বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বাইনান্সে প্রায় ৬.৩৪ বিলিয়ন ডলারের ডিজিটাল সম্পদ চুরির ঘটনায় ভুয়া চাকরির ইন্টারভিউ ও ম্যালওয়্যার ব্যবহারের তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। বাইনান্সের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, একাধিক প্রকৌশলীর কম্পিউটার ও অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থায় অনুপ্রবেশের পর হ্যাকাররা ২৯ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানটির হট ওয়ালেট থেকে বিপুল পরিমাণ টোকেন সরিয়ে নেয়।

বাইনান্সের ৩ নভেম্বর প্রকাশিত তদন্ত-আপডেটে বলা হয়েছে, হ্যাকাররা কয়েক মাস ধরে অভিযানটি চালায়। প্রথমে এক প্রকৌশলীর কম্পিউটারে ক্ষতিকর সফটওয়্যার ঢোকানো হয়। পরে আরেক কর্মীকে ভুয়া চাকরির ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে কোডিং-সংক্রান্ত একটি ফাইল ডাউনলোড করানো হয়, যাতে ম্যালওয়্যার ছিল। ওই কম্পিউটার ব্যবহার করে আক্রমণকারীরা বাইনান্সের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা ও কর্মীদের পরিচয়-সংক্রান্ত তথ্য হাতিয়ে নেয়।

বাইনান্সের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর আক্রমণকারীরা একটি অভ্যন্তরীণ এআই টুলকে কাজে লাগিয়ে ওয়ালেট-সংক্রান্ত কর্মীদের কম্পিউটারে পৌঁছায়। পরে চুরি করা পরিচয়-তথ্য ব্যবহার করে ক্ষতিকর কোড চালানো হয়। ২৯ অক্টোবর থেকে একাধিক ব্লকচেইনে বাইনান্সের অনলাইন হট ওয়ালেট থেকে অননুমোদিত লেনদেন শুরু হয়।

কোম্পানির প্রাথমিক হিসাবে, এই ঘটনায় প্রায় ৬.৩৪ বিলিয়ন ডলারের টোকেন সম্পদ প্রভাবিত হয়েছে। বাইনান্স জানিয়েছে, ব্লকচেইন অংশীদার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সহযোগিতায় প্রায় ২.৮৫ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ফ্রিজ বা আটকে দেওয়া হয়েছে। তবে সম্পদের বাজারদর ও হিসাব মিলিয়ে চূড়ান্ত অঙ্কে পরিবর্তন হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই ৩১ অক্টোবরের সাইবার সতর্কতায় এই চুরির জন্য উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করেছে। সংস্থাটি অভিযানের নাম দিয়েছে “ট্রেডারট্রেইটার”। এফবিআইয়ের পর্যবেক্ষণ, চুরি হওয়া সম্পদের বড় অংশ ইথেরিয়ামে রূপান্তর করা হয়েছে এবং পরে তা বিকেন্দ্রীভূত অর্থব্যবস্থা ও দ্রুত ক্রিপ্টো বিনিময় পরিষেবার মাধ্যমে পাচারের চেষ্টা হতে পারে। উত্তর কোরিয়া এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

বাইনান্স বলেছে, চুরি হওয়া অর্থের আর্থিক দায় গ্রাহকদের ওপর চাপানো হবে না; ক্ষতি প্রতিষ্ঠানটি নিজের তহবিল থেকে বহন করবে। ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত টোকেনের ৯৮ শতাংশ পুনরায় পূরণ করা হয়েছে বলে কোম্পানির দাবি। কম লেনদেন হওয়া, সহজে বাজারে না পাওয়া টোকেনগুলোর বাকি অংশ কেনার কাজ চলছে।

এ ঘটনায় বাইনান্সের হট ওয়ালেট ও লেনদেন-অনুমোদন ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, অননুমোদিত অনুমতিগুলো বাতিল করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পূর্ণ তদন্ত শেষে বিস্তারিত প্রযুক্তিগত প্রতিবেদন প্রকাশের কথাও জানিয়েছে তারা।

সূত্র: বাইনান্স, এফবিআই ও রয়টার্স।