ভারতের তারকা পেসার জসপ্রীত বুমরাহকে দীর্ঘ কেরিয়ারের জন্য নিজের শরীরকে আরও শক্তিশালী করে তোলার পরামর্শ দিলেন অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি পেসার গ্লেন ম্যাকগ্রা। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে আসন্ন টেস্ট সিরিজে বুমরাহর খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই ম্যাকগ্রা বলেন, দ্রুতগতির বোলারদের বারবার চোট পাওয়ার সমস্যা কাটানোর একমাত্র উপায় হল শরীরকে বোলিংয়ের চাপ সহ্য করার মতো করে গড়ে তোলা।
সম্প্রতি আইপিএলের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট শুরু হওয়ার পর থেকেই ভারতের একাধিক পেসার চোটে পড়েছেন। বুমরাহ ছাড়াও জিম্বাবোয়ে সফরে চোট পেয়েছেন প্রিন্স যাদব। আবার দীর্ঘ দু’বছর পর চোট কাটিয়ে জাতীয় দলে ফিরেছেন মায়াঙ্ক যাদব।
এমআরএফ পেস ফাউন্ডেশনের অনুষ্ঠানে ম্যাকগ্রা বলেন, বুমরাহর ভবিষ্যৎ শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে তিনি নিজের কেরিয়ারকে কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান তার উপর।
“বুমরাহর বয়স এখন ৩১-৩২। এই বয়সে একজন পেসারের এখনও অনেক ক্রিকেট বাকি থাকে। ওকে এমন একটা পথ খুঁজে বের করতে হবে যাতে দীর্ঘদিন খেলতে পারে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ও কয়েকবার চোট পেয়েছে। কিন্তু ও বিশ্বমানের বোলার। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত ওকেই নিতে হবে—ও কি টেস্ট ক্রিকেটকে বেশি গুরুত্ব দেবে, নাকি টি-টোয়েন্টিতে মন দেবে। অবশ্যই ওর শরীরও একটা বড় বিষয়। ওর বোলিং অ্যাকশনে হাত অনেকটা বেশি প্রসারিত হয়, ফলে কনুই ও সংশ্লিষ্ট জয়েন্টের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। ভবিষ্যৎ কী হয়, সেটাই এখন দেখার,” বলেন ম্যাকগ্রা।
ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট ইতিমধ্যেই বুমরাহর কাজের চাপ নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। ২০২৩ সালের বিশ্বকাপের পর ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক একদিনের সিরিজেই তিনি প্রথম ওডিআই খেলেন। আগামী বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে তাঁকে টি-২০ আন্তর্জাতিক থেকে বিশ্রামও দেওয়া হয়েছে।
ম্যাকগ্রার মতে, দ্রুতগতির বোলারদের অতিরিক্ত সুরক্ষার মধ্যে রাখলে লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হয়।
“পেস বোলিং স্বাভাবিক শারীরিক ক্রিয়া নয়। তাই চোট এই পেশারই অংশ। কিন্তু আজকাল যেটা দেখে আমি হতাশ হই, তা হল পেসারদের যেন তুলোর মধ্যে মুড়ে রাখা হয়। চোটের পর শুধু ধীরে ধীরে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়। অথচ দীর্ঘদিন পুনর্বাসনের মধ্যে থাকলে ফিটনেস ও শক্তি দুটোই অনেক পিছিয়ে যায়। ফলে মাঠে ফিরে আবার শুরু থেকে তৈরি হতে হয়,” বলেন তিনি।
ম্যাকগ্রার মতে, পুনর্বাসনের সময়ও মাঠের বাইরে কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যেতে হবে। জিমে সঠিক অনুশীলন, শরীরের শক্তি বৃদ্ধি এবং ফিটনেস বাড়ানোর উপর জোর দিতে হবে, যাতে বোলিংয়ের চাপ শরীর সহজে নিতে পারে।
নিজের কেরিয়ারের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, শুরুতে পাঁজরের পেশিতে গুরুতর চোট পাওয়ার পরই তিনি বুঝেছিলেন যে শুধু প্রতিভা দিয়ে দীর্ঘদিন টিকে থাকা সম্ভব নয়।
“চোট পাওয়ার পর আমার ওজন অনেক কমে গিয়েছিল। তখন বুঝলাম, একইভাবে চললে বেশিদিন খেলতে পারব না। এরপর প্রশিক্ষক কেভিন শেভেলের সঙ্গে কাজ শুরু করি। তিনি আমার শরীরকে এমনভাবে তৈরি করেছিলেন যে আমি কার্যত ‘অভঙ্গুর’ হয়ে উঠেছিলাম। আমি সবসময় বিশ্বাস করি, পেসারদের আরও কঠোর পরিশ্রম করিয়ে শারীরিকভাবে শক্তিশালী করতে হবে, শুধু সুরক্ষার মধ্যে রেখে নয়,” বলেন ম্যাকগ্রা।
ভারতের সামনে শ্রীলঙ্কা সফরের পর নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে আরও দুটি টেস্ট এবং ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট সিরিজ রয়েছে। তাই বুমরাহর ফিটনেস ও দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি ভারতীয় দলের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।