বাংলাস্ফিয়ার: দিল্লির যন্তর-মন্তরে চলমান ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের সেখানে না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়ায় দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কড়া সমালোচনা করেছেন অভিনেত্রী ও চলচ্চিত্র নির্মাতা পূজা ভাট। তাঁর মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ ছাত্রদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সীমাবদ্ধ করা নয়, বরং তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় পাশে দাঁড়ানো।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জারি করা নির্দেশিকায় শিক্ষার্থীদের যন্তর-মন্তরের আন্দোলনস্থলে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রশাসনের যুক্তি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই নির্দেশ ঘিরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক।

সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে পূজা ভাট বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয় যদি ছাত্রদের নাগরিক দায়িত্ববোধ এবং গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেয়, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁর বক্তব্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কখনও ভয় দেখিয়ে বা নিষেধাজ্ঞা জারি করে সচেতন নাগরিক তৈরি করতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, ইতিহাসে বারবার দেখা গেছে, সমাজের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের পিছনে ছাত্রসমাজের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই ঐতিহ্যকে খর্ব করার চেষ্টা গণতন্ত্রের পক্ষে শুভ নয়। তাঁর মতে, মতপ্রকাশের অধিকার এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সংবিধানপ্রদত্ত অধিকার, যা রক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেরও।

যন্তর-মন্তরে সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক পরিবেশ। পরীক্ষায় অনিয়ম, শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহির দাবিতে বহু ছাত্র সেখানে বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন। আন্দোলন চলাকালীন পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, লাঠিচার্জ এবং বহু ছাত্র-ছাত্রীর আটক হওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশকে অনেকে প্রশাসনিক সতর্কতা হিসেবে দেখলেও, অন্য একটি অংশের মতে এটি ছাত্রদের সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করার প্রচেষ্টা।

পূজা ভাটের এই মন্তব্যের পর সামাজিক মাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বহু মানুষ তাঁর অবস্থানকে সমর্থন করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে সতর্কবার্তা দিতে পারে, কিন্তু কোনও নির্দিষ্ট আন্দোলনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকতে বলা স্বাধীনতার পরিপন্থী।

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখনও পর্যন্ত পূজা ভাটের মন্তব্যের কোনও আনুষ্ঠানিক জবাব দেয়নি। তবে প্রশাসন আগের অবস্থানেই অনড় রয়েছে বলে জানা গেছে। তাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ছিল এই নির্দেশের একমাত্র উদ্দেশ্য।

যন্তর-মন্তরের আন্দোলন ঘিরে দেশজুড়ে বিতর্কের আবহে পূজা ভাটের এই মন্তব্য নতুন করে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ছাত্ররাজনীতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা নিয়ে জাতীয় স্তরে আলোচনাকে আরও তীব্র করে তুলেছে।