Table of Contents
মার্কিন অভিযোগে ফাঁস আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের জাল
হাইলাইটস:
- হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যা মামলায় লরেন্স বিষ্ণোইয়ের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ।
- অভিযোগ, জেলবন্দি অবস্থায় চোরাই মোবাইল ব্যবহার করে হত্যার ছক কষেছিলেন।
- পলাতক সহযোগী সতিন্দরজিৎ সিং-সহ ৩৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন।
- যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপের যৌথ অভিযানে ভাঙল আন্তর্জাতিক অপরাধচক্র।
- নিজ্জর হত্যাকাণ্ড ঘিরেই তীব্র কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল ভারত-কানাডার মধ্যে।
কানাডার শিখ নেতা হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যা মামলায় ভারতের কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। একই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী সতিন্দরজিৎ সিংকেও, যিনি এখনও পলাতক।
জেল থেকেই হত্যার ছক?
মার্কিন অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, ভারতে কারাগারে বন্দি থাকাকালীনই চোরাই পথে আনা মোবাইল ফোন ব্যবহার করে পুরো হত্যার পরিকল্পনা পরিচালনা করেছিলেন বিষ্ণোই। তদন্তকারীদের অভিযোগ, তিনি সহযোগীদের কাছে নিজ্জরের ছবি ও একাধিক ঠিকানা পাঠিয়েছিলেন, যাতে হামলাকারীরা সহজে তাঁকে শনাক্ত করতে পারে।
৩৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ
এই অভিযোগ সামনে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ইউরোপের একাধিক আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার যৌথ অভিযানের পর। তদন্তে তিনটি আন্তর্জাতিক ভারতীয় অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে মোট ৩৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
অভিযোগের তালিকায় রয়েছে খুন, অপহরণ, চাঁদাবাজি, অস্ত্র পাচার, মাদক পাচার এবং সংঘবদ্ধ অপরাধে জড়িত থাকার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ।
মার্কিন অ্যাটর্নি বিল এসায়লি জানিয়েছেন, এখনও সাতজনকে যুক্তরাষ্ট্রে, দু’জনকে ভারতে এবং একজনকে ইউরোপে খোঁজা হচ্ছে। তদন্তে এফবিআই, লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগ এবং রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (RCMP)-সহ একাধিক সংস্থা একযোগে কাজ করেছে।
নিজ্জর হত্যা ও ভারত-কানাডা টানাপোড়েন
২০২৩ সালে কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়ার একটি গুরুদ্বারের বাইরে গুলি করে হত্যা করা হয় হরদীপ সিং নিজ্জরকে। তিনি ওই গুরুদ্বারের সভাপতি এবং খালিস্তানপন্থী আন্দোলনের পরিচিত মুখ ছিলেন।
এই হত্যাকাণ্ডের পর তৎকালীন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো প্রকাশ্যে দাবি করেছিলেন, ঘটনায় ভারত সরকারের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে “বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ” রয়েছে। ভারত সেই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে। এরপরই দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক তীব্রভাবে অবনতি ঘটে এবং উভয় দেশ একে অপরের কূটনীতিকদের বহিষ্কার করে।
একাধিক দেশে ছড়িয়ে ছিল নেটওয়ার্ক
তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্ত অপরাধচক্রগুলির নেটওয়ার্ক শুধু ভারত বা কানাডায় সীমাবদ্ধ ছিল না। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, পর্তুগাল-সহ একাধিক দেশে তাদের সক্রিয়তা ছিল।
অভিযোগ অনুযায়ী, এই চক্রগুলি মাদক পাচার, অস্ত্র পাচার, চাঁদাবাজি এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বীদের ভয় দেখানো ও হামলার সঙ্গেও জড়িত ছিল। তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, কয়েকজন অভিযুক্ত স্থানীয় দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারি কর্মকর্তাদের যোগাযোগ ব্যবহার করে প্রতিদ্বন্দ্বীদের হয়রানি করত এবং তথ্যদাতাদের নিশানা বানাত।
এদিকে, মঙ্গলবার পর্যন্ত লরেন্স বিষ্ণোইয়ের পক্ষে আদালতের নথিতে কোনও আইনজীবীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। মামলার অগ্রগতি এবং আন্তর্জাতিক তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর।