রাহুলের যুব কর্মসূচিতে ‘সাড়া নেই’, মোদীর জন্মদিনে মাসব্যাপী অভিযানের ঘোষণা নাবিনের

যা জানা জরুরি
- বাংলাস্ফিয়ার: রাহুল গান্ধীর ছাত্র-যুব কর্মসূচির প্রভাব কংগ্রেসের নিজস্ব কর্মীদের গণ্ডি পেরোবে না বলে দাবি করলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নাবিন।
- বুধবার দিল্লিতে দলের সদর দফতরে সাংবাদিক বৈঠকে রাহুলের ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ কর্মসূচিকে নিশানা করেন তিনি।
- একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিন এবং সরকারপ্রধান হিসেবে তাঁর টানা ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে একগুচ্ছ কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেন বিজেপি সভাপতি।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
বাংলাস্ফিয়ার: রাহুল গান্ধীর ছাত্র-যুব কর্মসূচির প্রভাব কংগ্রেসের নিজস্ব কর্মীদের গণ্ডি পেরোবে না বলে দাবি করলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নাবিন। বুধবার দিল্লিতে দলের সদর দফতরে সাংবাদিক বৈঠকে রাহুলের ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ কর্মসূচিকে নিশানা করেন তিনি। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিন এবং সরকারপ্রধান হিসেবে তাঁর টানা ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে একগুচ্ছ কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেন বিজেপি সভাপতি।
প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সমালোচনার মধ্যেই রাহুলের ছাত্রসংযোগ কর্মসূচি রাজনৈতিক নজর কেড়েছে। নাবিনের বক্তব্য, যুবসমাজের জন্য বিরোধীদের দাবিতে আন্তরিকতা থাকলে ক্ষমতায় থাকার সময়ই তার পরিচয় মিলত। তাঁর দাবি, মোদীর নেতৃত্বে তরুণেরা আত্মনির্ভরতার পথে এগোচ্ছেন এবং দেশের যুবসমাজ ও সাধারণ মানুষ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেই রয়েছেন। জানুয়ারিতে সভাপতি হওয়ার পরে এটিই ছিল নাবিনের প্রথম সাংবাদিক বৈঠক।
তরুণদের নিয়ে কেন্দ্রের উদ্যোগের উদাহরণ হিসেবে খেলো ইন্ডিয়া, ফিট ইন্ডিয়া এবং নতুন উদ্যোগপতিদের উৎসাহ দেওয়ার প্রকল্পের উল্লেখ করেন নাবিন। তাঁর দাবি, ২০১৪ সালের পর যুবসমাজের মধ্যে হতাশার জায়গায় আশার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। নতুন ব্যবসায়িক উদ্যোগের প্রসারে তরুণেরা নিজের কাজ খোঁজার পাশাপাশি অন্যের কর্মসংস্থানও করছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। রাহুলের যুবসংযোগের মোকাবিলায় সরকারের এই কাজগুলিই সামনে আনছে বিজেপি।
আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর মোদীর জন্মদিন থেকে শুরু হবে মাসব্যাপী ‘সেবা সংকল্প অভিযান’। দিনটি ‘সেবা দিবস’ হিসেবে পালন করে রক্তদান শিবির আয়োজন করবে বিজেপি। সরকারি প্রকল্পের সুবিধাপ্রাপকদের পরিবার এবং দলীয় কর্মীদের বাড়িতে প্রদীপ জ্বালানোর কর্মসূচিও রয়েছে। আগামী ৭ অক্টোবর মুখ্যমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী পদে মোদীর একটানা ২৫ বছর পূর্ণ হবে। ২০০১ সালের ওই দিন গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনি।
৭ অক্টোবর জেলা সদর এবং দেশের প্রায় এক হাজার জায়গায় ২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত ভারত গড়ার সম্মিলিত শপথ নেওয়ার আয়োজন হবে। ‘সেবা জ্যোতি কলস যাত্রা’র অধীনে পদযাত্রা, মোটরসাইকেল ও সাইকেল মিছিলের পরিকল্পনাও রয়েছে। ‘সেবা মেরা যোগদান’ কর্মসূচিতে ২৫টি বিষয়কে কেন্দ্র করে অন্তত ২৫ মিনিট স্বেচ্ছাশ্রম দেওয়ার আহ্বান জানানো হবে।
মোট ১২টি বিভাগে সাজানো জনসংযোগ অভিযানে যুবসমাজের অংশগ্রহণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিদ্যালয়ে মোদীর প্রশাসনিক জীবনের ২৫ বছর নিয়ে আঁকার প্রতিযোগিতা ও নাটকের আয়োজন থাকবে। ‘সেবা কি কহানি’ কর্মসূচিতে সরকারি উদ্যোগে জীবনে কী পরিবর্তন এসেছে, সেই অভিজ্ঞতা সমাজমাধ্যমে তুলে ধরতে মানুষকে উৎসাহ দেওয়া হবে। গ্রামপ্রধান থেকে বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আলাপচারিতার একটি জাতীয় অনুষ্ঠানও পরিকল্পনায় রয়েছে।
মোদীর জন্মস্থান গুজরাতের ভাদনগর এবং তাঁর লোকসভা কেন্দ্র উত্তরপ্রদেশের বারাণসীর মধ্যে মোটরসাইকেল যাত্রার আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি পড়ুয়া, তরুণ উদ্যোগপতি, পেশাজীবী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উদ্ভাবকদের নিয়ে প্রতিযোগিতার পরিকল্পনা রয়েছে। জনকল্যাণ ও নীতিনির্ধারণে কাজে লাগতে পারে এমন নতুন চিন্তাভাবনাকে পুরস্কৃত করা হবে। কর্মসূচিতে মানবশৃঙ্খলের আয়োজনও রাখা হয়েছে।
অভিযান পরিচালনার জন্য প্রতিটি রাজ্যে সাত সদস্যের সমন্বয়কারী দল তৈরি হবে। তাতে একজন মন্ত্রী, সংগঠনের একজন সাধারণ সম্পাদক এবং পাঁচজন প্রবীণ নেতা থাকবেন। মোদীর শাসনকাল, উন্নয়নমূলক উদ্যোগ ও কল্যাণপ্রকল্প নিয়ে আলোকচিত্র এবং বৈদ্যুতিন প্রদর্শনী হবে। সুশাসন, উন্নয়ন ও সমাজের শেষ প্রান্তের মানুষের কল্যাণ নিয়ে আলোচনাসভার পাশাপাশি সরকারি প্রকল্পের সুবিধা সম্পর্কে জানাতে বিশেষ শিবিরও আয়োজন করা হবে।
নাবিনের দাবি, মোদীর নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের মর্যাদা বেড়েছে এবং গুজরাতের উন্নয়নের অভিজ্ঞতা অন্য রাজ্যের সামনে আদর্শ হয়ে উঠেছে। নারী উন্নয়ন ও সীমান্তবর্তী গ্রামের পরিবর্তনের কথাও তুলে ধরেন তিনি। বেটি বচাও, বেটি পড়াও থেকে লাখপতি দিদি পর্যন্ত বিভিন্ন উদ্যোগের উল্লেখ করে মহিলাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর সরকারি প্রচেষ্টার কথা বলেন নাবিন। জনসেবার এই বার্তা দেশজুড়ে পৌঁছে দেওয়াকে দলের দায়িত্ব বলে বর্ণনা করেছেন বিজেপি সভাপতি।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



