যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় একটি লিয়ারজেট ৬০ (Learjet 60) বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৯ জন নিহত হয়েছেন। গত রোববার বাহামাগামী এই বিমানটি ফ্লোরিডার গ্রিনএকারস এলাকার কাছে একটি আবাসিক মোবাইল হোম কমিউনিটিতে আছড়ে পড়ে। এতে বিমানে থাকা সব আরোহী প্রাণ হারান। তবে মাটিতে থাকা কারও মৃত্যু হয়নি, শুধু একজনের পায়ে আঘাত লেগেছে। দুর্ঘটনার পরপরই নিরাপত্তার স্বার্থে ওই এলাকার প্রায় ৬০০ বাসিন্দাকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন টেক্সাসের অস্টিনের বাসিন্দা ৪৫ বছর বয়সী টেক মিলিয়নিয়ার অ্যাডাম রবিনসন। তিনি নিজের জন্মদিন উদযাপন করতে সপরিবারে বাহামায় যাচ্ছিলেন। রবিনসন ছিলেন 'রবলি', 'রিটেনশন ডট কম' এবং 'আরবিটুবি' নামের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর সাথে নিহত হয়েছেন স্ত্রী হেলেন শার্প এবং দুই ছোট সন্তান এমা ও চার্লি। এছাড়া তাঁদের সন্তানদের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা এক আয়া এবং পরিবারের দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধুও এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।
বিমানটিতে পাইলট হিসেবে ছিলেন ৫৫ বছর বয়সী জেফ গ্রেগরি। তাঁর সাথে কো-পাইলট হিসেবে ছিলেন মাত্র ২০ বছর বয়সী নাথালিয়া গাদেলহা ফিলগুইরাস। নাথালিয়া গাড়ি চালানোর লাইসেন্স পাওয়ার আগেই মাত্র ১৭ বছর বয়সে পাইলট লাইসেন্স অর্জন করেছিলেন। তাঁর ১৩০০ ঘণ্টার বেশি সময় বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা ছিল। দুর্ঘটনার আগে শেষ মুহূর্তে রেডিওতে তাঁর কণ্ঠই শোনা গিয়েছিল।
উড্ডয়নের প্রায় দুই ঘণ্টা পর এই দুর্ঘটনা ঘটে। বিমানটি তখন ৩৫ হাজার ফুট ওপর দিয়ে উড়ছিল। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের রেকর্ডিং থেকে জানা যায়, পাইলটরা সে সময় বিমানের গায়ে বরফ জমা এবং মাঝারি ধরনের বৈরী আবহাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। এরপরই বিমানটি অস্বাভাবিক দ্রুতগতিতে প্রতি মিনিটে ১০ থেকে ২০ হাজার ফুট বেগে নিচে নামতে শুরু করে।
দুর্ঘটনার আগমুহূর্তের একটি অডিও রেকর্ডিংয়ে পাইলটকে মরিয়া হয়ে "মেডে! মেডে!" বলে চিৎকার করতে শোনা যায়। তিনি বলছিলেন, "আমরা মাটিতে আছড়ে পড়তে যাচ্ছি!" ককপিট থেকে আসা শেষ বার্তায় জানানো হয়, তাঁদের হাতে আর একদমই সময় নেই।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) এবং ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) এই দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করছে। এনটিএসবি-এর সদস্য টম চ্যাপম্যান জানিয়েছেন, মাটিতে আছড়ে পড়ার আগেই মাঝ আকাশে বিমানটি টুকরো টুকরো হতে শুরু করেছিল বলে তাঁরা ধারণা করছেন। মূল দুর্ঘটনাস্থল থেকে অনেক দূরেও বিমানের ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা গেছে।
পাঠকের মন্তব্য ০
শালীন ও বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করুন। মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ হবে।
এই প্রতিবেদনে নতুন মন্তব্য গ্রহণ বন্ধ রয়েছে।
এখনও কোনো অনুমোদিত মন্তব্য নেই।