একই অভিযোগ সংশোধন করে বা নতুন করে আর মামলা করতে পারবেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট

মারিনা ডানবার | দ্য গার্ডিয়ান
৩১ অক্টোবর ২০২৬

জেফ্রি এপস্টিনকে লেখা বলে দাবি করা জন্মদিনের একটি চিঠি নিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্পের করা মামলা শনিবার খারিজ করে দিয়েছেন এক মার্কিন বিচারক। আদালতের নথি অনুযায়ী, মামলাটি খারিজ হয়েছে ‘উইথ প্রেজুডিস’ শর্তে। অর্থাৎ, অভিযোগপত্র সংশোধন করে কিংবা নতুন করে একই মামলা দায়ের করার আর কোনও সুযোগ থাকছে না মার্কিন প্রেসিডেন্টের।

এর আগে এপ্রিলে মামলাটি একবার খারিজ হয়েছিল। তবে সে বার ট্রাম্পকে অভিযোগপত্র সংশোধনের সুযোগ দিয়েছিলেন বিচারক। শনিবারের রায়ে সেই সুযোগও বন্ধ হয়ে গেল।

বিতর্কের সূত্রপাত ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদন ঘিরে। তাতে দাবি করা হয়েছিল, ২০০৩ সালে কুখ্যাত অর্থলগ্নিকারী জেফ্রি এপস্টিনকে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট অবশ্য চিঠিটির সত্যতা অস্বীকার করে দাবি করেন, সেটি জাল করে তৈরি করা হয়েছে।

মামলার শুনানিতে আদালত বারবার উল্লেখ করেছে, প্রতিবেদন প্রকাশের আগে সংবাদপত্রটি ট্রাম্পের বক্তব্য জানার চেষ্টা করেছিল। এমনকি প্রতিবেদনে তাঁর সরাসরি অস্বীকারের কথাও রাখা হয়েছিল। আদালতের মতে, এই বিষয়গুলি থেকে বোঝা যায়, সংবাদপত্রটি সাংবাদিকতার যথাযথ রীতি মেনেই কাজ করেছে।

শনিবার মামলাটি চূড়ান্ত ভাবে খারিজ করেন বিচারক ড্যারিন পি গেইলস। তাঁর বক্তব্য, সংশোধিত অভিযোগপত্রেও ট্রাম্প ‘অ্যাকচুয়াল ম্যালিস’ প্রতিষ্ঠা করার মতো যথেষ্ট যুক্তি তুলে ধরতে পারেননি। মার্কিন আইনে জনপরিচিত ব্যক্তিদের মানহানির মামলা এগিয়ে নিয়ে যেতে এই কঠোর আইনি মানদণ্ড পূরণ করতে হয়। অর্থাৎ, প্রকাশক জেনেশুনে মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করেছেন, অথবা তথ্যের সত্যতা নিয়ে গুরুতর সন্দেহ থাকা সত্ত্বেও তা প্রকাশ করেছেন—এমন অভিযোগের যথেষ্ট ভিত্তি দেখাতে হয়।

রায়ে বলা হয়েছে, “প্রত্যেক বিবাদী ‘অ্যাকচুয়াল ম্যালিস’ নিয়ে মানহানিকর বক্তব্য প্রকাশ করেছেন—প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এমন অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্য ভিত্তি দেখাতে পারেননি। তাই সংশোধিত অভিযোগপত্র খারিজ করতেই হবে। আর যেহেতু নিজের দাবিগুলি প্রতিষ্ঠার জন্য এটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় প্রচেষ্টা, তাই আদালত মনে করছে, পুনরায় একই মামলা দায়েরের সুযোগ না রেখে তা খারিজ করাই যথাযথ।”

হোয়াইট হাউসে থাকাকালীন এবং তার বাইরেও সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে একাধিক বার আইনি পদক্ষেপ করেছেন ট্রাম্প। জার্নালের প্রতিবেদনে যে অশ্লীল আঁকার উল্লেখ ছিল, সেটিকেও জাল বলে দাবি করে এসেছেন তিনি।

রায়ের পর ট্রাম্পের আইনজীবী দলের এক মুখপাত্র বিবৃতিতে বলেন, “ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এবং অন্য সমস্ত বিবাদীর বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর জোরালো মামলা এগিয়ে নিয়ে যাবেন। ভুয়ো খবর ও কুৎসার মাধ্যমে যাঁরা আমেরিকার মানুষকে বিভ্রান্ত করেন, তাঁদের কাজের জন্য জবাবদিহি করানোর চেষ্টা প্রেসিডেন্ট চালিয়ে যাবেন।”

অন্য দিকে, ডাও জোন্সের এক মুখপাত্র বলেন, “আদালতের সিদ্ধান্তে আমরা সন্তুষ্ট।”

জার্নালের প্রতিনিধিরা বিচারকের কাছে মামলা খারিজের আবেদন জানিয়েছিলেন। তাঁদের যুক্তি ছিল, প্রতিবেদনটি নির্ভুল এবং সেটিকে মানহানি হিসেবে গণ্য করার আইনি শর্ত পূরণ হয়নি। তাঁদের বক্তব্য, সাংবাদিকেরা জেনেশুনে কোনও মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করেননি। এমনকি প্রকাশিত তথ্য মিথ্যা হতে পারে—এমন বিশ্বাস নিয়েও তাঁরা প্রতিবেদনটি তৈরি করেননি।

মামলাটি বিশেষ নজর কাড়ে কারণ, বিবাদীদের মধ্যে ছিলেন রুপার্ট মারডকও—সংবাদমাধ্যমের জগতে ট্রাম্পের অন্যতম প্রভাবশালী মিত্র। মারডকের সংবাদমাধ্যম সাম্রাজ্য নিউজ কর্পোরেশনের মালিকানাধীন ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই প্রতিবেদনটি প্রকাশের আগে তা আটকানোর চেষ্টা করে ট্রাম্প নিজেই মারডকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।

প্রতিবেদনটির শিরোনাম ছিল, “পঞ্চাশতম জন্মদিনের অ্যালবামের জন্য জেফ্রি এপস্টিনকে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ চিঠি পাঠিয়েছিলেন তাঁর বন্ধুরা। একটি ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের।”

প্রথমে চিঠিটির ছবি প্রকাশ করেনি জার্নাল। পরে এপস্টিনের সম্পত্তির তত্ত্বাবধায়কদের কাছ থেকে সেটি পাওয়ার পর সেপ্টেম্বরে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের নজরদারি কমিটি ছবিটি প্রকাশ করে।