Home International পাঁচ বছর পর ফের ‘অ্যাকশন’ সিনেরামা ডোমে!

পাঁচ বছর পর ফের ‘অ্যাকশন’ সিনেরামা ডোমে!

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
8 views 2 minutes read
A+A-
Reset

পাঁচ বছরের নীরবতা ভেঙে ফের জ্বলবে হলিউডের এক ঐতিহাসিক সিনেমা হলের আলো। লস অ্যাঞ্জেলেসের কিংবদন্তি সিনেরামা ডোম (Cinerama Dome) দীর্ঘ বন্ধ থাকার পর ২০২৮ সালের শুরুতেই আবার দর্শকদের জন্য খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

কোভিড-১৯ মহামারির সময় বন্ধ হয়ে যাওয়া এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাগৃহটি সংস্কার করে পুনরায় চালু করবে আলামো ড্রাফটহাউস সিনেমা। সংস্থাটির মালিকানা এখন সনি পিকচার্স এন্টারটেইনমেন্টের হাতে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ঘোষণায় জানানো হয়েছে, শুধু বিখ্যাত গম্বুজাকৃতির সিনেরামা ডোমই নয়, পাশের ১৪টি স্ক্রিনের মাল্টিপ্লেক্স কমপ্লেক্সটিও ফের চালু করা হবে। তবে আলামো ড্রাফটহাউসের অন্যান্য শাখার মতো এখানে দর্শকদের আসনের মধ্যেই খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা থাকবে না।

কারণ, এই প্রেক্ষাগৃহের ক্ষেত্রে খাবারের চেয়ে বড় বিষয় হল ইতিহাস। কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য, সিনেরামা ডোমের ঐতিহাসিক স্থাপত্য এবং মূল সিনেমা-দর্শনের অভিজ্ঞতাকে যতটা সম্ভব অক্ষুণ্ণ রাখা।

শুধু সিনেমা হল নয়, হলিউডের ইতিহাস

১৯৬৩ সালে উদ্বোধন হওয়া সিনেরামা ডোম হলিউডের অন্যতম পরিচিত স্থাপত্য। ৮৬ ফুট প্রশস্ত বিশাল বাঁকানো পর্দা এবং অনন্য জিওডেসিক গম্বুজের জন্য এটি বহু দশক ধরে চলচ্চিত্রপ্রেমীদের আকর্ষণের কেন্দ্র।

অসংখ্য বিখ্যাত ছবির প্রিমিয়ার হয়েছে এই প্রেক্ষাগৃহে। সময়ের সঙ্গে এটি আর শুধু সিনেমা দেখার জায়গা থাকেনি—হলিউডের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরই একটি অংশ হয়ে উঠেছে।

সনি পিকচার্স এন্টারটেইনমেন্টের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী রবি আহুজার কথায়, বিশ্বের খুব কম সিনেমা হলের সঙ্গেই সিনেরামা ডোমের মতো আবেগ, ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব জড়িয়ে আছে। সেই বিশেষ সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতাকে সংরক্ষণ করে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়াই তাঁদের লক্ষ্য।

পশ্চিম উপকূলে ড্রাফটহাউসের নতুন ‘ফ্ল্যাগশিপ’

আলামো ড্রাফটহাউসের প্রধান নির্বাহী মাইকেল কাস্টারম্যান জানিয়েছেন, পুনরায় চালু হওয়ার পর সিনেরামা ডোমই হবে সংস্থার পশ্চিম উপকূলের প্রধান বা ফ্ল্যাগশিপ প্রেক্ষাগৃহ।

পরিকল্পনা হল, অত্যাধুনিক প্রদর্শন প্রযুক্তি ও উন্নত সিনেমা-দর্শনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে ঐতিহাসিক স্থাপত্যের আবহকে মিলিয়ে দেওয়া। অর্থাৎ, পুরনো হলিউডের গ্ল্যামার থাকবে, তবে প্রযুক্তি হবে একেবারে আধুনিক।

মহামারির অন্ধকার থেকে প্রত্যাবর্তন

২০২০ সালে কোভিড-১৯ মহামারির সময় সিনেরামা ডোম বন্ধ হয়ে যায়। পরে এর তৎকালীন মালিক প্যাসিফিক থিয়েটার্স দেউলিয়া হয়ে পড়লে প্রেক্ষাগৃহটির ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি বাঁচানোর দাবিতে সরব হয়েছিলেন বহু চলচ্চিত্র নির্মাতা, অভিনেতা এবং সিনেমাপ্রেমী। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পুনরায় চালুর ঘোষণা তাই হলিউডে স্বস্তি ও আনন্দ—দুই-ই এনেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সিনেরামা ডোমের প্রত্যাবর্তন কেবল একটি পুরনো সিনেমা হলের দরজা ফের খোলার ঘটনা নয়। স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের দাপটের যুগে এটি বড় পর্দায় সিনেমা দেখার পুরনো জাদুরও পুনর্জাগরণ।

২০২৮ সালে আলো নিভে যাওয়া গম্বুজে ফের প্রজেক্টরের আলো জ্বলবে। আর হলিউডের এক কিংবদন্তি প্রেক্ষাগৃহ আবারও মনে করিয়ে দেবে—কিছু সিনেমা শুধু দেখা যায় না, অনুভবও করতে হয়।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles