ভারতে ₹১০ ও ₹২০ মূল্যের পলিমার নোটের পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরু করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, আপাতত কাগজের নোট তুলে দিয়ে সম্পূর্ণভাবে পলিমার নোট চালুর কোনও পরিকল্পনা নেই। সংসদে এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক এই তথ্য জানিয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, দীর্ঘস্থায়ী ও নকল করা কঠিন হওয়ায় পলিমার নোটের সম্ভাবনা নিয়ে বহু বছর ধরেই আলোচনা চলছে। সেই কারণেই সীমিত পরিসরে ₹১০ ও ₹২০-র পলিমার নোট পরীক্ষামূলকভাবে চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অর্থ মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রচলিত কাগজের নোট প্রত্যাহারের কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (আরবিআই) আগের মতোই কাগজের নোট ছাপা ও বাজারে সরবরাহ করে যাবে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে কাগজের নোট বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কার কোনও কারণ নেই।
পলিমার নোট বিশেষ ধরনের প্লাস্টিকজাতীয় উপাদান দিয়ে তৈরি হয়। এই নোট সহজে ছিঁড়ে যায় না, জল বা আর্দ্রতায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনাও কম। পাশাপাশি নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য উন্নত হওয়ায় জাল নোট তৈরি করাও তুলনামূলকভাবে কঠিন। অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাজ্য, নিউজিল্যান্ড-সহ বিশ্বের একাধিক দেশ ইতিমধ্যেই পলিমার নোট ব্যবহার করছে।
ভারতেও অতীতে পলিমার নোট চালুর প্রস্তাব উঠেছিল। তবে উৎপাদন ব্যয়, মুদ্রণ অবকাঠামো এবং ব্যবহারিক সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা করে বিষয়টি দীর্ঘদিন এগোয়নি। এবার পরীক্ষামূলক প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তব পরিস্থিতিতে এই নোটের কার্যকারিতা যাচাই করা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পলিমার নোটের প্রাথমিক উৎপাদন খরচ তুলনামূলক বেশি হলেও এর আয়ু কাগজের নোটের চেয়ে অনেক বেশি। ফলে দীর্ঘমেয়াদে নোট বদলানোর প্রয়োজন কমে গিয়ে সামগ্রিক ব্যয় হ্রাস পেতে পারে।
সরকারের এই ঘোষণার ফলে স্পষ্ট হয়েছে, পলিমার নোট নিয়ে পরীক্ষা শুরু হলেও আপাতত কাগজের নোটই দেশের প্রধান মুদ্রা হিসেবে বহাল থাকবে। পরীক্ষার ফল এবং আরবিআইয়ের মূল্যায়নের ওপরই ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে।