খবর

নিখোঁজ প্রিয়জনের খোঁজে শেষ ভরসা ডিএনএ পরীক্ষা

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • কাঠমান্ডু: হাসপাতালের দেওয়ালে টাঙানো মৃতদেহের ছবি।
  • কারও হাতে ছেলের ছবি, কারও মোবাইলে স্বামী বা স্ত্রীর মুখ।
  • কেউ মুখের গড়ন মিলিয়ে দেখছেন, কেউ জামাকাপড় কিংবা শরীরের কোনও বিশেষ চিহ্ন খুঁজছেন।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

কাঠমান্ডু: হাসপাতালের দেওয়ালে টাঙানো মৃতদেহের ছবি। তার সামনে ভিড় করে দাঁড়িয়ে অসংখ্য মানুষ। কারও হাতে ছেলের ছবি, কারও মোবাইলে স্বামী বা স্ত্রীর মুখ। কেউ মুখের গড়ন মিলিয়ে দেখছেন, কেউ জামাকাপড় কিংবা শরীরের কোনও বিশেষ চিহ্ন খুঁজছেন। কিন্তু বন্যার জলে বহু দূর ভেসে যাওয়া, পচে যাওয়া কিংবা খণ্ডিত দেহগুলির পরিচয় চোখে দেখে নিশ্চিত করার উপায় নেই। তাই নিখোঁজ স্বজনের সন্ধানে নেপালের বহু পরিবারের শেষ আশা এখন ডিএনএ পরীক্ষা।

গত ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে বরফ ও পাথরের বিশাল ধস থেকে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। জল, কাদা ও পাথরের প্রবল স্রোত ভোটেকোশী নদী দিয়ে নেমে এসে উত্তর ও মধ্য নেপালের বিস্তীর্ণ জনপদ ভাসিয়ে দেয়। সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যে ১,৩৪৪-এ পৌঁছেছে। প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ। উদ্ধার করা দেহগুলির মধ্যে অন্তত ৮৫টি শিশুর। প্রায় ৫০০ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ দেহের বদলে মিলেছে বিচ্ছিন্ন দেহাংশ।

এই পরিস্থিতিতে পরিচয় নির্ধারণই প্রশাসনের সামনে অন্যতম কঠিন কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বন্যার ধাক্কায় বহু মৃতদেহ ঘটনাস্থল থেকে কয়েকশো কিলোমিটার দূরে ভেসে গিয়েছে। দীর্ঘ সময় জল ও কাদার মধ্যে থাকায় মুখমণ্ডল বিকৃত হয়েছে, নষ্ট হয়েছে আঙুলের ছাপ। পরিচয়পত্র বা ব্যক্তিগত সামগ্রীও অধিকাংশ ক্ষেত্রে পাওয়া যাচ্ছে না। উদ্ধার হওয়া দেহগুলির মধ্যে মাত্র ৯৮টি শনাক্ত করে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। সবচেয়ে বেশি—৩৬২টি—দেহ উদ্ধার হয়েছে চিতওয়ান জেলায়। নওয়ালপরাসি, নুয়াকোট, রাসুয়া, গোর্খা, ধাদিং ও তানাহুতেও বহু দেহ পাওয়া গিয়েছে।

নেপাল পুলিশ এখন নিখোঁজ ব্যক্তিদের বাবা-মা, সন্তান ও সহোদরদের কাছ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করছে। কাঠমান্ডুর নেপাল পুলিশ হাসপাতাল অথবা নিকটবর্তী জেলা পুলিশ দফতরে এই নমুনা দেওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে, অজ্ঞাতপরিচয় মৃতদেহ ও উদ্ধার হওয়া দেহাংশ থেকেও নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষাগারে দুই ধরনের নমুনা মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

মর্গগুলিতে জায়গার অভাব দেখা দেওয়ায় ডিএনএ নমুনা ও প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণের পর এক হাজারের বেশি অজ্ঞাতপরিচয় দেহ সাময়িকভাবে সমাধিস্থ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে কোনও পরিবারের নমুনার সঙ্গে মিল পাওয়া গেলে সেই দেহ শনাক্ত করে স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়া যাবে। ভারতও নিখোঁজ ভারতীয়দের প্রথম শ্রেণির আত্মীয়দের ডিএনএ পরীক্ষার ব্যবস্থা করে নমুনা নেপাল কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর কথা জানিয়েছে।

ডিএনএ পরীক্ষার ফল পেতে সময় লাগতে পারে। তবু অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটানো পরিবারগুলির কাছে সেটিই এখন সত্য জানার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পথ। হয়তো সেই সত্য অত্যন্ত নির্মম; কিন্তু প্রিয়জনের শেষকৃত্য সম্পন্ন করা এবং অন্তহীন প্রতীক্ষার অবসান ঘটানোর জন্য সেই বৈজ্ঞানিক নিশ্চয়তাই তাঁদের শেষ আশ্রয়।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles