২০১৮ সালের একটি ফৌজদারি মানহানির মামলায় জনপ্রিয় ইউটিউবার ও বিষয়বস্তু নির্মাতাগণ (content creator) ধ্রুব রাঠীর বিরুদ্ধে নতুন করে জামিনযোগ্য পরোয়ানা (bailable warrant) জারি করল দিল্লির সাকেত আদালত। প্রশাসনিক ও কৌশলগত বিভ্রাটের কারণে আদালতের আগের পাঠানো পরোয়ানাটি ভুলবশত অস্ট্রিয়ার ঠিকানায় চলে যাওয়ায় তা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। মামলাটির জটিলতা বিবেচনা করে সাকেত আদালতের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাহুল জৈন সরাসরি রাঠীর হরিয়ানার গুরুগ্রামের ঠিকানায় নতুন পরোয়ানা পাঠাবার নির্দেশ প্রদান করেছেন। আদালতের পরবর্তী শুনানির তারিখ ধার্য করা হয়েছে আগামী ২৩ নভেম্বর।

মামলার নথি ও প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে জানা যায়, ২০১৮ সালের মে মাসে ‘আই সাপোর্ট নরেন্দ্র মোদী’ নামক ফেসবুক পেজের প্রতিষ্ঠাতা এবং রাজনৈতিক স্বেচ্ছাসেবী বিকাশ সংকৃত্যায়ন ওরফে বিকাশ পাণ্ডে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মানহানির অভিযোগ তুলে মামলা দায়ের করেন। ধ্রুবর ইউটিউব চ্যানেলে প্রচারিত ‘বিজেপি আইটি সেল পার্ট ২’ শিরোনামের একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করেই এই বিবাদের সূত্রপাত। ওই ভিডিওতে ধ্রুব দাবি করেছিলেন, বিকাশ পাণ্ডে বিজেপির আইটি সেলের অন্যতম দ্বিতীয় শীর্ষ ব্যক্তিত্ব এবং সামাজিক মাধ্যমে ভুয়া খবর ছড়ানোর অভিযোগ তুলে নিতে মহাবীর প্রসাদ নামক এক ব্যক্তিকে ৫০ লক্ষ টাকা ঘুষ সাধার চেষ্টা করেছিলেন। বিকাশের অভিযোগ, এই সমস্ত দাবি সম্পূর্ণ ভিভিওতে তৈরি বানোয়াট সত্য এবং এর দরুন জনসমক্ষে তাঁর মারাত্মক সামাজিক সম্মানহানি ঘটেছে। এই একই ঘটনায় উক্ত ভিডিওটি পুনঃশেয়ার (retweet) করার কারণে পরবর্তীতে দিল্লির তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকেও সুপ্রিম কোর্টে দুঃখপ্রকাশ করে ক্ষমা চাইতে হয়েছিল।

ঘটনার পর থেকে ধ্রুব রাঠী দীর্ঘ দিন ধরে বিদেশে (অস্ট্রিয়া ও লন্ডন) অবস্থান করার দরুন ২০১৯ সালের প্রথম সমন ও পরবর্তী আইনি নথি আদান-প্রদানে ধারাবাহিক বিলম্ব ঘটে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচন কমিশনের সংস্কার ও ভোটার তালিকা সংক্রান্ত ইস্যুতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-সহ একাধিক যুব ও ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিতে যোগ দিতে ধ্রুব ভারতে আসেন। সেই খবর প্রকাশ্যে আসতেই অভিযোগকারীর আইনজীবী আদালতে জরুরি আবেদন জানালে মামলাটি পুনরায় আইনি গতি পায়। যদিও দিল্লির যন্তর মন্তরের বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেওয়ার আগেই পুলিশের হাতে আটক এবং পরবর্তীকালে মুক্তি পেয়ে ধ্রুব পুনরায় দেশের বাইরে চলে গিয়েছেন। গুরুগ্রামের বাসভবন তালাবন্ধ থাকায় পূর্বে ব্যক্তিগত হস্তান্তরের নির্দেশ ('দস্তি' সমন) ব্যর্থ হলেও এবার সরাসরি গুরুগ্রামের ঠিকানায় পুনরায় জামিনযোগ্য পরোয়ানা কার্যকর করে রিপোর্ট পেশের নির্দেশ জারি করেছে দিল্লি আদালত।