‘ভোট চুরি’ নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগের জবাবে সংসদে বিশেষ অধিবেশন ডাকার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর দাবি, এই বিষয়ে সংসদে আলোচনা করতে প্রস্তুত বিজেপি। তবে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সেই আলোচনায় রাজি হবেন না বলেই কটাক্ষ শাহের। একই সঙ্গে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবকেও সংসদে এসে অভিযোগের জবাব দেওয়ার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ে বিজেপির রাজ্য কার্যসমিতির বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন শাহ। আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের রণকৌশল নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি বিরোধীদের আক্রমণেও সরব হন তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলি যে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে, সেই প্রসঙ্গেই বিশেষ অধিবেশনের কথা বলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

শাহের বক্তব্য, বিরোধীরা যদি সত্যিই ‘ভোট চুরি’ নিয়ে আলোচনা করতে চান, তা হলে সংসদে এসে প্রতিটি অভিযোগ নিয়ে বিতর্কে অংশ নেওয়া উচিত। রাহুল ও অখিলেশকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি ভিত্তিহীন। তাঁর অভিযোগ, বিরোধীরা সংসদের ভিতরে আলোচনা না করে রাস্তায় আন্দোলন করতেই বেশি আগ্রহী।

নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বিতর্ক

নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সাম্প্রতিক সময়ে সরব হয়েছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী শিবির। এই আবহেই কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে সংসদে আলোচনার দাবি এবং পাল্টা চ্যালেঞ্জকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা নতুন মাত্রা পেয়েছে।

বিরোধী জোটের তরফে শুক্রবার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে একটি প্রতীকী ‘জন মহাভিযোগ’ কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে দিল্লিতে বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কর্মসূচিটি শনিবারে পিছিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি, রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে বড় সমাবেশেরও ডাক দিয়েছে বিরোধী জোট।

উত্তরপ্রদেশেও বিরোধীদের নিশানা

লখনউয়ের বৈঠকে উত্তরপ্রদেশের রাজনীতি নিয়েও মন্তব্য করেন শাহ। অখিলেশ যাদবের নেতৃত্বাধীন সমাজবাদী পার্টিকে আক্রমণ করে তাঁর দাবি, আগামী ৩০ বছরেও উত্তরপ্রদেশে ক্ষমতায় ফিরতে পারবে না সমাজবাদী পার্টি। বিজেপির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন তিনি।

ভোট চুরির অভিযোগকে কটাক্ষ করে শাহ ক্রিকেটের উদাহরণ টেনে বলেন, ম্যাচ হেরে আম্পায়ারকে দোষ দেওয়ার মতো আচরণ করছেন বিরোধীরা। তাঁর এই মন্তব্য এবং বিশেষ অধিবেশন ডাকার চ্যালেঞ্জ ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সব মিলিয়ে, ‘ভোট চুরি’ বিতর্কে অমিত শাহের বিশেষ সংসদীয় অধিবেশন ডাকার চ্যালেঞ্জ রাজনৈতিক চাপানউতরকে আরও বাড়িয়ে দিল। একদিকে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে বিরোধীদের প্রশ্ন, অন্যদিকে সেই অভিযোগের জবাব সংসদে দেওয়ার জন্য বিজেপির পাল্টা আহ্বান—দুইয়ের সংঘাতে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। এখন দেখার, শাহের এই চ্যালেঞ্জের জবাবে রাহুল গান্ধী ও বিরোধী শিবির কী অবস্থান নেয়।