দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে বিরোধী ‘ইন্ডি’ (INDIA) জোটের ডাকা অভূতপূর্ব মেগা সমাবেশ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে তীব্রতম রাজনৈতিক আক্রমণ শানালেন সর্বভারতীয় কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। দেশের গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোর অবনতি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলির ওপর প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে অনাস্থার প্রশ্নে আয়োজিত এই জনসভা থেকে খাড়গে স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেন, "দেশের সংবিধান ও গণতন্ত্রকে যদি টিকিয়ে রাখতে হয়, তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ক্ষমতা থেকে বিদায় নেওয়া বাধ্যতামূলক।"

“মোদী হটাও, গণতন্ত্র বাঁচাও”— রামলীলার মঞ্চে গর্জন খাড়গের

রামলীলা ময়দানে জড়ো হওয়া দেশজুড়ে লক্ষাধিক সমর্থকের সামনে দাঁড়িয়ে কংগ্রেস প্রধান সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে নিশানায় নিয়ে এসে ‘মোদী হটাও, গণতন্ত্র বাঁচাও’ স্লোগান তোলেন। সনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অখিলেশ যাদব, তেজস্বী যাদব ও কপিল সিব্বলদের উপস্থিতিতে খাড়গে অভিযোগ করেন যে, বিজেপি সরকার টানা এক দশক ধরে পরিকল্পিতভাবে ভারতের প্রতিটি মৌলিক সাংবিধানিক অধিকারকে খর্ব করে চলেছে।

তিনি বলেন, "আজ আমাদের একত্রিত হতে হয়েছে কোনো ব্যক্তিগত লড়াইয়ের জন্য নয়, বরং এই দেশের ১৪০ কোটি মানুষের ভোটাধিকার এবং স্বাধীন গণতান্ত্রিক পরিবেশকে বাঁচানোর জন্য। নরেন্দ্র মোদী এবং তাঁর সরকার যেভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে ব্যবহার করে সমস্ত বিরোধী কণ্ঠকে স্তব্ধ করতে চাইছে, তাতে দেশ আজ এক গভীর সঙ্কটের মুখে।"

স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা

বক্তব্যের একটি বড় অংশ জুড়ে নির্বাচন কমিশন ও দেশের অন্যান্য স্বাধীন তদন্তকারী সংস্থাসমূহের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মল্লিকার্জুন খাড়গে। তিনি অভিযোগ করেন যে, নিরপেক্ষ সংস্থা হিসেবে কাজ করার কথা থাকলেও বর্তমান নির্বাচন কমিশন সরকারের নির্দেশমতো পরিচালিত হচ্ছে এবং বিরোধী দলগুলির অভিযোগ শোনার ন্যূনতম সদিচ্ছা দেখাচ্ছে না।

খাড়গে মন্তব্য করেন, "আমরা যখনই নির্বাচন কমিশনের কাছে ভোটিং মেশিনের অনিয়ম বা ভোটার তালিকায় নাম বাদ পড়ার মতো গুরুতর অভিযোগ নিয়ে যাই, কমিশন তার নিরপেক্ষ অবস্থান ভুলে ক্ষমতাসীন দলের মুখপাত্রের মতো আচরণ করে। এই আচরণ স্বৈরাচারী মনোভাবেরই স্পষ্ট লক্ষণ।"

অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও বেকারত্ব নিয়ে কেন্দ্রকে তোপ

রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক আক্রমণের পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং দৈনন্দিন জীবনের দুর্গতি নিয়েও মোদী সরকারকে চেপে ধরেন খাড়গে। তিনি বলেন, বিজেপি সরকার সাধারণ মানুষের মূল সমস্যার থেকে নজর ঘোরাতে সবসময় বিভাজনের রাজনীতি লালন করে।

  • বেকারত্ব ও কর্মসংস্থানের ঘাটতি: দেশের কোটি কোটি শিক্ষিত যুবক চাকরি না পেয়ে দিশেহারা, অথচ সরকার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে সম্পূর্ণ উদাসীন।

  • নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারদর: চাল, ডাল, তেল ও জ্বালানির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ পরিবারের নাভিশ্বাস উঠেছে।

  • ভোট ব্যাংক ও অলিক আশ্বাস: জনগণের পেটে লাথি মেরে এবং মৌলিক চাহিদাগুলি মেটাতে ব্যর্থ হয়ে বিজেপি এখন কেবল ভোটে জেতার জন্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে অপব্যবহার করছে।

বক্তব্যের শেষে কংগ্রেস সভাপতি উপস্থিত হাজার হাজার কর্মীকে গ্রাম ও শহর স্তরে গিয়ে মোদী সরকারের এই ব্যর্থতা ও অরাজকতার কথা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান এবং দেশের গণতন্ত্র পুনপ্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।