Home খবর ভূতের ভয় নয়, কম দামেই বাজিমাত! জাপানে বাড়ছে ‘ভূতুড়ে বাড়ি’র কদর

ভূতের ভয় নয়, কম দামেই বাজিমাত! জাপানে বাড়ছে ‘ভূতুড়ে বাড়ি’র কদর

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
3 views 4 minutes read
A+A-
Reset

হাইলাইটস:

  • খুন, আত্মহত্যা বা অস্বাভাবিক মৃত্যুর ইতিহাস থাকা বাড়ির চাহিদা বাড়ছে জাপানে
  • বাজারদরের তুলনায় ১০% থেকে ৫০% কম দামে মিলছে এই ‘জিকো বুক্কেন’
  • বাড়ির দাম বৃদ্ধিতে কুসংস্কারের চেয়ে সাশ্রয়ী আবাসনকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন বহু ক্রেতা

জাপানে একসময় যে বাড়িগুলি এড়িয়ে চলতেন অধিকাংশ মানুষ, এখন সেগুলিই ক্রেতাদের কাছে হয়ে উঠছে আকর্ষণের কেন্দ্র। কারণ একটাই—কম দাম। খুন, আত্মহত্যা, নিঃসঙ্গ মৃত্যু বা অন্য কোনও অস্বাভাবিক মৃত্যুর ইতিহাস বহনকারী এই বাড়িগুলিকে জাপানি ভাষায় বলা হয় ‘জিকো বুক্কেন’ (Jiko Bukken)। আর বাড়তে থাকা আবাসনের খরচের চাপে এখন সেই ‘ভূতুড়ে বাড়ি’র চাহিদাই ক্রমশ বাড়ছে।

বিশেষ করে টোকিও-সহ বড় শহরগুলিতে বাড়ির দাম ও ভাড়া লাগামছাড়া বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই পুরনো কুসংস্কার ভুলে সস্তায় বাড়ি কেনার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইছেন না। যে বাড়িতে একসময় থাকতে মানুষ ভয় পেতেন, আজ সেই বাড়িই অনেকের কাছে বাস্তবসম্মত সমাধান।

এই প্রবণতার সবচেয়ে পরিচিত মুখ জাপানের কৌতুকশিল্পী মাতসুবারা তানিশি। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে একের পর এক ‘জিকো বুক্কেন’-এ বসবাস করেছেন। কোথাও আগের বাসিন্দা খুনের অপরাধে জড়িত ছিলেন, কোথাও আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে, আবার কোথাও এক বৃদ্ধের দেহ দীর্ঘদিন অজানা অবস্থায় পড়ে ছিল।

প্রথম দিকে ভয় পেলেও পরে সেই অভিজ্ঞতাকেই তিনি নিজের পরিচয়ের অংশ করে তুলেছেন। তাঁর লেখা স্মৃতিকথা বেস্টসেলার হয়েছে, এমনকি সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে চলচ্চিত্রও নির্মিত হয়েছে।

এই ধরনের বাড়ির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ অবশ্যই দাম। সাধারণত বাজারদরের তুলনায় ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কম দামে বিক্রি হয় ‘জিকো বুক্কেন’। মৃত্যুর ঘটনা যত বেশি চাঞ্চল্যকর বা নৃশংস, মূল্যছাড়ও সাধারণত তত বেশি হয়।

যদিও বিশ্বের অন্য দেশেও এমন সম্পত্তির দাম কমে যায়, জাপানে বিষয়টি শুধু অর্থনীতির নয়, সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের সঙ্গেও জড়িত। শিন্তো ও বৌদ্ধ ধর্মীয় বিশ্বাসে অস্বাভাবিক মৃত্যুর পরে কোনও স্থানে অশুভ শক্তি বা অশান্ত আত্মার উপস্থিতির ধারণা বহু মানুষের মনে গভীরভাবে প্রোথিত। সেই কারণেই এখনও অনেকেই এই ধরনের বাড়ি এড়িয়ে চলেন।

এই রহস্যময় বাড়িগুলিকে আরও জনপ্রিয় করে তুলেছে সম্পত্তি বিনিয়োগকারী ওশিমা তেরু পরিচালিত একটি ওয়েবসাইট। সেখানে জাপানের বিভিন্ন ‘জিকো বুক্কেন’-এর অবস্থান মানচিত্রে দেখানো হয়। আগুনের চিহ্ন দিয়ে চিহ্নিত প্রতিটি বাড়ির সঙ্গে কী ধরনের অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘটেছিল, তার সংক্ষিপ্ত বিবরণও প্রকাশ করা হয়।

ওয়েবসাইটটির জনপ্রিয়তা এতটাই যে বহু মানুষ নিয়মিত সেখানে নজর রাখেন। টোকিওর বাসিন্দা কোবায়াশি ইয়োকো স্বীকার করেছেন, কৌতূহল সামলাতে না পেরে তিনিও প্রায়ই ওই মানচিত্র দেখেন। এমনকি কোনও গ্রাহকের বাড়ি তালিকায় দেখতে পেলে সেখানে কাজ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টাও করেন।

জাপানের আইন অনুযায়ী, অনেক ক্ষেত্রে বাড়ি বিক্রি বা ভাড়া দেওয়ার সময় মালিক বা দালালকে অতীতের অস্বাভাবিক মৃত্যুর তথ্য সম্ভাব্য ক্রেতা বা ভাড়াটিয়াকে জানাতে হয়। যদিও কতদিন পর্যন্ত সেই তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক, তা নিয়ে সময়ে সময়ে নিয়ম বদলেছে। ফলে এই সম্পত্তিগুলিকে ঘিরে আলাদা একটি বাজারও গড়ে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আবাসনের ক্রমবর্ধমান খরচ মানুষের মানসিকতায় বড় পরিবর্তন আনছে। উচ্চ বাড়িভাড়া, সীমিত আয় এবং শহরে থাকার প্রয়োজন—এই বাস্তবতায় অনেকেই এখন কুসংস্কারের চেয়ে আর্থিক সাশ্রয়কে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তরুণদের একাংশের মধ্যেও অতিপ্রাকৃত বিশ্বাস আগের তুলনায় কমেছে।

তবে রহস্যের আকর্ষণ এখনও অটুট। ‘জিকো বুক্কেন’কে ঘিরে বই, সিনেমা, টিভি অনুষ্ঠান এবং অনলাইন কনটেন্টের জনপ্রিয়তা আজও তুঙ্গে। ফলে এই বাড়িগুলি একদিকে যেমন আবাসন সংকটের বাস্তব সমাধান, অন্যদিকে তেমনই জাপানের জনপ্রিয় সংস্কৃতিরও এক অনন্য অংশ।

একসময় যে বাড়িকে অশুভ বলে এড়িয়ে চলা হত, আজ সেই বাড়িই অনেকের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে শহরে থাকার সুবর্ণ সুযোগ। জাপানে তাই এখন বাড়ির দামই যেন ভূতের ভয়কে হার মানাচ্ছে।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles