ্যে প্রায় ৪৩ লক্ষ ৮১ হাজার ভোটারকে নোটিস দেওয়ার কথা। দাবি ও আপত্তি নিষ্পত্তির পর্যায় চলছে ২৪ আগস্ট থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত। প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা বেরোনোর কথা ২৭ অক্টোবর। কর্নাটকে এসআইআর শুরু হয়েছিল ৩০ জুন; বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের সময়সীমাও দু’দফায় বাড়ানো হয়েছিল।

দুই ঘটনার তুলনায় তাই একটি প্রশাসনিক প্রশ্ন সামনে আসে: নথিতে নামের অমিল ধরা পড়লে তা সংশোধনের ক্ষেত্রে কী মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে? একজনের ক্ষেত্রে পরিচিতি বিবেচনায় নোটিস ছাড়াই নাম রাখার সুপারিশ, অন্যজনের ক্ষেত্রে নথি চেয়ে নোটিস—এই ভিন্ন প্রক্রিয়ার ব্যাখ্যা ভোটারদের কাছে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। রাওয়ের ঘটনায় আপাতত নিশ্চিত তথ্য হল, তাঁর নাম অসংগতির তালিকায় রয়েছে, কিন্তু তাঁকে নোটিস দেওয়ার কথা প্রশাসন ও তাঁর দফতর উভয়েই অস্বীকার করেছে।