বাংলাস্ফিয়ারঃ ভারতে গণতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচিত সরকারকে কী ভাবে উৎখাত করা যায়, জর্জ সোরোসের সঙ্গে যুক্ত একটি সংস্থার কাছ থেকে সেই বিষয়ে পরামর্শ নিতেই বিদেশে গিয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। বুধবার এমনই অভিযোগ করল বিজেপি।
এক সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র তথা সাংসদ সম্বিত পাত্র বলেন, “ওদের পাণ্ডা রাহুল গান্ধী বিদেশে গিয়েছেন। ভারতকে কী ভাবে ধ্বংস করতে হয়, কী ভাবে সরকারকে উৎখাত করতে হয় এবং কী ভাবে শাসন পরিবর্তন ঘটাতে হয়, তা শিখতে তিনি সোরোসের সংস্থার কোচিং ক্লাসে যোগ দিতে গিয়েছেন।”
শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা সঞ্জয় রাউতের একটি এক্স পোস্টেরও উল্লেখ করেন পাত্র। ওই পোস্টে আলবেনিয়ার পার্লামেন্টে আগুন জ্বলার ছবি ছিল।
বিজেপি মুখপাত্র বলেন, “তিনি আলবেনিয়ার পার্লামেন্টে আগুন জ্বলার ছবি দেখিয়ে ভারতে একই ধরনের ঘটনা ঘটানোর ভাবনাকে সমর্থন করার চেষ্টা করেছেন। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট, হাই কোর্ট এবং সংসদে আগুন জ্বলুক—এটাই ছিল সঞ্জয় রাউতের বক্তব্য। তিনি এ-ও বলেছেন, রাহুল গান্ধী বিদেশে গিয়েছেন এবং তিনি ফিরে এলে কী হয়, তা মানুষ দেখতে পাবেন।”
পাত্র বলেন, “ভারতের শত্রু কারা? ভারতের শত্রু সেই ব্যক্তি, যিনি এ দেশে গণতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচিত সরকারকে কী ভাবে সরাতে হবে, কী ভাবে আগুন লাগাতে হবে, কী ভাবে হিংসায় উসকানি দিতে হবে, কী ভাবে সংসদ পুড়িয়ে দিতে হবে, কী ভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে দেওয়া যাবে না এবং কী ভাবে দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে ভেঙে দিতে হবে—সে সবের নির্দেশ নিতে বিদেশে যান।”
তিনি আরও বলেন, “ভারতের শত্রু কারা? ভারতের শত্রু সেই ব্যক্তি, যিনি বলেন বাংলাদেশ আমাদের পথ দেখিয়েছে। ওঁরা বলেন, বাংলাদেশ অনুপ্রেরণার উৎস, কারণ সেখানকার মানুষ ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে কী ভাবে লড়তে হয়, তা আমাদের দেখিয়েছেন। ভারত কোনও ধর্মীয় মৌলবাদী রাষ্ট্র নয়।”
বিজেপির আরও অভিযোগ, কংগ্রেস নতুন দফার বিক্ষোভের জন্য ১ নভেম্বর দিনটি বেছে নিয়েছে, কারণ ওই দিনই ভারতে শিখবিরোধী দাঙ্গা শুরু হয়েছিল।
ব্যারিকেড ভেঙে যন্তর মন্তরে ঢোকার অভিযোগে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতাদের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানো নিয়েও মন্তব্য করেন বিজেপি মুখপাত্র। তাঁর দাবি, আদালতেই সিজেপির অভিসন্ধি প্রকাশ হয়ে গিয়েছে।
পাত্রের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার এতটাই স্বৈরাচারী যে মানুষকে জাতীয় পতাকা ওড়াতেও বাধা দিচ্ছে—এমন একটি ধারণা তৈরি করার চেষ্টা হয়েছে।
বিজেপি সাংসদ বলেন, “আজ আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাসের বিচারবিভাগীয় হেফাজত নিয়ে শুনানির সময়ে দিল্লি হাই কোর্ট কী কী প্রশ্ন করেছে, তা আমরা দেখেছি। তাঁদের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের সঙ্গে তেরঙ্গার কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁরা যে শান্তিরক্ষার মুচলেকায় সই করেছিলেন, তার শর্ত পালন না করার ফলেই তাঁদের হেফাজতে যেতে হয়েছে।”
তিনি বলেন, “প্রথম বার আটক হওয়ার পরে তাঁরা শান্তিরক্ষার মুচলেকায় সই করেছিলেন। তাতে তাঁরা অঙ্গীকার করেছিলেন এবং নিশ্চয়তা দিয়েছিলেন যে মুক্তি পাওয়ার পরে এমন কোনও কাজে যুক্ত হবেন না, যা জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে পারে কিংবা দেশের শান্তি বিপন্ন করতে পারে। কিন্তু মুক্তি পাওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁরা সেই মুচলেকার শর্ত ভেঙেছেন।”
দিল্লি হাই কোর্টের একটি পর্যবেক্ষণ উল্লেখ করে পাত্র বলেন, প্রথমে বিক্ষোভের বিষয়টি অন্য ছিল।
তাঁর অভিযোগ, “এখন বিষয় বদলে গিয়েছে, কিন্তু আন্দোলনে যুক্ত ব্যক্তিরা একই রয়েছেন। এর থেকে বোঝা যায়, একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে একই ব্যক্তিদের মদতে সারা দেশে আন্দোলন চালানো হচ্ছে।”
বিজেপি নেতা বলেন, “নৈরাজ্য সৃষ্টির জন্য জাতীয় পতাকাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন না। ভারতের জাতীয় পতাকার আড়ালে সারা দেশে বিশৃঙ্খলা ছড়ালে আইন থেকে রেহাই পাওয়ার অধিকার সেই পতাকা আপনাকে দেয় না।”