বিজয়া দশমীতে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের ‘রেজিম চেঞ্জ’ (সরকার বদল) তত্ত্ব, অরুণাচল সীমান্তে চিনা অনুপ্রবেশ আর মার্কিন বিদেশ সচিবের ভারত সফর— এই তিন ইস্যুতে এবার কেন্দ্রকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন প্রবীণ আইনজীবী ও রাজ্যসভার সাংসদ কপিল সিব্বল। সাংবাদিক বৈঠক করে রীতিমতো তোপ দাগলেন কেন্দ্র ও সংঘ পরিবারের বিরুদ্ধে।
আরএসএস-এর 'দুমুখো নীতি' নিয়ে কটাক্ষ
দশমীর ভাষণে মোহন ভাগবত দাবি করেছিলেন, দেশের যুবসমাজের একাংশ নাকি 'রেজিম চেঞ্জ' বা অগণতান্ত্রিকভাবে সরকার বদল চাইছে। তুলনা টেনেছিলেন বাংলাদেশ, নেপাল আর ফ্রান্সের সঙ্গে। এর কড়া জবাব দিয়ে সিব্বলের পাল্টা তোপ, "ভারতের যুবসমাজ রাস্তায় নেমে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়েই ক্ষমতার বদল চাইছে, কোনো হিংসার পথে নয়।"
সিব্বল মনে করিয়ে দিয়েছেন, ২০১১ সালে আন্না হাজারে বা অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আন্দোলনের সময় এই আরএসএস-ই তো পিছন থেকে মদত জুগিয়েছিল। তখন তো এই ‘রেজিম চেঞ্জ’ তাদের কাছে খারাপ মনে হয়নি! সিব্বলের কটাক্ষ, আরএসএস এখন বর্তমান সরকারের সুবিধাভোগী, তাই সরকার বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করলেও তারা অন্ধের মতো সব জেনেও চুপ করে আছে।
চিনা অনুপ্রবেশ আর ইউটিউব থেকে ভিডিও গায়েব!
বাদ যায়নি জাতীয় নিরাপত্তার ইস্যুও। সম্প্রতি আইটিবিপি (ITBP)-র ডিরেক্টর জেনারেল অরুণাচল সীমান্তে চিনা বাহিনীর অনুপ্রবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। সিব্বলের অভিযোগ, সরকার নিজেদের মুখ বাঁচাতে সেই ভিডিওটিই ইউটিউব থেকে গায়েব করে দিয়েছে। সরকারকে সরাসরি নিশানা করে তাঁর তোপ, "ইউটিউব থেকে ভিডিও সরিয়ে দিতে পারেন, কিন্তু দেশের মাটি থেকে চিনা অনুপ্রবেশকারীদের সরাতে পারবেন কি?" লাদাখ ও অরুণাচলে চিনা আগ্রাসন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর 'চুপ' থাকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
মার্কিন দূতের প্রটোকল ভাঙা নিয়ে ক্ষোভ
মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিওর সাম্প্রতিক ভারত সফর নিয়েও মারাত্মক ক্ষুব্ধ সিব্বল। রুবিও প্রটোকল ভেঙে দিল্লি না গিয়ে সোজা মুম্বই আর গুজরাটের জামনগরে গিয়ে মুকেশ আম্বানির সঙ্গে দেখা করেন। আর সেখানেই টেক্সাসে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের শোধনাগার চুক্তির ঘোষণা করে দেন। সিব্বলের প্রশ্ন, প্রধানমন্ত্রী বা বিদেশমন্ত্রীর উপস্থিতি ছাড়াই একজন শীর্ষ মার্কিন প্রতিনিধি কীভাবে সোজা কর্পোরেট চুক্তি ঘোষণা করেন? ইউপিএ আমলের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, সেসময় এই ধরনের আন্তর্জাতিক চুক্তি সবসময় প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতেই হতো। এটা দেশের বিদেশনীতি ও সার্বভৌমত্বের জন্য রীতিমতো অপমানজনক।
বিরোধীদের দমাতে এফআইআর রাজনীতি
সরকারের বিরুদ্ধে পথে নামা ছাত্র-যুবক এবং আন্দোলনকারীদের দমাতে পুলিশের ভূমিকারও কড়া নিন্দা করেছেন প্রবীণ এই সাংসদ। আন্দোলনকারীদের জোর করে 'পিস বন্ড' সই করানো আর বিরোধীদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন এফআইআর (FIR) দায়ের করার তীব্র প্রতিবাদ করেন সিব্বল। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ ইচ্ছে করে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের নামে এফআইআর করে রাখছে, যাতে পরে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে বিরোধীদের নাম তাতে জুড়ে দেওয়া যায়।
সবশেষে সিব্বলের সংযোজন, সরকার যতই ভয় দেখানোর চেষ্টা করুক না কেন, দেশের সাধারণ মানুষ আর বিচারব্যবস্থার ওপর তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে যে, গণতন্ত্র ঠিকই তার নিজের ট্র্যাকে ফিরবে।
কপিল সিব্বলের সম্পূর্ণ সাংবাদিক বৈঠকের লাইভ সম্প্রচার https://www.youtube.com/watch?v=5SlqV429G9c