হাইলাইটস:
- জন্মদিনে ছুটি, নজরদারি নয়— ব্রিটিশ সংস্থার কর্মসংস্কৃতির প্রশংসায় ভারতীয় প্রযুক্তিকর্মী
- দিবাকর সিংয়ের দাবি, মোটা বেতনের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ কর্ম-জীবনের ভারসাম্য
- ভাইরাল পোস্ট ঘিরে ভারতীয় ও ব্রিটিশ কর্পোরেট সংস্কৃতি নিয়ে নতুন বিতর্ক
ভারতের এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে ফের আলোচনায় উঠে এসেছে কর্মসংস্কৃতির প্রশ্ন। যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি সংস্থায় পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে দূর থেকে কাজ করছেন দিবাকর সিং। তাঁর দাবি, চাকরির আসল আকর্ষণ মোটা বেতন নয়; বরং কর্মীর প্রতি সম্মান, স্বাধীনতা এবং স্বাস্থ্যকর কর্ম-জীবনের ভারসাম্যই তাঁকে সবচেয়ে বেশি তৃপ্তি দেয়।
সম্প্রতি নিজের জন্মদিনে ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও পোস্ট করেন দিবাকর। সেখানে দেখা যায়, জন্মদিন উপলক্ষে সংস্থা তাঁকে পুরো দিনের ছুটি দিয়েছে। ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি লেখেন, “যুক্তরাজ্যের কর্মসংস্কৃতির অভিজ্ঞতা পাওয়ার পর আর ভারতীয় কর্পোরেট সংস্কৃতিতে ফিরতে চাই না।” মুহূর্তের মধ্যেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায় এবং শুরু হয় তুমুল আলোচনা।
দিবাকর জানান, গত পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা তাঁকে শিখিয়েছে যে একটি ভালো কর্মস্থলের মূল্য শুধু বেতনের অঙ্কে নির্ধারিত হয় না। কর্মীদের ব্যক্তিগত জীবনের প্রতি সম্মান, সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা এবং পারস্পরিক বিশ্বাস— এই তিনটিই দীর্ঘমেয়াদে কর্মজীবনকে সুখকর করে তোলে।
তাঁর কথায়, অফিসে অযথা নজরদারি বা মাইক্রোম্যানেজমেন্টের কোনও জায়গা নেই। কখন লগ-ইন করলেন বা কখন কাজ শেষ করলেন, তা নিয়ে বাড়তি চাপ দেওয়া হয় না। সংস্থার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল নির্ধারিত সময়ে মানসম্মত কাজ শেষ করা। এই আস্থার পরিবেশ কর্মীদের আরও দায়িত্বশীল করে তোলে বলেই তাঁর বিশ্বাস।
শুধু তাই নয়, প্রয়োজন হলে ছুটি নেওয়া নিয়েও কোনও অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় না। ব্যক্তিগত প্রয়োজন, মানসিক স্বাস্থ্য কিংবা পরিবারের জন্য সময় দেওয়াকে সংস্থা সমান গুরুত্ব দেয়। এমনকি জন্মদিনেও কর্মীদের বিশ্রামের সুযোগ দেওয়া হয়। দিবাকরের মতে, এই ছোট ছোট উদ্যোগই কর্মীদের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা ও ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করে।
স্বাভাবিকভাবেই তাঁর অভিজ্ঞতা ভারতের বহু কর্মীর বাস্তবতার সঙ্গে তুলনা টেনে এনেছে। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, সপ্তাহান্তেও কাজের চাপ, রাতের বৈঠক, ছুটি নিতে অনীহা এবং অতিরিক্ত নজরদারির অভিযোগ— ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পে এই বিষয়গুলি নতুন নয়। ফলে অনেকেই দিবাকরের বক্তব্যের সঙ্গে নিজেদের অভিজ্ঞতার মিল খুঁজে পেয়েছেন।
তবে সবাই যে তাঁর সঙ্গে একমত, তা নয়। অনেকের মতে, ভারতের সব সংস্থার কর্মসংস্কৃতি এক নয়। বহু ভারতীয় প্রতিষ্ঠানও এখন নমনীয় কর্মঘণ্টা, ওয়ার্ক-ফ্রম-হোম, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা এবং কর্মীদের কল্যাণে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে। একইভাবে বিদেশি সংস্থার সব অফিসেও যে একই রকম ইতিবাচক পরিবেশ থাকে, তেমনটাও নয়।
তবু দিবাকরের পোস্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনে দিয়েছে— চাকরি বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে কি শুধু বেতনই শেষ কথা? নতুন প্রজন্মের বহু পেশাজীবীর কাছে উত্তরটা ক্রমশ বদলাচ্ছে। এখন মোটা বেতনের পাশাপাশি কর্মীর প্রতি সম্মান, আস্থা এবং সুস্থ কর্মপরিবেশও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
দিবাকরের ভাইরাল ভিডিও সেই পরিবর্তিত মানসিকতারই প্রতিফলন। তাঁর বার্তা স্পষ্ট— সফল ক্যারিয়ারের মানে শুধু বেশি উপার্জন নয়, এমন কর্মস্থলও যেখানে কর্মীকে কেবল ‘রিসোর্স’ নয়, একজন মানুষ হিসেবেও মূল্য দেওয়া হয়।