জ্যাজের বাইরে, নতুন সুরে ডোমি-জেডি বেক

যা জানা জরুরি
- জ্যাজের চেনা গণ্ডি পেরিয়ে সুরের নতুন ভূগোল তৈরি করছেন ফরাসি কিবোর্ডবাদক ডোমি (ডোমিতিল দেগালে) এবং মার্কিন ড্রামার জেডি বেক।
- সমকালীন জ্যাজের অন্যতম আলোচিত তরুণ জুটি হিসেবে ইতিমধ্যেই পরিচিত তাঁরা।
- জ্যাজ কিংবদন্তি হার্বি হ্যানককের সমর্থন পাওয়া এই জুটি ৩১ জুলাই প্রকাশ করেছে তাদের দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘Who Asked?’।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
জ্যাজের চেনা গণ্ডি পেরিয়ে সুরের নতুন ভূগোল তৈরি করছেন ফরাসি কিবোর্ডবাদক ডোমি (ডোমিতিল দেগালে) এবং মার্কিন ড্রামার জেডি বেক। সমকালীন জ্যাজের অন্যতম আলোচিত তরুণ জুটি হিসেবে ইতিমধ্যেই পরিচিত তাঁরা। জ্যাজ কিংবদন্তি হার্বি হ্যানককের সমর্থন পাওয়া এই জুটি ৩১ জুলাই প্রকাশ করেছে তাদের দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘Who Asked?’। জ্যাজের সঙ্গে ইলেকট্রনিক সঙ্গীত, ইন্ডি পপ এবং অ্যাকুস্টিক অর্কেস্ট্রাল যন্ত্রের মেলবন্ধনে তৈরি এই অ্যালবাম যেন প্রচলিত ঘরানার সীমানাকেই প্রশ্ন করছে।
ডোমির সাজপোশাকে যেন আধুনিক সময়ের ‘সেইলর মুন’-এর ছাপ—দুটি লম্বা সোনালি পনিটেল, গোলাপি লিপস্টিক এবং রঙিন পোশাক। বিপরীতে ২৩ বছরের জেডি বেকের চেহারায় সত্তরের দশকের কিশোর নায়কের সরলতা। তাঁদের এই বিপরীতধর্মী ভিজ্যুয়াল পরিচয়ের মতোই সঙ্গীতেও রয়েছে খামখেয়ালিপনা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং সূক্ষ্ম পরিশীলন।
‘Not Tight’ থেকে ‘Who Asked?’
২০২২ সালে প্রকাশিত প্রথম অ্যালবাম ‘Not Tight’ দিয়েই আন্তর্জাতিক সঙ্গীতমহলে হঠাৎ নজর কেড়েছিলেন ডোমি ও জেডি। জ্যাজ, ফাঙ্ক, সোল, হিপ-হপ এবং ইলেকট্রনিক সাউন্ডের মিশেলে তৈরি সেই অ্যালবাম ২০২৩ সালের গ্র্যামি পুরস্কারে দুটি মনোনয়নও পেয়েছিল।
তবে দ্বিতীয় অ্যালবামে নিজেদের সাউন্ডকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন তাঁরা। আগের অ্যালবামের তুলনায় ডিজিটাল সাউন্ডের উপর নির্ভরতা কমিয়ে এবার তাঁরা ঝুঁকেছেন আরও স্বাভাবিক ও অর্কেস্ট্রাল শব্দের দিকে।
ক্ল্যারিনেট, ট্রম্বোন, ওবো, সেলো এবং ডাবল বেসের মতো অ্যাকুস্টিক যন্ত্রের সংযোজনে তৈরি হয়েছে আরও স্তরসমৃদ্ধ এক সাউন্ডস্কেপ।
লে মোঁদ-কে দেওয়া লিখিত উত্তরে এই জুটি জানিয়েছে, “এই প্রকল্পে আমরা কল্পনা থেকে নোটেশন, আর নোটেশন থেকে সরাসরি পরিবেশনার পথে এগিয়েছি।”
সাক্ষাৎকার নয়, কথা বলুক গান
বর্তমানে লস অ্যাঞ্জেলেসে বসবাসকারী ডোমি ও জেডি খুব বেশি সাক্ষাৎকার দেন না। তাঁদের যুক্তি, প্রথম অ্যালবাম এবং নিজেদের পটভূমি নিয়ে ইতিমধ্যেই যথেষ্ট কথা বলা হয়েছে। এবার তাঁরা চান, তাঁদের হয়ে কথা বলুক সঙ্গীতই।
এই জুটিকে প্রথম আবিষ্কার করেছিলেন ক্যালিফোর্নিয়ার র্যাপার, গায়ক ও প্রযোজক অ্যান্ডারসন .পাক। পরে তাঁদের ভিজ্যুয়াল পরিচয় গড়ে তুলতেও সাহায্য করেন তিনি।
ডোমি ও জেডির অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে .পাকের Apeshit লেবেল এবং ঐতিহ্যবাহী Blue Note-এর যৌথ উদ্যোগে।
লেবেলের সঙ্গে চুক্তির কারণ ব্যাখ্যা করে শিল্পীদ্বয় জানিয়েছে, “আমরা এই লেবেলে সই করেছি যাতে সম্পূর্ণ সৃজনশীল স্বাধীনতা পাই এবং বাজারে কী বিক্রি হবে, সেই চিন্তা না করে নিজেরা যে সঙ্গীত করতে চাই, সেটাই করতে পারি।”
তারকা অতিথি কম, সুরের পরীক্ষা বেশি
প্রথম অ্যালবামে থান্ডারক্যাট, স্নুপ ডগ এবং ম্যাক ডিমার্কোর মতো তারকার উপস্থিতি ছিল। কিন্তু ‘Who Asked?’-এ অতিথি শিল্পীর সংখ্যা অনেকটাই কম।
এবার বরং সুরের কাঠামো এবং বিন্যাসে বেশি মন দিয়েছেন তাঁরা। ডোমির ভাই নোয়ে দেগালের সঙ্গে যৌথভাবে গান লেখা ও প্রযোজনার কাজও করেছেন তাঁরা।
এই বদলের পিছনে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা। ২০২৩ সালে তাঁদের প্রথম অ্যালবামকে মেট্রোপোল অর্কেস্ট্রার জন্য নতুন করে অর্কেস্ট্রাল বিন্যাসে সাজানোর কাজ করেছিলেন তাঁরা। সেই অভিজ্ঞতাই তাঁদের সুরচিন্তায় নতুন দরজা খুলে দেয়। আর সেই পথ ধরেই জন্ম নেয় দ্বিতীয় অ্যালবামের নতুন সাউন্ড।
জ্যাজ শুনতে এসে শ্রোতারা নাচছেন!
ডোমি ও জেডি বেকের শ্রোতাদের বড় অংশই তরুণ। প্রচলিত জ্যাজ কনসার্টে যেখানে দর্শক সাধারণত চুপচাপ বসে সঙ্গীত উপভোগ করেন, তাঁদের অনুষ্ঠানে দৃশ্যটা একেবারেই আলাদা—শ্রোতারা উঠে দাঁড়ান, নাচেন, তালে তালে দুলে ওঠেন।
ফলে তাঁদের সঙ্গীত শুধু জ্যাজের শ্রোতাকেই টানছে না, বরং ঘরানাটির প্রচলিত শ্রোতাচিত্রও বদলে দিচ্ছে।
তাঁদের কাছে অবশ্য এই বিভাজনের খুব একটা অর্থ নেই। তাঁদের কথায়, “আমরা কোনও লেবেল বা ঘরানা নিয়ে ভাবি না। আমরা অসংখ্য ধরনের সঙ্গীত ভালোবাসি এবং শিল্পকে আলাদা আলাদা খোপে ভাগ করতে পছন্দ করি না।”
জ্যাজ, পপ আর ইলেকট্রনিকের স্বপ্নযাত্রা
চার মিনিটেরও কম দৈর্ঘ্যের অধিকাংশ গান নিয়ে সাজানো ‘Who Asked?’-এ কখনও ইলেকট্রোপপ, কখনও ইন্ডি পপের ছোঁয়া। কোথাও অর্কেস্ট্রার গভীরতা, কোথাও আবার জ্যাজের তাৎক্ষণিকতা।
ফলে অ্যালবামটি যেমন মূলধারার রেডিও বা উৎসবের তরুণ শ্রোতাদের কাছে সহজে পৌঁছতে পারে, তেমনই সমকালীন জ্যাজ কোন পথে এগোতে পারে, তারও ইঙ্গিত দেয়।
ডোমি ও জেডি বেকের নতুন অ্যালবাম তাই শুধু কিছু নতুন গান নয়। এটি যেন এক স্বপ্নময় সঙ্গীতভ্রমণ—যেখানে জ্যাজের ঐতিহ্য, আধুনিক পপ, ইলেকট্রনিক সাউন্ড এবং অর্কেস্ট্রাল আবহ একসঙ্গে মিশে তৈরি করেছে একেবারেই নতুন এক শ্রুতিজগৎ।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



