ইরানের পকেটে মার্কিন কোপ

যা জানা জরুরি
- সামরিক কর্মকাণ্ড, সাইবার হামলা ও তেল বাণিজ্যের অভিযোগে ব্যক্তি, সংস্থা ও জাহাজের উপর নতুন নিষেধাজ্ঞা; তেহরানের আয় বন্ধ করাই লক্ষ্য ওয়াশিংটনের ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক…
- সামরিক কর্মকাণ্ড, সাইবার হামলা এবং বেআইনি তেল বাণিজ্যে সহায়তার অভিযোগে একাধিক ব্যক্তি, সংস্থা ও জাহাজের উপর নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন।
- সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, ইরানের অস্ত্র সংগ্রহ, গোয়েন্দা তৎপরতা, মার্কিন গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোয় সাইবার হামলা এবং তেল বিক্রির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহে যুক্ত আন্তর্জাতিক চক্রগুলিই…
বিস্তারিত প্রতিবেদন
সামরিক কর্মকাণ্ড, সাইবার হামলা ও তেল বাণিজ্যের অভিযোগে ব্যক্তি, সংস্থা ও জাহাজের উপর নতুন নিষেধাজ্ঞা; তেহরানের আয় বন্ধ করাই লক্ষ্য ওয়াশিংটনের
ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়াল আমেরিকা। সামরিক কর্মকাণ্ড, সাইবার হামলা এবং বেআইনি তেল বাণিজ্যে সহায়তার অভিযোগে একাধিক ব্যক্তি, সংস্থা ও জাহাজের উপর নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, ইরানের অস্ত্র সংগ্রহ, গোয়েন্দা তৎপরতা, মার্কিন গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোয় সাইবার হামলা এবং তেল বিক্রির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহে যুক্ত আন্তর্জাতিক চক্রগুলিই এ বার নিশানায়।
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র টমি পিগটের দাবি, ইরানি শাসনব্যবস্থার ‘অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী কর্মকাণ্ডে’ সহায়তাকারী ব্যক্তি, সংস্থা এবং জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যাপক পদক্ষেপ করা হয়েছে।
২৪ আগস্ট ঘোষিত এই নিষেধাজ্ঞা ট্রাম্পের ‘অপারেশন ইকনমিক আউটকাস্ট’-এর অংশ। মার্কিন প্রশাসনের অন্দরে এই অভিযানকে ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ বলেও বর্ণনা করা হচ্ছে। লক্ষ্য একটাই—আন্তর্জাতিক আর্থিক ও বাণিজ্যিক ব্যবস্থা থেকে ইরানকে আরও বিচ্ছিন্ন করা এবং তেহরানের আয়ের প্রধান পথগুলিতে তালা ঝোলানো।
তেলেই নজর, জাহাজেও কোপ
ওয়াশিংটনের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা আন্তর্জাতিক চক্রগুলি ইরানের হয়ে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহের পাশাপাশি বিদেশে গোপনে তথ্য সংগ্রহ এবং মার্কিন পরিকাঠামোয় সাইবার হামলায় যুক্ত।
তবে নতুন নিষেধাজ্ঞার বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ইরানি তেল। আমেরিকার দাবি, বিভিন্ন দেশের পতাকাবাহী জাহাজ এবং অস্বচ্ছ মালিকানার সংস্থাকে ব্যবহার করে ইরানের তেল আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। সেই তেল বিক্রির অর্থের একটি অংশ ইরানের শাসনব্যবস্থা এবং ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পসের কুদস বাহিনীর হাতে পৌঁছচ্ছে বলে অভিযোগ।
ওয়াশিংটনের আরও দাবি, সেই অর্থ পশ্চিম এশিয়ায় ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র সংগঠনগুলির পিছনে ব্যয় করা হচ্ছে। তাই এ বার শুধু তেল বিক্রেতা নয়—তেলবাহী জাহাজ, জাহাজ পরিচালনাকারী সংস্থা, মধ্যস্থতাকারী ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিও নিষেধাজ্ঞার জালে পড়েছে।
তৃতীয় দেশও কি রেহাই পাবে?
নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ব্যক্তি ও সংস্থার আমেরিকার অধীন সম্পত্তি ও আর্থিক সম্পদ অবরুদ্ধ হতে পারে। মার্কিন নাগরিক ও সংস্থাগুলিও তাদের সঙ্গে অধিকাংশ বাণিজ্যিক লেনদেন করতে পারবে না।
শুধু তাই নয়, নিষেধাজ্ঞাভুক্ত পক্ষকে সহযোগিতা করা তৃতীয় দেশের ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির উপরও বাড়তে পারে ওয়াশিংটনের চাপ।
বিশেষ করে ইরানি তেলের ক্রেতা, পরিবহণকারী এবং অর্থ লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলিকে এখন আরও সতর্ক হতে হবে। কারণ তেহরানের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক না থাকলেও ইরানের তেল বাণিজ্যের সঙ্গে পরোক্ষ যোগ থাকলেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
যুদ্ধ নয়, অর্থনীতিতেই আঘাত
ট্রাম্প প্রশাসনের কৌশল আপাতত স্পষ্ট—সরাসরি সামরিক সংঘাতে না গিয়ে অর্থনীতির উপর চাপ বাড়ানো। মার্কিন প্রশাসনের ধারণা, ইরানের বৈদেশিক মুদ্রা আয়, তেল বিক্রি এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক যোগাযোগ যত বেশি সংকুচিত করা যাবে, ততই তেহরানকে নীতি পরিবর্তনের জন্য চাপ দেওয়া সম্ভব হবে।
ইরান অবশ্য বরাবরই এই ধরনের নিষেধাজ্ঞাকে ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। তেহরানের অভিযোগ, আমেরিকা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে সাধারণ মানুষকেই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির মধ্যে ফেলছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও বাধা তৈরি করছে।
নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের সম্পর্ক যে আরও তিক্ত হবে, তা নিয়ে সংশয় কম। আর ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ যদি সত্যিই পূর্ণ শক্তিতে এগোয়, তার অভিঘাত শুধু ইরানের উপরেই থামবে না—ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা জাহাজ, সংস্থা এবং দেশগুলিও এবার মার্কিন নজরের মধ্যে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



