ছাত্র ইউনিয়নের (Students' Union) পুনরুজ্জীবনের দাবিতে চলমান আন্দোলনের মাঝেই কড়া পদক্ষেপ নিল দিল্লির জামিয়া মিল্লিয়া ইসলামিয়া (Jamia Millia Islamia) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ক্যাম্পাসের বর্তমান পরিস্থিতি ও নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছে যে, পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত সমস্ত কোর্সের ক্লাস সম্পূর্ণভাবে অনলাইন মোডে পরিচালিত হবে।
গত ১২ অক্টোবর থেকে জামিয়ার শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ছাত্র সংসদ ফেরানোর দাবিতে লাগাতার আন্দোলন ও বিক্ষোভ চালিয়ে আসছেন। এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন ধরেই ক্যাম্পাস চত্বরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছে যে, ছাত্রছাত্রীদের সুরক্ষা এবং নিরাপত্তার কথা চিন্তা করেই এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ক্লাসের লিজ পাতা অনলাইনে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সমস্ত বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের অবিলম্বে অনলাইন ক্লাসের রুটিন মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আলোচনার মাঝেই হামলার অভিযোগ:
অন্যদিকে, প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন আইসা (AISA)। সংগঠনের অভিযোগ, প্রশাসনের সঙ্গে যখন ছাত্র প্রতিনিধিদের কথাবার্তা বা আলোচনা চলছে, ঠিক সেই সময়ই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
আইসার এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, "অনশনকারী এবং বিক্ষোভের স্থানটিতে আক্রমণ চালানো হচ্ছে। এটি জামিয়া প্রশাসনের সবচেয়ে নিষ্ঠুর রূপটিকে উন্মোচন করেছে। শুধু তাই নয়, পরিস্থিতি এড়ানোর নামে বিশ্ববিদ্যালয়কে জোর করে অনলাইনে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।"
আন্দোলনকারী এক শিক্ষার্থী সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "ওরা আমাদের পুরো প্রটেস্ট সাইট বা আন্দোলনের জায়গাটি তুলে দিতে চাইছে এবং জোর করে আমাদের ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। ক্যাম্পাসের ভেতরে একটি হিংসাত্মক পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। কিন্তু আমরা আমাদের দাবিতে অনড় রয়েছি। আমরা শুধু আমাদের ছাত্র সংসদ ফেরত চাই।"
প্রসঙ্গত, ২০০৬ সালে জামিয়া মিল্লিয়া ইসলামিয়াতে ছাত্র সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর সেই সংসদ পুনরুদ্ধারের দাবিতেই ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন শিক্ষার্থীরা। সাম্প্রতিককালে বিক্ষোভ চলাকালীন ক্যাম্পাসে কিছু বিতর্কিত স্লোগান ওঠাকে কেন্দ্র করেও রাজনৈতিক পারদ চড়েছিল, যদিও প্রতিবাদী শিক্ষার্থীরা এই ঘটনার সঙ্গে নিজেদের কোনো যোগ নেই বলেই সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। সবমিলিয়ে, ক্লাস অনলাইনে স্থানান্তরিত হওয়ার পর জামিয়ার পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।