বিশ্ব ফুটবলকে চমকে দিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর গ্রহণের ঘোষণা দিলেন পর্তুগালের সর্বকালের সেরা ফুটবলার তথা আধুনিক ফুটবলের অন্যতম প্রধান মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো (Cristiano Ronaldo)। বর্ণাঢ্য এক আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনে সিআর সেভেন (CR7) জানিয়েছেন, দেশের জার্সিতে খেলার সমস্ত লক্ষ্য পূরণ করেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অবসরের ঘোষণা দিতে গিয়ে আবেগঘন কণ্ঠে রোনাল্ডো বলেন, “আমি আমার জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত পরিশ্রম করেছি কেবল বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় হয়ে ওঠার জন্য।”

পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে মাঠ মাতাচ্ছেন এই কিংবদন্তি ফরোয়ার্ড। ২০০৩ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে পর্তুগালের সিনিয়র দলের হয়ে অভিষেক হয়েছিল তাঁর। এরপর থেকে দেশের হয়ে রেকর্ড সংখ্যক ম্যাচ খেলা ছাড়াও একাধিক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থেকেছেন তিনি। ২০১৬ সালে তাঁর নেতৃত্বেই ইউরো কাপ (UEFA Euro) জয় করে পর্তুগাল, যা দেশের ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অর্জন। এছাড়া ২০১৯ সালের উয়েফা নেশনস লিগ (UEFA Nations League) জয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বাধিক গোল করার বিশ্বরেকর্ডও নিজের নামের পাশে মুড়ে রেখেছেন এই ফরোয়ার্ড।

অবসর ঘোষণার পর এক বিশেষ বার্তায় ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো বলেন, “পর্তুগালের জার্সিতে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় গর্ব ও সম্মানের বিষয় ছিল। আমি আমার দেশের জন্য আমার সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছি। ফুটবলকে আমি আমার জীবন দিয়েছি, আর বিনিময়ে যা পেয়েছি তা কল্পনারও অতীত। আজ আমি আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানাচ্ছি, কিন্তু আমার দেশের প্রতি ভালোবাসা ও পর্তুগিজ ফুটবল দলের প্রতি সমর্থন চিরকাল অটুট থাকবে।”

ফুটবল বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রোনাল্ডোর এই অবসরের মধ্য দিয়ে বিশ্ব ফুটবলের একটি বর্ণাঢ্য স্বর্ণযুগের অবসান ঘটল। যদিও ক্লাব ফুটবলে তিনি আরও কিছুদিন খেলা চালিয়ে যাবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট করে কিছু জানাননি তিনি। তবে আন্তর্জাতিক আঙিনায় তাঁর এই প্রস্থান কোটি কোটি ভক্তকে নস্টালজিক করে তুলেছে এবং বিশ্বজুড়ে স্রেফ ফুটবলপ্রেমীরা তাঁকে অভিবাদন জানাচ্ছেন।