হাইলাইটস:
- কেরলের শিবানন্দ আশ্রমে এক সপ্তাহ কাটিয়ে মুগ্ধ মার্কিন ট্রাভেল ভ্লগার কার্লা ভিয়ানা
- বিলাসবহুল রিট্রিটের চেয়ে আশ্রমজীবনকেই বেশি অর্থবহ বলে দাবি
- যোগ, ধ্যান, সেবাকর্ম ও নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি
ভারতে বিলাসবহুল ওয়েলনেস রিট্রিটের অভাব নেই। আয়ুর্বেদ, স্পা, যোগচর্চা ও প্রকৃতির ছোঁয়ায় তৈরি এই কেন্দ্রগুলি প্রতি বছর হাজার হাজার বিদেশি পর্যটককে আকৃষ্ট করে। কিন্তু মার্কিন ট্রাভেল ভ্লগার কার্লা ভিয়ানা বলছেন, প্রকৃত মানসিক শান্তি তিনি পেয়েছেন পাঁচতারা রিসর্টে নয়, কেরলের এক সাধারণ আশ্রমে।
সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও ও পোস্টে কার্লা জানান, তিনি কেরলের শিবানন্দ আশ্রমে টানা এক সপ্তাহ কাটিয়েছেন। সেই অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে তিনি লেখেন, “ভারতে একটি আশ্রমে এক সপ্তাহ কাটিয়েছি। যে কোনও পাঁচতারা ওয়েলনেস রিট্রিটের চেয়ে এই অভিজ্ঞতাকেই আমি বেছে নেব।”
কার্লার মতে, আশ্রমজীবনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল তার সরলতা। বিলাসিতা বা বাহ্যিক আরামের পরিবর্তে এখানে প্রতিদিনের জীবন গড়ে উঠেছিল নিয়ম, শৃঙ্খলা ও আত্মঅনুশীলনের উপর। ভোরে ঘুম থেকে ওঠা, যোগব্যায়াম, ধ্যান, সেবাকর্ম এবং নিরামিষ খাবার—এই সহজ জীবনযাপনই তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।
তিনি জানান, আশ্রমে কাটানো সময় তাঁকে নিজের সঙ্গে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। ব্যস্ত জীবনের কোলাহল থেকে দূরে থেকে মনকে শান্ত করা এবং বর্তমান মুহূর্তে বাঁচার শিক্ষা তিনি এখানেই পেয়েছেন।
কার্লার অভিজ্ঞতা সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়েছে। বহু নেটিজেন তাঁর বক্তব্যের প্রশংসা করে বলেছেন, ভারতের আশ্রম-সংস্কৃতি শুধু আধ্যাত্মিক নয়, মানসিক সুস্থতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অনেক বিদেশি ভ্রমণপ্রেমীও মন্তব্য করেছেন, তাঁরা ভবিষ্যতে এমন অভিজ্ঞতা নিতে আগ্রহী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বিদেশি পর্যটকদের মধ্যে ‘স্পিরিচুয়াল ট্যুরিজম’ বা আধ্যাত্মিক ভ্রমণের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। বিলাসবহুল ছুটির বদলে অনেকেই এখন এমন অভিজ্ঞতা খুঁজছেন, যা মানসিক শান্তি, আত্মঅন্বেষণ এবং জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সাহায্য করে।
কার্লা ভিয়ানার অভিজ্ঞতা সেই পরিবর্তনেরই প্রতিফলন। তাঁর বার্তা স্পষ্ট—সবচেয়ে মূল্যবান ভ্রমণ সব সময় সবচেয়ে বিলাসবহুল হয় না; কখনও কখনও সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি লুকিয়ে থাকে সরল জীবন, নীরবতা আর আত্মঅনুসন্ধানের মধ্যেই।