দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে আয়োজিত বিরোধী ‘ইন্ডি’ (INDIA) জোটের মেগা সমাবেশ থেকে কেন্দ্র সরকার ও বিজেপিকে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষায় নিশানা করলেন দেশের প্রবীণ আইনজীবী তথা রাজ্যসভার সাংসদ কপিল সিব্বল। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নরেন্দ্র মোদী সরকারের পতনঘণ্টা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেন যে, স্বৈরাচারী ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের এই রাজনীতির দিন ফুরিয়ে এসেছে এবং এটিই বর্তমান শাসক দলের ‘পতনের সূচনার শুরু’ (Beginning of the end)।
সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস ও গণতন্ত্রের গলা টিপে ধরার অভিযোগ
রামলীলা ময়দানের সুবিশাল জনসভার মঞ্চে দাঁড়িয়ে কপিল সিব্বল অভিযোগ করেন যে, গত এক দশকে পরিকল্পিতভাবে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে দুর্বল করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনসহ সমস্ত স্বাধীন সংস্থাকে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, স্বাধীন ভারতে এত বড় পরিসরে নিরপেক্ষতার সঙ্গে আপস করার নজির বিরল। দেশের সংবিধান এবং সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার রক্ষায় বিরোধী দলগুলির এই সম্মিলিত প্রতিরোধই প্রমাণ করে যে জনগণ এবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
“ক্ষমতার অপব্যবহারের দিন শেষ হচ্ছে”
মোদী সরকারকে সরাসরি সতর্ক করে কপিল সিব্বল বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে চিরকাল দেশ চালানো যায় না। দেশের সাধারণ মানুষ মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব ও নিত্যদিনের সংগ্রাম থেকে মুক্তি চায়, অথচ সরকার জনকল্যাণে ব্যর্থ হয়ে কেবল রাজনৈতিক দমনপীড়ন চালাচ্ছে। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, রামলীলা ময়দানের এই জনসমুদ্রই বলে দিচ্ছে যে দেশের মানুষ পরিবর্তন চাইছে এবং এই সরকারের অবসান এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা মাত্র।
পাঠকের মন্তব্য ০
শালীন ও বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করুন। মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ হবে।
মন্তব্য করতে আপনার বাংলাস্ফিয়ার অ্যাকাউন্টে লগইন করুন। সদস্যতা কেনার প্রয়োজন নেই।
এখনও কোনো অনুমোদিত মন্তব্য নেই।