টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর ঘোষণা করলেন মহম্মদ শামি। ২০১৩ সালের ৬ নভেম্বর ইডেন গার্ডেন্সে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল তাঁর। ৬৪টি ম্যাচে ২৭.৭১ গড়ে ২২৯টি উইকেট নিয়ে শেষ হল ভারতীয় পেসারের টেস্টজীবন।
অবসরের কথা জানিয়ে শামি লিখেছেন, “টেস্ট ক্রিকেট আমার কাছে শুধু একটা ফরম্যাট ছিল না, ছিল আমার জীবনের অত্যন্ত বিশেষ একটা অংশ। আজ ভারাক্রান্ত মন আর অগণিত সুন্দর স্মৃতি সঙ্গে নিয়ে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছি।”
সতীর্থ, কোচ, পরিবার এবং সুসময় ও কঠিন সময়ে পাশে থাকা লক্ষ লক্ষ ভারতীয়কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন শামি। তাঁর প্রতিভায় আস্থা রাখা এবং সুযোগ দেওয়ার জন্য ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বা বিসিসিআই এবং ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল বা সিএবি-র প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি।
শামি লিখেছেন, “টেস্ট ক্রিকেটে আমার শেষ বল হয়তো ইতিমধ্যেই করা হয়ে গিয়েছে। কিন্তু ভারতের হয়ে খেলার গর্ব আমার হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবে।” বিদায়বার্তার শেষে তাঁর সংক্ষিপ্ত নিবেদন—“শুক্রিয়া, টেস্ট ক্রিকেট।” অর্থাৎ, “ধন্যবাদ, টেস্ট ক্রিকেট।”
কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সেই শুরু হয়েছিল শামির টেস্টযাত্রা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে অভিষেকেই নিজের জাত চিনিয়েছিলেন তিনি। দুই ইনিংস মিলিয়ে ১১৮ রানে ৯ উইকেট নিয়েছিলেন। ভারত সেই ম্যাচ জিতেছিল এক ইনিংস ও ৫১ রানে।
পরবর্তী বছরগুলিতে ভারতের পেস আক্রমণের অন্যতম প্রধান ভরসা হয়ে ওঠেন শামি। দেশের মাঠে এবং বিদেশে ধারাবাহিকভাবে সাফল্য পেয়েছেন। টেস্টে ছ’বার এক ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন তিনি। তাঁর ক্রিকেটজীবনের অন্যতম উজ্জ্বল অধ্যায় ২০১৮–১৯ মরসুমের অস্ট্রেলিয়া সফর। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম বার টেস্ট সিরিজ জেতা ভারতীয় দলের সদস্য ছিলেন শামি।
গতির পাশাপাশি পিচে পড়ার পরে বলের দিক পরিবর্তন করানোর দক্ষতার জন্য পরিচিত ছিলেন তিনি। পুরনো বলেও ছিলেন বিশেষ কার্যকর। রিভার্স সুইংয়ে ব্যাটসম্যানদের সমস্যায় ফেলে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট এনে দিয়েছেন দলকে। বলকে দু’দিকেই সুইং করানো, নিখুঁত লাইন-লেংথ বজায় রাখা এবং সিমের দক্ষ ব্যবহার—এই গুণগুলি তাঁকে বিভিন্ন পরিবেশ ও পরিস্থিতিতে ভারতের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ফাস্ট বোলার করে তুলেছিল।
টেস্টজীবন শেষ হলেও সাদা বলের ক্রিকেটে শামির খেলা চালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ১৪ নভেম্বর শুরু হতে চলা ২০২৬–২৭ মরসুমের সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফির জন্য বাংলার দলে তাঁর নাম রয়েছে।
পাঠকের মন্তব্য ০
শালীন ও বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করুন। মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ হবে।
এই প্রতিবেদনে নতুন মন্তব্য গ্রহণ বন্ধ রয়েছে।
এখনও কোনো অনুমোদিত মন্তব্য নেই।