বাংলাস্ফিয়ার: কমনওয়েলথ গেমসে জুডোয় দুর্দান্ত সাফল্য পেল ভারত। বৃহস্পতিবার মহিলাদের ৪৮ কেজি বিভাগে অস্মিতা দে এবং পুরুষদের ৬০ কেজি বিভাগে হর্ষ সিং সোনা জিতেছেন। অন্যদিকে, মহিলাদের আরেক প্রতিযোগী যামিনী মৌর্য ফাইনালে উঠে অন্তত রুপো নিশ্চিত করেছেন। তিনি পরে সোনার লড়াইয়ে নামবেন।

দক্ষিণ ত্রিপুরার বেলোনিয়ার এক সাধারণ পরিবারে জন্ম অস্মিতা দে-র। তাঁর বাবা একজন সাইকেল মেকানিক। আর্থিক অনটনের মধ্যেই বড় হওয়া অস্মিতা প্রথমে ৮০০ মিটার দৌড়ে অ্যাথলেটিক্স করতেন। পরে তাঁর প্রথম কোচ তাঁকে জুডোয় নিয়ে আসেন। ২০১৫ সালে তিনি ত্রিপুরা স্পোর্টস স্কুলে ভর্তি হন। ন্যাশনাল স্কুল গেমস এবং খেলো ইন্ডিয়ায় ধারাবাহিক সাফল্যের সুবাদে ২০১৮ সালে ভারতীয় ক্রীড়া কর্তৃপক্ষের (এসএআই) ভোপালের জাতীয় উৎকর্ষ কেন্দ্র (এনসিওই)-এ সুযোগ পান। তারপর থেকে সেখানেই প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।

আন্তর্জাতিক মঞ্চেও অস্মিতা ইতিমধ্যেই নিজের পরিচয় গড়ে তুলেছেন। এশিয়ান ওপেন, জুনিয়র এশিয়া কাপ জুডো চ্যাম্পিয়নশিপ এবং কমনওয়েলথ জুডো চ্যাম্পিয়নশিপে পদক জিতে তিনি ৪৮ কেজি বিভাগে ভারতের অন্যতম সেরা জুডোকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ফাইনালে তিনি কানাডার হেইডি কোয়াচকে হারিয়ে সোনা জেতেন।

অন্যদিকে, হর্ষ সিং দেশের জুডো সার্কিটে দ্রুত নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছেন। জাতীয় প্রতিযোগিতা এবং বাছাই পর্বে ধারাবাহিক সাফল্যের ফলে তিনি আন্তর্জাতিক জুডো ফেডারেশনের (আইজেএফ) বিশ্ব সফরে ভারতের নিয়মিত প্রতিনিধি হয়ে ওঠেন। টোকিও গ্র্যান্ড স্ল্যাম, এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ এবং বিভিন্ন গ্রাঁ প্রি প্রতিযোগিতায় তিনি ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। কমনওয়েলথ গেমসের ফাইনালে তিনি অস্ট্রেলিয়ার জোশুয়া ক্যাটজকে হারিয়ে সোনা জেতেন।

ভারতের তৃতীয় ফাইনালিস্ট যামিনী মৌর্য মধ্যপ্রদেশের সাগরের বাসিন্দা। ১৯৯৮ সালের ২৬ মার্চ জন্ম তাঁর। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ, এশিয়ান গেমস, এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ এবং আইজেএফ বিশ্ব সফর-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় তিনি ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২০২২ সাল থেকে আন্তর্জাতিক সার্কিটে নিয়মিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি।

যামিনীর উল্লেখযোগ্য সাফল্যের মধ্যে রয়েছে ২০২২ সালের জাতীয় গেমসে সোনা, ২০২৫ সালের হংকং এশিয়ান ওপেনে সোনা, ২০২৬ সালের ডাকার আফ্রিকান ওপেনে সোনা এবং ২০২৩ সালের বিশ্ব বিশ্ববিদ্যালয় গেমসে ব্রোঞ্জ। বর্তমানে কর্ণাটকের ইনস্পায়ার ইনস্টিটিউট অব স্পোর্টে কোচ জীবন শর্মার তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন তিনি। ফাইনালে উঠে তিনি অন্তত রুপো নিশ্চিত করেছেন, এখন লক্ষ্য সোনা।

তবে সব ভারতীয় জুডোকার ভাগ্যে পদক জোটেনি। মহিলাদের ৫২ কেজি বিভাগে শ্রদ্ধা কাদুবাল চোপাড়ে রিপেশাজ পর্বে ওয়েলসের লোলা হডসনের কাছে ইউকো ব্যবধানে হেরে বিদায় নেন। এর আগে তিনি সিয়েরা লিওনের জেন মাসাকোয়িকে ইপ্পনে হারালেও কোয়ার্টার ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার টিঙ্কা ইস্টনের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন।

পুরুষদের ৬৬ কেজি বিভাগেও রোহিত বসির মাজগুল রিপেশাজে ইংল্যান্ডের মাইকেল ফ্রায়ারের কাছে ইউকো ব্যবধানে হেরে ছিটকে যান। এর আগে তিনি মোজাম্বিকের স্যামুয়েল রিবেইরোকে হারিয়েছিলেন, কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে সাইপ্রাসের পেত্রোস ক্রিস্টোদুলিদেসের কাছে পরাজিত হন।