ওয়াশিংটন: অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপের প্রভাব পড়ছে ভারতীয়দের উপরও। ২০২৫ সালের শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত ৪,৮৪০ জন ভারতীয় নাগরিককে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার এই তথ্য জানিয়েছেন ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।

বিদেশ মন্ত্রকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৩,৫৬৭ জন ভারতীয়কে বহিষ্কার করা হয়। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত আরও ১,২৭৩ জনকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। অর্থাৎ, দেড় বছরেরও কম সময়ে ফেরত পাঠানো ভারতীয়ের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪,৮৪০।

শুক্রবার নিয়মিত সাংবাদিক বৈঠকে জয়সওয়াল বলেন, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এখনও পর্যন্ত ১,২৭৩ জন ভারতীয়কে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ৩,৫৬৭।

ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই অবৈধ অভিবাসন ঠেকানোকে তাঁর প্রশাসনের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার করা হয়েছে। সেই নীতির অংশ হিসেবে অভিবাসন আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করেছে মার্কিন প্রশাসন। ভারতীয়দের পাশাপাশি লাতিন আমেরিকা, এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিকরাও এই অভিযানের আওতায় পড়ছেন।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত ভারতীয়ের সংখ্যা ছিল গত ১৬ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির প্রভাব ভারতীয় নাগরিকদের উপর কতটা পড়েছে, তা স্পষ্ট হচ্ছে।

অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও থেকে যাওয়া কিংবা অভিবাসন আইনের অন্যান্য শর্ত লঙ্ঘন—এই ধরনের কারণেই অনেককে বহিষ্কারের মুখে পড়তে হচ্ছে। প্রশাসনের কড়াকড়ি বাড়ায় আগামী দিনে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা।

তবে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় ভারত সরকারও সক্রিয় রয়েছে। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ভারতীয়দের স্বার্থ রক্ষায় মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। বহিষ্কৃত নাগরিকদের দেশে ফেরানোর ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতিতে আপাতত কোনও শিথিলতার ইঙ্গিত নেই। ফলে বৈধ নথি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ভারতীয়দের জন্য সামনে আরও কঠিন সময় অপেক্ষা করছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।