দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে বিরোধী ‘ইন্ডি’ (INDIA) জোটের মেগা সমাবেশ এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তাদের শক্তিপ্রদর্শনের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিরোধী শিবিরকে একহাত নিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিরোধী দলগুলির এই আন্দোলনকে নেতিবাচক ও জনকল্যাণবিরোধী রাজনীতি আখ্যা দিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, কংগ্রেস ও তাদের শরিকদের এই ধরনের হঠকারী কর্মকাণ্ড তাদের আরও দীর্ঘ সময় অর্থাৎ আগামী অন্তত পাঁচ বছর সংসদের বিরোধী আসনেই আটকে রাখবে।

“মক পার্লামেন্টেই থাকুন, প্রধানমন্ত্রী হওয়া হবে না”— রাহুল গান্ধীকে কটাক্ষ শাহের

চণ্ডীগড়ে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও বিরোধী জোটের উচ্চাশার তীব্র সমালোচনা করেন অমিত শাহ। সোনিয়া গান্ধীর পুত্রকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখার রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে বিদ্রূপ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "আপনি যদি দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখে থাকেন, তবে জীবনভর কেবল ‘মক পার্লামেন্টেই’ (Mock Parliament) বসে থাকুন— বাস্তব রাজনীতিতে আপনার সেই স্বপ্ন কোনোদিনই পূরণ হবে না।" তিনি আরও বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা চায়, আর বিরোধীরা কেবল বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

“১ নভেম্বরের শিখ দাঙ্গার দিনে সমাবেশ আসলে ক্ষতে নুন ছিটানো”

রামলীলা ময়দানে ১ নভেম্বরের দিনে এই রাজনৈতিক সমাবেশের আয়োজন করার তীব্র নিন্দা জানান অমিত শাহ। ১৯৮৪ সালের ১ নভেম্বরের শিখবিরোধী দাঙ্গার রক্তাক্ত ও কালো অধ্যায়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, সেই করুণ স্মৃতির দিনটিতে এমন রাজনৈতিক জমায়েত করা মানে সরাসরি নিহতদের পরিবার ও ভুক্তভোগীদের আত্মত্যাগের প্রতি অবমাননা করা এবং তাদের ক্ষতে নতুন করে নুন ছিটানো। কংগ্রেস কখনোই এই ঐতিহাসিক পাপ বা অপরাধের দায় এড়াতে পারে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। নরেন্দ্র মোদী সরকারের আমলে কীভাবে শিখ দাঙ্গার অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়েছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলিকে ন্যায়বিচার দেওয়া হয়েছে, সে কথাও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

কর্মসংস্থান ও জনগণের দৈনন্দিন জীবনের ব্যর্থতা নিয়ে বিরোধী তোপের পাল্টা জবাব

সাম্প্রতিক সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের ঘাটতি নিয়ে বিরোধী দলগুলি যে বারবার মোদী সরকারকে আক্রমণ করছে, তারও কড়া জবাব দিয়েছেন অমিত শাহ। তাঁর দাবি, এনডিএ সরকারের সুদৃঢ় অর্থনৈতিক নীতির ফলেই দেশ আজ আত্মনির্ভরতার পথে এগোচ্ছে এবং প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক চাহিদা পূরণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। উলটো দিকে, বিরোধীদের কাছে দেশের উন্নয়নের কোনো ইতিবাচক রূপরেখা নেই বলেই তারা আজ নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় তুলে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে।