Home খবর ভুয়ো প্রচারে মেটা-গুগল-এক্সের বিরুদ্ধে গড়করি

ভুয়ো প্রচারে মেটা-গুগল-এক্সের বিরুদ্ধে গড়করি

Authored By Shibangi Bose
4 views 2 minutes read
A+A-
Reset

ই-২০ (E20) প্রকল্প থেকে ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক লাভ করেছেন—এমন অভিযোগ তুলে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুয়ো পোস্ট, এআই-নির্ভর ডিপফেক ভিডিও এবং বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে বড় স্বস্তি পেলেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রী নীতিন গড়করি। বম্বে হাই কোর্ট তাঁকে মেটা, গুগল, এক্স (সাবেক টুইটার)-সহ একাধিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মানহানির মামলা করার অনুমতি দিয়েছে।

সোমবার বিচারপতি অভয় আহুজা-র একক বেঞ্চ গড়করির আবেদন মঞ্জুর করে জানায়, তিনি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের করতে পারবেন। পাশাপাশি বিতর্কিত পোস্ট, ডিপফেক ভিডিও এবং অন্যান্য কনটেন্ট দ্রুত সরানোর জন্য আদালতের কাছে অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞার আবেদনও জানাতে পারবেন।

অভিযোগ কী?

গড়করির দাবি, বিভিন্ন সমাজমাধ্যমে এমন বহু পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে তাঁকে এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি (E20) কর্মসূচি থেকে ব্যক্তিগত আর্থিক সুবিধা পাওয়ার অভিযোগে জড়ানো হয়েছে।

তাঁর আরও অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে তাঁর বক্তব্য বিকৃত করে ডিপফেক ভিডিও তৈরি করা হয়েছে। এসব কনটেন্ট সম্পূর্ণ মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, এই প্রচার তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ণ করছে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই মামলা?

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মামলার গুরুত্ব শুধু একজন মন্ত্রীর মানহানির অভিযোগে সীমাবদ্ধ নয়। বড় প্রশ্ন হল, কোনও ব্যক্তিকে নিয়ে ভুয়ো তথ্য বা ডিপফেক কনটেন্ট ভাইরাল হলে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলির দায়িত্ব কতটা এবং তারা কত দ্রুত সেই কনটেন্ট সরাতে বাধ্য—সেই বিষয়েও আদালতের অবস্থান স্পষ্ট হতে পারে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এআই-নির্ভর ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার দ্রুত বেড়েছে। রাজনীতিক, অভিনেতা, শিল্পপতি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ—অনেকেই ভুয়ো ভিডিও ও বিকৃত বক্তব্যের শিকার হচ্ছেন। ফলে এই মামলাকে ভবিষ্যতের ডিপফেক-সংক্রান্ত আইনি লড়াইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

ই-২০ প্রকল্প নিয়ে বিতর্ক কেন?

যে ই-২০ কর্মসূচিকে ঘিরে এই বিতর্ক, সেটি ভারতের জ্বালানি নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। ইথানল ব্লেন্ডেড পেট্রোল (EBP) প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের ওপর নির্ভরতা কমানো, দূষণ হ্রাস করা এবং আখ, ভুট্টা ও চাল থেকে উৎপাদিত ইথানলের ব্যবহার বাড়ানো।

সরকারের দাবি, এই কর্মসূচির ফলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি কৃষকদের জন্য নতুন বাজার তৈরি হয়েছে এবং জ্বালানি ক্ষেত্রে দেশের আত্মনির্ভরতা বেড়েছে। তবে সমালোচকদের একাংশ খাদ্যশস্যের ব্যবহার, জলসম্পদের ওপর চাপ এবং মূল্য নির্ধারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

এই বিতর্কের মধ্যেই গড়করিকে ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক লাভের সঙ্গে যুক্ত করে ভুয়ো পোস্ট ছড়িয়ে পড়ায় তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন।

এবার কী হবে?

আদালতের অনুমতির পর গড়করি এখন আনুষ্ঠানিকভাবে দেওয়ানি মানহানির মামলা দায়ের করবেন। সেই মামলায় তিনি বিতর্কিত কনটেন্ট অপসারণ, ভবিষ্যতে এ ধরনের পোস্টের প্রচার রোধ এবং প্রয়োজনে ক্ষতিপূরণের দাবিও তুলতে পারেন।

ডিজিটাল যুগে ভুয়ো তথ্য ও ডিপফেকের বিস্তার যত বাড়ছে, ততই এই ধরনের মামলার গুরুত্বও বাড়ছে। গড়করির এই আইনি পদক্ষেপ তাই শুধু ব্যক্তিগত মানহানির প্রশ্ন নয়, বরং এআই-সৃষ্ট বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের বিরুদ্ধে ভারতের বিচারব্যবস্থা কী অবস্থান নেয়, সেদিক থেকেও তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles